সিরিয়া বিষয়ক একটি আন্তর্জাতিক সম্মেলন আয়োজন করতে ঐক্যমতে পৌঁছেছে মস্কো এবং ওয়াশিংটন। মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী জন কেরির মস্কো সফরের সবচেয়ে আলোচিত সাফল্য হলো এ সিদ্ধান্ত। রুশ-মার্কিন দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক নিয়ে বলতে গিয়ে কেরি উল্লেখ করেন, বর্তমান বিশ্ব পরিস্থিতি বিবেচনা করলে দুই দেশের সম্পর্ক সেই পর্যায়ে হওয়া উচিত যা ছিল দ্বিতীয় বিশ্ব যুদ্ধ সময়কালে।

মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী হিসেবে জন কেরির এটিই প্রথম মস্কো সফর। তিনি যখন মস্কো সফরে আসেন তখন পুরো রাশিয়া ফ্যাসিবাদ-বিরোধী যুদ্ধের বিজয় দিবস উদযাপনের জন্য প্রস্তুত হচ্ছে। আর হয়তো এই জন্যই গত শতকের মাঝামাঝি সময়ে শুরু হওয়া সম্পর্ক নিয়ে মঙ্গলবার অনেক কথাই শোনা গেছে। বৈঠকের আগে জন কেরি রেড স্কোয়ার পরিদর্শন করেন এবং দ্বিতীয় বিশ্ব যুদ্ধে অংশ নেয়া রুশ যোদ্ধাদের সাথে কুশলাদি বিনিময় করেন।

আজকের দিনে যুক্তরাষ্ট্র ও রাশিয়াকে একসঙ্গে কাজ করা দরকার সেই বিষয়ে জন কেরি ভ্লাদিমির পুতিনকে অবহিত করেন। রুশ রাষ্ট্রপতির সাথে তিনি ক্রেমলিনে সাক্ষাত করেন। দুই দেশের আশানুরুপ সম্পর্কের উদাহরণ হিসেবে কেরি বোস্টন হামলার কথা উল্লেখ করেন। বর্তমানে যে সুসম্পর্ক দুই দেশের মধ্যে তৈরী হয়েছে তাতে কোন কিছুই বাঁধা হয়ে দাড়াতে পারবে না বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন। জন কেরি বলেন, "আমাদের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কে বিরাট আশার আলো আমি দেখতে পাচ্ছি। কিছু বিষয়ে ভিন্নমত থাকলেও ঐতিহ্যগত স্ট্রাটেজিক সম্পর্ক আমাদের ত্রকত্রিত করেছে। আমরা তা দেখতে পেয়েছে রকেটবিরোধী প্রতিরক্ষা ব্যবস্থায় ও আফগানিস্তান প্রশ্নে। ইরান, উত্তর কোরিয়া ও বিশ্ব বানিজ্য সংস্থা বিষয়ে রাশিয়ার পক্ষ থেকে আমাদের সাহায্য অব্যাহত রয়েছে। আর এর জন্য মার্কিন রাষ্ট্রপতি বারাক ওবামা পুতিনের কাছে কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন।"

মঙ্গলবার দুই পক্ষের মধ্যে যে বিষয়ে ঐত্যমতে পোঁছানো সম্ভব হয়েছে তা ছিলো সিরিয়াকে ঘিরে। মস্কো সফরে আসার আগেই জন কেরি সিরিয়াকে আলোচনার প্রধান বিষয় বলে উল্লেখ করেন। রুশ ও মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রীর মধ্যে দ্বিপাক্ষিক বৈঠক যখন শেষ হয় তখন মস্কোতে প্রায় মধ্যরাত। আর এ থেকেই বোঝা যায়, কতোটা কঠিন প্রশ্নবলী নিয়ে তাদের মধ্যে আলোচনা হয়েছে। রুশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী সেরগেই ল্যাভরোভ বলেছেন, জেনেভা কনভেনশনের আলোকেই মস্কো এবং ওয়াশিংটন মিলিত প্রচেষ্টা চালিয়ে যাবে।ল্যাভরোভ বলেন, "সিরিয়া বিষয়ক একটি আন্তর্জাতিক সম্মেলন আয়োজন করতে ঐক্যমতে পৌঁছেছে মস্কো এবং ওয়াশিংটন। মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী জন কেরির মস্কো সফরের সবচেয়ে আলোচিত সাফল্য হলো এ সিদ্ধান্ত। রুশ-মার্কিন দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক নিয়ে বলতে গিয়ে কেরি উল্লেখ করেন, বর্তমান বিশ্ব পরিস্থিতি বিবেচনা করলে দুই দেশের সম্পর্ক সেই পর্যায়ে হওয়া উচিত যা ছিল দ্বিতীয় বিশ্ব যুদ্ধ সময়কালে।"

জন কেরির ভাষায়, সামনের পথে এগিয়ে যাওয়ার জন্য মস্কোতে সত্যিই অনেক কিছু অর্জিত হয়েছে। জেনেভা কনভেনশনই হলো নতুন সিরিয়ার পথে এগিয়ে যাওয়ার একমাত্র অবলম্বন, যেখানো আর কোন সংঘাত ঘটবে না। সিরিয়ার বিরোধীদলকে অস্ত্র সরবরাহের ক্ষেত্রে কি আইন মেনে চলতে হবে তা নিয়ে জন কেরি বলেন, "অবশ্যই বিরোধীদলকে অস্ত্র সরবরাহ নিয়ে সিনেটে মতামত জানানো হয়েছে। সিরিয়ায় রাসায়নিক অস্ত্র ব্যবহারের কি কোন প্রমাণ রয়েছে কিনা তার ওপরই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নির্ভর করবে। আপনারা জানানে, ওবামা এই তথ্যের পূর্ণ তদন্ত করার নির্দেশ দিয়েছেন। আমি মনে করি, কোন প্রকার সিদ্ধান্ত নেয়ার আগে কংগ্রেস ওই প্রতিবেদনের ফলাফল বিবেচনা করবে। খুব শিগ্রই আমরা এ ফলাফল জানতে পারবো।"

বন্ধুত্বপূর্ণ পরিবেশে অনুষ্ঠিত হওয়া মস্কোর বৈঠক কতোটা কার্যকরী প্রভাব ফেলেছে তা জানা যাবে আয়ারল্যান্ডে অনুষ্ঠেয় আসন্ন জি-৮ সম্মেলনে। ওই সময়ে দুই দেশের নেতাদের মধ্যে এক শীর্ষ বৈঠক হওয়ার কথা রয়েছে ।