আগামীকাল ৯মে। রাশিয়ায় যথাযথ মর্যাদায় পালিত হবে বিজয় দিবস। রাশিয়ার সব প্রজন্মের নাগরিক ও বিশ্বের বিভিন্ন দেশে ছড়িয়ে থাকা রুশদের মাঝে যোগসূত্র তৈরীর এক মহান উৎসব হলো বিজয় দিবস। বিজয় দিবসের মূল আকর্ষন হচ্ছে ঐতিহ্যবাহী সামরিক কুচকাওয়াজ।

নাত্সী জার্মানির বিরুদ্ধে সোভিয়েত আর্মির বিজয় অর্জিত হয়েছিল ৯মে মস্কো সময়ে রাত ১২টা ৪৩ মিনিটি। তবে বিকেল থেকেই রেডিওতে বিজয় অর্জনের খবর শোনা যাচ্ছিল। বড় ব়ড শহরগুলোর প্রানকেন্দ্রতে মানুষ ভিড় করতে শুরু করে। একজন আরেকজনকে ধরে আনন্দের কান্না করতে থাকে।

যাদের পক্ষে ৯মে বিজয় দিবসের দিনে মুক্তিযোদ্ধাদের সাথে দেখা করার সুযোগ পেয়েছিলেন তাদের কাছে আজও সেই দিনের ছবি জীবন্ত হয়ে ভেসে আসছে। যোদ্ধারা নিজেদের মেডেল আর পদক নিয়ে রাস্তায় বেড়িয়ে পড়েন।

১৯৬৫ সালে মস্কোর রেড স্কোয়ারে বিজয় দিবসের ২০তম পূর্তী উপলক্ষ্যে সামরিক কুচকাওয়াজ অনুষ্ঠিত হয়। আর এর পর থেকে প্রতিবছর কুচকাওয়াজ অনুষ্ঠিত হয়ে আসছে। তবে ১৯৯০ সালে আবারো ৫ বছরের জন্য কুচকাওয়াজ বন্ধ হয়ে যায় এবং আবারও পুনরায় শুরু হয়। কুচকাওয়াজকে অনেক গুরুত্বপূর্ণ বলে উল্লেখ করেছেন মনোবিজ্ঞানী ও লেখক সেরগেই ক্লিউচিনকোভ। রেডিও রাশিয়াকে তিনি বলেন, "তরুণরা ভাবতে শিখেছে যে এ সবকিছু একটি দেশ, একটি ভাগ্য আর একটি ইতিহাসের পাতা। এ নিয়ে গর্ব করা যায়। তবে একটা সময়ে ছিলো যখন শুধু অর্থই গুরুত্ব ছিলো না বরং বিনোদনের অনেক চাহিদা রয়েছে।"

এদিকে একুশ শতকে বিজয় দিবস উদযাপনে নতুনত্ব যোগ হয়েছে। আর এতে এগিয়ে এসেছে তরুণ-যুবকরা। বিজয় দিবস উপলক্ষ্যে “সেন্ট জর্জেস ব্যান্ড” বিতরণ শুরু হয়েছে যা ফ্যাশিবাদের হাত থেকে পৃথিবীকে মুক্ত করা দেশপ্রমাত্মক মহাযুদ্ধের প্রবীন যোদ্ধাদের প্রতি শ্রদ্ধা, কৃতজ্ঞতা ও তাঁদের স্মৃতির প্রতীক বহন করছে। গত ৯ বছর ধরে এ কার্যক্রমে রাশিয়া ও বিশ্বের ১০০টি দেশে বসবাসকারি রুশিরা এতে অংশ নেয়। কালো ও কমলা রঙের ডোরা কাটা ব্যান্ড বন্টন করছে বিভিন্ন সামাজিক সংস্থা ও দেশপ্রেমিক ক্লাবের সক্রিয় সদস্য- স্কুল শিক্ষার্থী ও ইনস্টিটিউটের ছাত্রছাত্রীরা।

তবে বিজয় দিবসের মূল অনুষ্ঠানমালা হবে রেড স্কোয়ারে। এ বছর কুচকাওয়াজে ১১ হাজার সেনা, ১০০টিরও বেশি সাজোঁয়া যান ও ৬৮টি যুদ্ধবিমান অংশ নিবে। বিকেলে মহান বিজয় দিবসের সম্মানে আতশবাজি ফোটানো হবে।