বাংলাদেশের প্রধান বিরোধীদল বিত্রনপি’র ডাকে আজ বুধবার থেকে শুরু হয়েছে পরপর দু'দিনের সকাল-সন্ধ্যা হরতাল। বাংলাদেশর বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি ও পরবর্তি চিত্রপট কেমন হতে পারে তা নিয়ে রেডিও রাশিয়াকে বিশেষ সাক্ষাৎকার দিয়েছেন জনতা ব্যাংকের চেয়ারম্যান বিশিষ্ট অর্থনীতিবিদ ড. আবুল বারকাত

সাক্ষাৎকারের চুম্বুক অংশ এখানে তুলে ধরা হলো।

আমার দৃষ্টিকোন থেকে প্রধান বিরোধী দল বিএনপি নেতৃত্বাধীন ১৮ দলীয় জোটের এবারের হরতাল হলো মূলত উগ্রবাদী ধর্মীয় সংগঠনগুলোকে সহযোগিতা করা। এ ধরণের সংগঠনগুলো ৩০ থেকে ৫০ হাজার অস্ত্রধারী যোদ্ধাদের দ্বারা সুগঠিত। এরা লিবিয়া, আফগানিস্তান, পাকিস্তান, মায়ানমারসহ বাংলাদেশের বিভিন্ন এলাকায় প্রশিক্ষণ নিয়েছে। ইসলাম ধর্মকে রক্ষা করার দাবি জানিয়ে তাঁরা স্লোগান দিচ্ছে এবং সহিংসতা চালিয়ে দেশ পরিচালনার দায়িত্বে আসার অপচেষ্টা করছে। আর এ প্রক্রিয়ার সাথে যুক্ত হয়েছে বিএনপি। যেহেতু বিএনপি বর্তমান আন্দোলনের সাথে নিজেদের সম্পৃক্ততা প্রকাশ করেছে তাই এ দলটি বিভিন্ন রাজনৈতিক কর্মসূচি গ্রহণ করছে। চলমান হরতাল তাদের সেই ধরণেরই একটি কর্মসূচি।

অন্যদিকে বর্তমান ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ তাদের শরিক দল, সামাজিক-সাংস্কৃতিক সংগঠন নিয়ে বিএনপি’র পরিচালিত বাংলাদেশবিরোধী আন্দোলনকে প্রতিহত করার চেষ্টা করছে

বাংলাদেশ সরকার পরিচালনায় যদি কোন ইসলামিক দল ক্ষমতায় আসে তা দেশকে অন্য এক আফগানিস্তান বা পাকিস্তানে পরিণত করবে বর্তমানে দেশের অধিকাংশ জনগনই তা জানে তবে আমি বিশ্বাস করে তা কখনোই হবে না

আমি জানি, আওয়ামী লীগ দেশের বর্তমান পরিস্থিতি ভাল করে পর্যবেক্ষণ করছে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মীদের সাথে কথা বলে আমি বুঝতে পেরেছি, সংঘাত কোন ফলাফল বয়ে আনবে না বর্তমান সংকট নিরসণের একমাত্র পথ হচ্ছে সংলাপ আগমী সংসদ নির্বাচনকে স্বচ্ছ ও গ্রহণযোগ্য করে অনুষ্ঠানের জন্য বর্তমান সরকারের মেয়াদ থাকাকালিন এই সংলাপ হওয়া প্রয়োজন

পরিস্থিতির অবনতি হলে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষায় সেনাবাহিনীকে ব্যবহার করা হতে পারে, কিন্তু আমি বলছি না যে সেনাবাহিনী দেশ পরিচালনায় আসবে স্বচ্ছ নির্বাচন আয়োজন করতে সেনাবাহিনীকে শুধুমাত্র কিছুটা সক্রিয় দায়িত্বপালন করতে হতে পারে