একাত্তরে সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মুহাম্মদ কামারুজ্জামানের ফাঁসির রায় দিয়েছেন বাংলাদেশের আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল । বৃহস্পতিবার সকালে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল ২ এর চেয়ারম্যান বিচারপতি ওবায়দুল হাসানের নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের ট্রাইব্যুনাল এ রায় দেন। বিরুদ্ধে মুক্তিযুদ্ধকালে হত্যা, গণহত্যা, নির্যাতন, অপহরণসহ মানবতাবিরোধী অপরাধের ৫টি অভিযোগ সুনির্দিষ্টভাবে প্রমাণিত হয়েছে। এর মধ্যে ৩ ও ৪ নম্বর অভিযোগের ভিত্তিতেই তাকে মৃত্যুদণ্ড দেয়া হয়েছে ।

গত ২০১০ সালে মানবতাবিরোধী অপরাধের তদন্তের মধ্য দিয়ে কামারুজ্জামানকে বিচারের আওতায় আনা হয়। আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল তার বিরুদ্ধে ৭টি ঘটনায় অভিযোগ গঠন করে। ২০১২ সালের ১৫ জুলাই থেকে এ বছরের ২০ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত কামারুজ্জামানের বিরুদ্ধে এ মামলার তদন্ত কর্মকর্তা আব্দুর রাজ্জাক খানসহ রাষ্ট্রপক্ষের মোট ১৮ জন সাক্ষী সাক্ষ্য দেন।

রাষ্ট্রপক্ষের সাক্ষ্য শেষে কামারুজ্জামানের পক্ষে সাফাই স্বাক্ষী হিসেবে গত ৬ থেকে ২৪ মার্চ পর্যন্ত মোট পাঁচজন সাফাই সাক্ষী তাদের সাক্ষ্য দেন।
গত বছরের ৪ জুন কামারুজ্জামানের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২।

এর আগে কামারুজ্জামানের বিরুদ্ধে ওই বছরের ৩১ জানুয়ারি ৮৪ পৃষ্ঠার আনুষ্ঠানিক অভিযোগ আমলে নেন ট্রাইব্যুনাল-১।

এরপর ১৬ এপ্রিল চিফ প্রসিকিউটর গোলাম আরিফ টিপুর এক আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে কামারুজ্জামানের মামলাটি ট্রাইব্যুনাল-১ থেকে ট্রাইব্যুনাল-২ এ স্থানান্তর করা হয়।

উল্লেখ্য, ট্রাইব্যুনাল-১ ও ট্রাইব্যুনাল-২ এরমধ্যে মানবতাবিরোধী অপরাধের ৩টি মামলার রায় দিয়েছে। গত ২১ জানুয়ারি প্রথম রায়ে মুক্তিযুদ্ধের সময় গণহত্যা ও মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে জামাতের সাবেক সদস্য (রুকন) পলাতক আবুল কালাম আযাদকে মৃত্যুদণ্ডাদেশ দেয় ট্রাইব্যুনাল-২।

গত ৫ ফেব্রুয়ারি দ্বিতীয় রায়ে একই ট্রাইব্যুনালে জামাতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল আবদুল কাদের মোল্লাকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ডাদেশ দেয়। এ রায়ের বিরুদ্ধে রাষ্ট্র ও আসামিপক্ষ আপিল করায় তা আপিল বিভাগে বিচারাধীন রয়েছে।

এরপর ২৮ ফেব্রুয়ারি ট্রাইব্যুনাল-১ জামাতের নায়েবে আমির দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীকে মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে মৃত্যুদণ্ডাদেশ দেয়। এ রায়ের বিরুদ্ধেও আপিল করা হয়েছে যা বিচারাধীন অবস্থায় রয়েছে।