রাশিয়ার অর্ধেকের বেশী লোক নিজেদের সুখী মনে করেন. এই রকমের তথ্য দিয়েছে সারা রাশিয়ার সামাজিক মতামত গবেষণা কেন্দ্র. প্রতি বছরে আমাদের দেশে সুখী লোকের সংখ্যা বাড়ছে.

রুশীদের মধ্যে প্রায় তিন চতুর্থাংশ লোক নিজেদের মনে করেন একেবারেই সুখী বলে, সেই রকমই দেখতে পাওয়া যাচ্ছে পরিসংখ্যানে. বিশেষজ্ঞরা বিশ্বাস করেন যে, এই ধরনের উঁচু মাত্রার কারণ প্রাথমিক ভাবে বহু লোকই নিজেদের ভবিষ্যতের উপরে ভরসা করতে পারছেন বলে. জানা আছে যে, সমাজের সবচেয়ে বেশী সম্ভাবনা থাকে, যখন রাষ্ট্র বহু দিকে বিকাশের জন্য সীমান্ত খুলে ধরে, মানুষের সামাজিক ভরসা নিয়ে খেয়াল রাখে.

বিশেষজ্ঞরা জোর দিয়ে বলেছেন যে, যখন জনগনের মধ্যে সক্রিয় অংশের চাহিদাকে রাষ্ট্র মেটাতে পারে না, তখন সুখী ভবিষ্যতের উপরে বিশ্বাস চলে যায়. এটা হতে পারে তিনটি মুখ্য কারণের অনুপস্থিতিতে, যা মানুষের অনুভূতির উপরে প্রভাব বিস্তার করে, এই কথা উল্লেখ করে সামাজিক মতামত গবেষণা কেন্দ্রের ডিরেক্টর ভালেরি ফিওদরভ বলেছেন:

“তিনটি মৌল আছে, যা অবশ্যম্ভাবী ভাবে থাকে, আর এটা শুধু রাশিয়াকেই নিয়ে বলা যায় না, বরং বিশ্বের বেশীর ভাগ দেশকে নিয়েই বলা যেতে পারে. প্রথমতঃ, - এটা অবশ্যই আয়. নিঃস্ব বা দরিদ্র অবস্থায় সুখী হওয়া সত্যিই কঠিন, যতই আশাবাদী হওয়া যাক না কেন. দ্বিতীয় সূচক – এটা স্বাস্থ্য, আর তা শুধু বাস্তবিক স্বাস্থ্য নয়, বরং তার একটা অনুভূতি: তুমি নিজেকে সুস্থ বোধ করছ অথবা করছ না. আর তৃতীয়, এটা অবশ্যই বিশ্বের সঙ্গে তুমি নিজেকে স্বচ্ছন্দ বোধ করতে পারছ কি না, নিজের প্রতিবেশীদের সঙ্গে, আত্মীয়দের সঙ্গে, পরিচিত ও নিজের দেশের নাগরিকদের সঙ্গেও. যদি এই রকমের একটা বোধ জাগে যে, তুমি নিজের দেশের সঙ্গে যুক্ত আর তোমার দেশেরও তোমার জন্য চিন্তা রয়েছে আর তুমি নিজেও দেশে যা ঘটছে, তাতে প্রভাব সৃষ্টি করতে পারছ, তবে সুখের স্তরও বেড়ে যায়”.

কয়েক বছর আগে ব্রিটেনের নিউ ইকনমিক ফাউন্ডেশন নামের গবেষণা কেন্দ্র বিশ্ব সুখী সূচক বার করেছিল. ২০০৭ সালে যখন এই কেন্দ্র থেকে প্রথমবার রেটিং পেশ করা হয়েছিল, তখন সবচেয়ে প্রথমে বিশ্বের এক দরিদ্রতম দেশ ভানুয়াতু, যা অস্ট্রেলিয়ার থেকে পূর্ব দিকে আছে, তারা সবচেয়ে সুখী বলে প্রমাণিত হয়েছিল আর মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, যাদের নিজেদের স্বাধীনতার ঘোষণাতেই মানুষের একটি অন্যতম অখণ্ড অধিকার বলে সুখের দিকে লক্ষ্যের কথা বলা হয়েছে, তারা এমনকি প্রথম একশর মধ্যেও ছিল না. ব্রিটেনের লোকদের তৈরী সূচকে লাতিন আমেরিকা কয়েক বছর ধরেই নেতৃস্থানীয় হয়ে রয়েছে. গত বছরে তারা প্রথম দশের মধ্যে নটি জায়গাই পেয়েছে, শুধু দ্বিতীয় স্থানে ছিল ভিয়েতনাম. এই কেন্দ্রের বিশেষজ্ঞরা সব দেখে শুনে সিদ্ধান্তে পৌঁছেছেন যে, জাতির সত্যিকারের আত্ম অনুভূতির ক্ষেত্রে অর্থনৈতিক উন্নতির সূচক অথবা উত্পাদনের উন্নয়ন ততটা প্রতিফলন করতে পারে না. দেখা গিয়েছে যে, মানুষে সম্পদের কথা তত ভাবে না, যত ভাবে স্বাস্থ্য ও আনন্দ নিয়ে. গ্যালাপ কোম্পানীর তথ্য অনুযায়ী গত কয়েক বছরে বিশ্বে সুখী লোকের সংখ্যা শতকরা পঁচিশ ভাগ বেড়েছে. যা রাশিয়াতে শেষ সামাজিক পরিসংখ্যানেও দেখতে পাওয়া গিয়েছে, যেখানে শতকরা ৭৭ বাগ মানুষ ভাবেন সুখের প্রথম পরিমাপ স্বাস্থ্য দিয়ে করা উচিত বলে. দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে সুখী বিবাহ ও ভবিষ্যতের বিষয়ে ভরসা, শুধু তার পরেই আর্থিক সচ্ছলতার কথা আসছে.

এই সবই নিজের ক্ষমতা অনুযায়ী কাজ করার স্তরের কথা বলছে, আর তা মোটেও সুখ নিয়ে নয়, এই কথা উল্লেখ করে নিউরো ও প্যাথো-সাইকলজি বিভাগের প্রধান নাতালিয়া জ্ভেরেভা বলেছেন:

“মানুষ সারা জীবন সুখী থাকতে পারে না. জীবনে মানুষের কয়েকটা মুখ্য সংজ্ঞা রয়েছে, যে গুলি দিয়ে নিজেকে সুখী বা অসুখী বলে বোঝা যায় – আর এই ক্ষেত্রে বলা যেতে পরে জীবনে প্রতিষ্ঠিত হতে পারা গিয়েছে কি যায় নি. আমার মনে হয় যে, এই ধরনের ফলাফলে আমরা খুব সম্ভবতঃ প্রতিষ্ঠিত লোকদের ব্যক্তিগত মূল্যায়নের কথা বলছি”.

এরই মধ্যে আনন্দ – এটা ভীষণ ছোঁয়াচে ব্যাপার, সেই রকমের একটা সিদ্ধান্তে পৌঁছেছেন হার্ভার্ড ও ক্যালিফোর্নিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের বিশেষজ্ঞরা. তাঁদের মতে, যদি মানুষের চারপাশে বেশীর ভাগ লোকই হয় হাসিখুশী ও দয়ালু লোক, তবে তাদের বিশ্ব অনুভব সেই ব্যক্তির উপরেও পড়ে. আরও বড় হল যে, আনন্দ কি করে সংক্রামিত হতে পারে, বিজ্ঞানীরা সেটার ফর্মুলাও বের করে ফেলেছেন. এই তথাকথিত রোগ একদিন অনুভব করতে পারলে, মানুষে এই ভাইরাসের কবলে বারবার পড়তে চায়. সুতরাং এবার থেকে সবাই খুশীর সঙ্গে সুখী হওয়ার রোগে ভুগতে থাকুন.