৭ই মে রেডিও দিবস. এই দিনেই ১৮৯৫ সালে রাশিয়াতে প্রথম রুশী পদার্থবিদ আলেকজান্ডার পাপোভ প্রথম রেডিও যোগাযোগের প্রদর্শনী করেছিলেন, যার পর থেকেই শুরু হয়েছিল বেতার ব্যবস্থার দ্রুত বিকাশ. বিংশ শতকের কুড়ির দশকে শুরু হয়েছিল গণ রেডিও অনুষ্ঠান প্রচার, আর তারপরে বছর তিরিশ পরেই এসেছিল টেলিভিশন প্রচার. ফলে এই উত্সবে শুধু রেডিও সংক্রান্ত সমস্ত বেতার অনুষ্ঠান ব্যবস্থার কর্মীরাই সামিল হন নি, বরং যোগ দিয়েছেন বহু রেডিও ও টেলিভিশনের শ্রোতা ও দর্শকরাও.

রেডিও, বর্তমানের নতুন বৈদ্যুতিন সংবাদ মাধ্যমের সঙ্গে শক্তিশালী প্রতিযোগিতা স্বত্ত্বেও, দেখা গেল যে, বিস্ময়কর রকমের জীবনী শক্তি সম্পন্ন বলে. কন্ঠস্বর দিয়ে খবর, বিশ্লেষণ ও সাংস্কৃতিক বিষয়ে প্রচার এখনও শ্রোতারা পছন্দ করে চলেছেন. বিশেষ ক্ষেত্র এখানে দখল করে রেখেছে – আন্তর্জাতিক রেডিও, যা সঙ্গে একেবারেই সরাসরি সম্পর্ক হল “রেডিও রাশিয়ার”. নিজেদের শ্রোতা এই রেডিও কোম্পানী সমস্ত মহাদেশেই খুঁজে পেয়েছে. এই শ্রোতাদের মধ্যে খুব কম আমাদের দেশ থেকে যাওয়া লোক নেই, এই কথা উল্লেখ করে “রেডিও রাশিয়ার” বিশেষজ্ঞ, রাজনীতিবিদ ও “রাজনীতি” তহবিলের সভাপতি এবং “রুশী বিশ্ব” তহবিলের কার্যকরী সমিতির সভাপতি ভিয়াচেস্লাভ নিকোনভ বলেছেন:

“এখন রাশিয়ার বাইরে আমাদের দেশের চেয়েও রুশ ভাষাতে কথা বলেন অনেক বেশী লোক. আমাদের দেশে কি ঘটছে, তা নিয়ে আগ্রহ প্রচুর. মানুষে রুশী ভাষা ভুলে যেতে চান না, যে ভাষায় এখন কথা বলেন তিরিশ কোটির বেশী মানুষ. সন্দেহ নেই যে, রেডিও, যা সারা বিশ্বে রুশী ভাষাতেই প্রচার করছে আর তারই সঙ্গে বহু জাতির ভাষাতেও কথা বলছে, সব সময়েই নিজের শ্রোতা খুঁজে পাবে”.

“রেডিও রাশিয়া” এখন নিজেদের শ্রোতাদের কাছ থেকে বহু লক্ষ চিঠি পায়, এই কথা উল্লেখ করে শ্রোতাদের সঙ্গে কাজকর্মের বিষয়ে “রেডিও রাশিয়ার” বিশারদ ইভগেনিয়া গরখোভা বলেছেন:

“সবচেয়ে বেশী চিঠি আমরা পাই জার্মানী, ভারত, জাপান, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও গ্রেট ব্রিটেন থেকে. আমাদের কাছে মন্তব্য আসে বিশ্বের নানা কোণে অবস্থিত সেই সব আশ্চর্য দেশ থেকেও যেমন, বেনিন, বেলিজ, বুরকিনা-ফাসো, জাম্বিয়া, কঙ্গো, কোট দ্য ইভুয়ার, গিনি- বিসাউ, মাউরিটানিয়া, মাদাগাস্কার, রে-ইউনিয়ন, ত্রিনিদাদ ও টোবাগো আরও অনেক দেশ থেকে. এই সব চিঠিতে ভরসা করার মতো স্বর শুনে প্রমাণ পাই যে, আমাদের সাংবাদিকদের মনে করা হয় নিজেদের লোক বলেই, যেন কাছের বন্ধু, যাঁদের সঙ্গে নিজেদের সাফল্য, ব্যর্থতা ভাগ করা যায়, নিজেদের পরিবার নিয়ে, নিজের দেশের পরিস্থিতি নিয়ে কথা বলা যায়, পরামর্শ চাওয়া যায়”.

“রেডিও রাশিয়া” নিজেদের মানবিক ঐতিহ্য সংরক্ষণ করে চলতে চায় নতুন বৈদ্যুতিন সংবাদ মাধ্যমেও, যাতে সর্বজনীন থাকা যায় ও সমস্ত মহাদেশেই তা শোনা হয়, নিজেদের প্রধান কাজ বলে এখানে মনে করা হয় – সারা বিশ্বের লোকদের জানানো যে, রাশিয়াতে কি ঘটছে, রাশিয়ার অর্থনীতি, সংস্কৃতি, বিজ্ঞান, মানুষের জীবনের কথা. আজ এই কঠিন প্রতিযোগিতার সময়ে আমাদের রেডিও স্টেশন “রেডিও রাশিয়া”, যা ১৯২৯ সাল থেকে বিদেশে প্রচার শুরু করেছে, তা এখনও নিজের অবস্থান বজায় রাখতে পেরেছে, আর শুধু তাই নয়, এখনও নতুন শ্রোতাদের হৃদয় জয় করার কাজ করে চলেছে. প্রতি দিনে বিশ্বের ৩৮টি ভাষায় “রেডিও রাশিয়ার” প্রচার করা হয়, যা বহু কোটি শ্রোতাদের কাছে বিশ্বের সমস্ত মহাদেশে রাশিয়াতে যা কিছু ঘটছে, তা রাজনীতি, সংস্কৃতি, অর্থনীতি, সমাজ জীবন, সমস্ত কিছুকেই পৌঁছে দিচ্ছে. মস্কো থেকে এই অনুষ্ঠান শোনা যায় বিশ্বের ১৬০টি দেশে ১৫০ ঘন্টার বেশী সময় ধরে, ক্ষুদ্র ও মাঝারি তরঙ্গে, এফ এম রেডিও তরঙ্গে, উপগ্রহ মারফত পৌঁছে দেওয়া চ্যানেলে, মোবাইল টেলিফোনে. এছাড়া সমস্ত বিষয় বস্তু জানতে পারা যায় রেডিও রাশিয়ার সাইটে www.ruvr.ru, যা ৩৩টি ভাষায় লেখা হয়. “রেডিও রাশিয়ার” প্রতিনিধিত্ব মূলক অফিস এখন খোলা রয়েছে ওয়াশিংটনে, কিয়েভে আর লন্ডনে. পরিকল্পনা রয়েছে, বিশ্বের আরও দশটিরও বেশী দেশে তা খোলার – জার্মানী, ব্রাজিল, বালকান এলাকায় ও মধ্য এশিয়াতে. “রেডিও রাশিয়ার” সৃষ্টি বিভাগের আরও বহু আগ্রহোদ্দীপক ও নতুন প্রকল্প রয়েছে.

১৮ই মে ১৯৪২ হিন্দুস্থানী ভাষায় প্রথম “রেডিও রাশিয়া” প্রচার শুরু করেছিল, ১৫ মিনিটের এই অনুষ্ঠান তখন বেশী অংশেই ছিল যুদ্ধ ক্ষেত্রের বর্ণনা মূলক, আর এটা বিবিসি বা ভয়েস অফ আমেরিকা থেকে প্রচারের অনেক আগেই ঘটেছে. ১৯৫৪ সাল থেকে শুরু হয়েছিল হিন্দী ও উর্দু ভাষায় আলাদা করে প্রচার, কারণ বাংলা ভাষায় প্রচার শুরু হয়ে গিয়েছিল তার অনেক আগে সেই ১৯৪৩ সাল থেকেই.