ভারত ও চিন বাস্তব নিয়ন্ত্রণ রেখা বরাবর সৈন্য প্রত্যাহার করেছে, যাতে স্ট্যাটাস কো বজায় রাখা যায়. ভারতের পররাষ্ট্র দপ্তর থেকে প্রকাশিত এক বিজ্ঞপ্তিতে এই খবর জানানো হয়েছে. এপ্রিলের মাসের মাঝামাঝি থেকে সীমান্তে পরিস্থিতি তীক্ষ্ণ হয়ে উঠেছিল কারণ চিনের সেনা বাহিনী নিয়ন্ত্রণ রেখা পার হয়ে এসে ভারতের ভিতরে ১৯ কিলোমিটার পর্যন্ত চলে এসেছিল.

এর আগে হওয়া বেশীর ভাগ এই ধরনের ঘটনার মতো, চিনের সেনারা এবারে সঙ্গে সঙ্গেই ফিরে যায়নি, বরং তারা ক্যাম্প খাটিয়ে থেকে গিয়েছিল. একই দিনে আবার চিন থেকে হেলিকপ্টারে চড়ে ভারতের সীমা লঙ্ঘণও করা হয়েছিল. তখন আবার বেজিং থেকে ভারতীয় সীমান্ত পার হয়ে আসার কথা অস্বীকারও করা হয়েছিল. সামরিক বাহিনীর পক্ষ থেকে নিয়ন্ত্রণ রেখার কাছে কয়েকটি সাক্ষাত্কার কোন রকমের ফল ছাড়াই শেষ হয়েছিল, যার পরে ভারতীয় পক্ষ থেকে বাস্তব সীমান্তের কাছে বাড়তি সেনাবাহিনী পাঠানো শুরু হয়েছিল.

প্রায় তিন সপ্তাহ ধরে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষকদের মনে ভয় ধরিয়ে দিয়েছিল, কোন রকমের নির্দিষ্ট ঘটনা পরম্পরা না থাকায় কারণ কোন পক্ষই পিছিয়ে আসার ইচ্ছা প্রকাশ করে নি. গণ প্রজাতন্ত্রী চিন নিজেদের বাহিনী প্রত্যাহারের বিনিময়ে ভারতের কাছ থেকে দাবী করেছে সীমান্ত এলাকায় কোন রকমের সামরিক দুর্গ যেন না বানানো না হয়. এই বিরোধের নিয়ন্ত্রণের জন্য দুই দেশের সামরিক ও কূটনৈতিক কর্মীদের মধ্যে সক্রিয়ভাবে পরামর্শ করা হয়েছিল. বিতর্কিত এলাকা থেকে সৈন্য প্রত্যাহার করে নেওয়ার ফলে ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রী সলমন খুরশিদের বেজিং সফর সম্ভব হতে চলেছে আর যদিও আনুষ্ঠানিক ভাবে এই সফরের উদ্দেশ্য নয়া দিল্লী শহরে চিনের নব নির্বাচিত প্রধানমন্ত্রী লি কেকিয়াং এর আসন্ন সফরের প্রস্তুতি, তবুও এই সময়ে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হবে হিমালয়ের এলাকায় দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক তীক্ষ্ণ হওয়ার পরিপ্রেক্ষিতে আলোচনা.

সীমান্ত সমস্যা নিয়ে দুই দেশ এক কোঅর্ডিনেশন কমিটি গঠন করলেও, শেষ ঘটনা অঙ্গুলি নির্দেশ করেছে যে, তা দ্বিপাক্ষিক ভাবে সীমান্ত এলাকায় বিরোধের মীমাংসা বিষয়ে কোনও গ্যারান্টি দিতে পারে নি. আপাততঃ এই পুরনো হয়ে যাওয়া সমস্যা নিয়ে আলোচনায় কোন বোঝার মতো ফল দেখতে পাওয়া যাচ্ছে না আর সেটা বিভিন্ন সময়ে খালি মাথা চাড়া দিয়েই উঠছে. এই কথা উল্লেখ করে রুশ বিজ্ঞান একাডেমীর সুদূর প্রাচ্য ইনস্টিটিউটের ডেপুটি ডিরেক্টর ভ্লাদিমির পোর্তিয়াকভ বলেছেন:

“ভারতের আভ্যন্তরীণ পরিস্থিতিও এই ক্ষেত্রে প্রভাব ফেলেছে – সমস্ত রকমের সমঝোতাই এখানে দেশের পার্লামেন্টের মাধ্যমে গ্রহণ করা হয়ে থাকে, যেখানে ক্ষমতাসীন দল কংগ্রেসের খুবই টলমলে রকমের সংখ্যা গরিষ্ঠতা রয়েছে. কাজ খুব একটা দ্রুত হচ্ছে না. আজকের দিনের পরিস্থিতি এই রকমের যে, কেউই সম্পর্ক তিক্ত করে তুলতে চায় না.

যদিও সীমান্ত প্রশ্ন খুবই গুরুত্বপূর্ণ, তবুও এটা মোটেও দুই দেশের সম্পর্কের মধ্যে একমাত্র সমস্যা নয়. ভারতের সন্দেহ রয়েছে যে, চিন তাদের দেশকে মুক্তা মালার মতো সামরিক নৌবাহিনীর ঘাঁটি দিয়ে ঘিরে ফেলার চেষ্টা করছে. প্রশ্ন উঠেছে দুই দেশের ভারত মহাসাগরে সামরিক প্রতিযোগিতার, আর ভারত আবার একই সময়ে দক্ষিণ পূর্ব এশিয়াতে সক্রিয়ভাবে রাজনীতি করছে. অংশতঃ, কার্বন যৌগ উত্তোলনের জন্য দক্ষিণ চিন সাগরে অনুসন্ধানের চুক্তি করছে, যা বেজিংকে বিরক্ত করছে”.

ভ্লাদিমির পোর্তিয়াকভ যেমন উল্লেখ করেছেন যে, বিগত সময়ে এই পরিস্থিতি মোটেও ভালোর দিকে যাচ্ছে না. ভারত – চিন বাণিজ্যেও ভাঁটা পড়েছে. গত বছরে বিশ্বে মন্দার কারণে লৌহ আকরিকের দাম কমে যাওয়াতে চিনে ভারত থেকে রপ্তানীর পরিমান কমে গিয়েছে, আর অন্য কোনও জিনিষ দিয়ে এই পরিমান বজায় রাখতেও পারা যায় নি, তাই শুধু দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্যের পরিমানই কমে যায় নি, কমে গিয়েছে আরও বাণিজ্যের ভারসাম্য, চিনের পক্ষেই লাভের পাল্লা ভারী হয়েছে. এই সমস্ত প্রশ্নই থাকবে পররাষ্ট্র দপ্তরের প্রধানদের আলোচ্যের তালিকায়. সলমন খুরশিদের যাত্রার প্রাক্কালে সীমান্ত বিরোধের উচ্চারিত খবরও নিশ্চয়ই মন্ত্রী পর্যায়ে শোনা হবে. বেজিং ও নয়া দিল্লীর খুবই প্রয়োজন দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের উন্নতির জন্য নতুন ধারণা আনার ও প্রাথমিক ভাবে অর্থনৈতিক সহযোগিতা বৃদ্ধির মাধ্যমে পারস্পরিক ভরসা বৃদ্ধি করা. তাছাড়া, পক্ষদ্বয়ের প্রয়োজন পড়বে বিশ্ব ও আঞ্চলিক ক্ষেত্রেও মূল্যায়ণের বিষয়ে সম্মিলিত অবস্থান নেওয়ার, যা করা উচিত্ হবে সহযোগিতার মাধ্যমে, কোনও রকমের বিরোধের মধ্য দিয়ে নয়. রাশিয়া এশিয়ার এই দুই দৈত্যাকার দেশের সঙ্গে স্ট্র্যাটেজিক সহযোগিতা বিকাশের জন্য সহযোগিতা করে চলেছে ও এই ধরনের সহযোগিতার মাধ্যমে বিকাশের বিষয়েই খুব আগ্রহ প্রকাশ করছে.