৭ই মে রাশিয়ার রাষ্ট্রপতি হিসাবে দ্বিতীয়বার আনুষ্ঠানিক ভাবে শপথ গ্রহণের এক বছর পূর্ণ হচ্ছে.

আজ মস্কো পররাষ্ট্র নীতির সারণীতে শক্তিশালী অবস্থান নিতে পেরেছে বলে মনে করেছেন রাজনৈতিক তথ্য কেন্দ্রের জেনারেল ডিরেক্টর আলেক্সেই মুখিন, তিনি বলেছেন:

“রাশিয়া বড় কুড়ি দেশের সভাতে সভাপতিত্ব করছে. এখনই প্রস্তাব করছে ও পরেও প্রস্তাব করতে চলেছে বিশ্ব বিকাশের নানা রকমের উপায়, যাতে তা হতে পারে আগে যতটা সম্ভব ছিল, তার চেয়ে আরও বেশী ন্যায় সঙ্গত আইন ও নিয়মের পরিসরে”.

মস্কোর বেশ কয়েকটি পশ্চিমের দেশের রাজধানীর সঙ্গে সম্পর্ককে মোটেও নির্মেঘ বলা যেতে পারে না. ইউরোপ্রো বা ইউরোপে রকেট প্রতিরোধ ব্যবস্থা বসানো নিয়ে বিতর্ক ও সিরিয়াতে আভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক বিবাদে বাইরের থেকে হস্তক্ষেপের বিষয়ে মস্কোর নীতিগত ভাবে অবস্থান, আর ইরানের নিজেদের শান্তিপূর্ণ পারমানবিক পরিকল্পনা নিয়ে অধিকার প্রসঙ্গে সমর্থনও পশ্চিমের সঙ্গে এক ধরনের বিরোধের পরিমণ্ডলই তৈরী করেছে. কিন্তু বলা যেতে পারে না যে, সিরিয়ার বর্তমানে কি হত, যদি রাশিয়া আরও নরম অবস্থান নিত. এখনও টাটকা স্মৃতিতেই উদাহরণ রয়েছে লিবিয়া, ইরাক ও অন্যান্য দেশ গুলিতেই, যাদের একটা ভেবে বার করা অজুহাত দিয়ে চেষ্টা করা হয়েছে বন্দুকের ডগায় করে গণতন্ত্র পৌঁছে দেওয়ার.

এই প্রসঙ্গে যথেষ্ট হবে ভ্লাদিমির পুতিনের সরকারি ভাবে সফরের মানচিত্রের দিকে তাকালেই, আর তার সঙ্গে সেই সমস্ত দেশের প্রধানদের তালিকা দেখলে, যাঁরা রাশিয়াতে এসেছেন, যাতে মস্কোর রাজনীতির বহু দিকের গতি দেখা সম্ভব হয়. এই সময়ের মধ্যে রাষ্ট্রপতি গ্রেট ব্রিটেন, ফ্রান্স, জার্মানী, ইজরায়েল, প্যালেস্টাইন, চিন, ভারত ও আরও অনেক দেশে গিয়েছেন. কয়েক দিনের মধ্যে ক্রেমলিনে পুতিনের জাপানের প্রধানমন্ত্রী সিঞ্জো আবের সঙ্গে আলোচনা হয়েছে, যাতে দুই পক্ষই ঘোষণা করেছে যে, রাশিয়া ও জাপানের মধ্যে শান্তি চুক্তি নিয়ে আলোচনা আবার করে শুরু করতে তৈরী. ইতিমধ্যেই নিজের থেকে এই রকমের তৈরী থাকা – একটা আলাদা রকমের গতিশক্তি সম্পন্ন উত্থান, যদি দেখা হয় যে ব্যবসায়িক ক্ষেত্রে সহযোগিতা করছে এমন দুটি দেশ আজ ৬৭ বছর ধরেই যুদ্ধ পরিস্থিতিতে রয়েছে.

পুতিনের রাষ্ট্র নায়ক হিসাবে থাকার একটি গুরুত্বপূর্ণ পরিণাম – সমাজে রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা বজায় থাকা. এই ধরনের ধারণা রেডিও রাশিয়াকে বলেছেন ঐতিহাসিক পরিপ্রেক্ষিত সম্ভাবনা তহবিলের বিশেষজ্ঞ পাভেল স্ভিয়াতেনকভ, তিনি উল্লেখ করেছেন:

“২০০৯ সালের বিশ্ব অর্থনৈতিক সঙ্কটের পরিণাম পার হয়ে আসা সম্ভব হয়েছে. অর্থনৈতিক পরিস্থিতি রয়ে গিয়েছে খুব একটা খারাপ নয় ও বলা যেতে পারে স্থিতিশীল. সমস্যা রয়েছে যে, রাশিয়ার নিজের অর্থনীতি তার কাঁচামাল রপ্তানীর দিকে বেশী করে ঝুঁকে থাকার কারণেই সঙ্কট উত্পন্ন হতে পারে. কিন্তু আর্থিক ও অর্থনৈতিক দিক থেকে এই বছরকে বলা যেতে পারে ভাল বছর”.

বিশেষজ্ঞ যোগ করেছেন যে, রাশিয়ার সামনে খুবই জটিল কাজ রয়েছে বহু লক্ষ কর্ম সংস্থানের ব্যবস্থা করার ও সব মিলিয়ে নতুন বিকাশের কেন্দ্র তৈরী করা, সমস্ত জটিলতা অতিক্রম করা যা বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থায় যোগ দানের ফলে হয়েছে ও তারই সঙ্গে দেশ থেকে মূলধন বেরিয়ে যাওয়ার জন্যে. প্রসঙ্গতঃ, বিশেষজ্ঞদের মূল্যায়ণ অনুযায়ী খুবই আসন্ন ভবিষ্যতে রাশিয়ার আভ্যন্তরীণ ও বাইরের দেশ থেকে অর্থনীতিতে বিনিয়োগ বাড়তে পারে. এর অনেকটাই যুক্ত রয়েছে দেশে বিনিয়োগের আবহাওয়াকে গুণগত ভাবে পরিবর্তন করার জন্য প্রশাসনের সদিচ্ছার সঙ্গে. এই পরিকল্পনার মধ্যে সব থেকে গুরুত্বপূর্ণ হল দুর্নীতির সঙ্গে লড়াই. আর এই পরিপ্রেক্ষিতে বছরকে বলা যেতে পারে যথেষ্ট ফলদায়ক, এই কথা বিশেষ করে উল্লেখ করে জাতীয় স্ট্র্যাটেজি ইনস্টিটিউটের সভাপতি মিখাইল রেমিজভ বলেছেন:

“রাষ্ট্রীয় প্রশাসনের দুর্নীতি থেকে উদ্ধার করার জন্য এই বছর ছিল খুবই সংজ্ঞাবহ ও ঘটনা বহুল, সেই সমস্ত ব্যবস্থা যা এখন নেওয়া হয়েছে, তা সরকারি কর্মচারীদের জন্য কাজকর্মের নিয়ম ও প্রাতিষ্ঠানিক ব্যবসায়ের কাজকর্মের নিয়মকেও যথেষ্ট কঠোর করেছে.

আপাততঃ, এই ব্যবস্থা গুলি কোন সার্বিক পরিণাম দেখাতে পারে নি, কিন্তু তাদের পরিকল্পনার বিষয়ে ও বাস্তবায়নের বিষয়ে পরম্পরা মেনে চলার চেষ্টা ঘোষিত হয়েছে. আলাদা করে প্রকাশিত হয়েছে এই ধরনের কাজকে শেষ অবধি করার জন্য রাজনৈতিক ইচ্ছাও. আর এটাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ” – উল্লেখ করেছেন বিশেষজ্ঞ.