৬ই মে ভারতের সুপ্রীম কোর্ট কুদানকুলাম পারমানবিক বিদ্যুত কেন্দ্রের বিরোধীদের অভিযোগের বিপক্ষে রায় দিয়েছে. আদালতের রায়ে বলা হয়েছে যে পারমানবিক কেন্দ্র, যা ভারতের তামিলনাডু রাজ্যে রাশিয়ার সাহায্যে তৈরী হচ্ছে, তা ভারতের মানুষের ভালোর জন্যেই করা হচ্ছে. বিষয় নিয়ে বিশদ করে লিখেছেন আমাদের সমীক্ষক ভ্লাদিমির ইভাশিন.

কুদানকুলামের বিরোধীরা আবারও হেরে গিয়েছে. রিয়্যাক্টর চালু করতে না দেওয়ার জন্য যে অ্যাপীল করা হয়েছিল, তাতে বলা হয়েছিল যে, রাশিয়া থেকে আনা রিয়্যাক্টর গুলি ও কেন্দ্রটি নিজে নিরাপদ নয়. কিন্তু বাস্তব প্রমাণ উল্টো কথাই বলছে. রাশিয়ার পক্ষ থেকে যে যন্ত্রপাতি কুদানকুলামে পাঠানো হয়েছে, তা এই কেন্দ্রে লাগানোর সময়ে ৩৮টি বিভিন্ন রকমের পরিষদের পরীক্ষা পাশ করেছে, আর তাদের সিদ্ধান্তকেই নিজেদের রায়ের ভিত্তি হিসাবে ব্যবহার করেছে ভারতের সুপ্রীম কোর্ট.

ভারতের সুপ্রীম কোর্টের রায় নিয়ে “জি” টিভি উল্লেখ করেছে যে, কুদানকুলাম পারমানবিক বিদ্যুত কেন্দ্র নিরাপদ ও দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নের জন্য সমাজের অবশ্য প্রয়োজনীয়.

এর আগে ভারতের তদন্ত কমিশন এই সব বিরোধের মূল কারণ হিসাবে, যা স্থানীয় জনসাধারনের মধ্যে পরিবেশের নিরাপত্তার অভাব নামে প্রচার করা হয়েছে, তা নির্ণয় করে দিয়েছে. খুবই খুঁটিয়ে তদন্ত করে দেখা গিয়েছে যে, বাইরের দেশ থেকে বিপুল পরিমানে অর্থ সাহায্য পাওয়া বেশ কয়েকটি সংগঠনকে দিয়ে এই কাজ করানো হয়েছে. গত বছরেই “নেচার” জার্নালকে এক সাক্ষাত্কার দিতে গিয়ে ভারতের প্রধানমন্ত্রী বলেছিলেন যে, “মূলতঃ মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও স্ক্যান্ডিনেভিয়ার দেশ গুলি থেকে অর্থ ও মদত পুষ্ট বেসরকারি সংস্থা গুলির কারণে ভারতের পারমানবিক শক্তি ক্ষেত্রে বিকাশ ব্যাহত হচ্ছে ও সেই সমস্ত দেশের লোকরা বুঝতে পারে না বিদ্যুত উত্পাদনের ক্ষেত্রে ভারতের চাহিদা কত বেড়েছে”. এই কথায় সায় দিয়েছিলেন তদন্তের শেষে ভারতের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রীও. “এই সমস্ত বিক্ষোভের কারণেই কুদানকুলামে প্রতিটি এক হাজার মেগাওয়াট ক্ষমতা সম্পন্ন রিয়্যাক্টর চালু করা যাচ্ছে না”, - বলেছিলেন তিনি.

প্রধানমন্ত্রীর ক্যাবিনেটের প্রতিমন্ত্রী ভি নারায়নস্বামী বলেছিলেন যে, আমরা প্রমাণ পেয়েছি যে, কিছু এনজিও যারা কুদানকুলাম পারমানবিক বিদ্যুত কেন্দ্রের কাছে তিরুনেলভেলি ও থুতুকুডি শহরে ঘাঁটি গেড়ে বসেছে, তাদের মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও স্ক্যান্ডিনেভিয়ার দেশ গুলি থেকে অর্থ সাহায্য করা হয়েছে.

গত বছরের ফেব্রুয়ারী মাসে তামিলনাডু রাজ্যে ধরা হয়েছিল জার্মানীর নাগরিক রেইনার সন্টাগ হেরম্যানকে, কুদানকুলাম কেন্দ্রের বিরুদ্ধে বিরোধ তৈরীর জন্য সরাসরি ভাবে অর্থ যোগান দিয়েছে বলে প্রমাণিত হয়েছিল ও তাকে এই দেশ থেকে বের করে দেওয়া হয়েছিল. জনতার পারমানবিক শক্তির বিরুদ্ধে আন্দোলন নামে সংগঠনের নেতা এস. পি. উদয়কুমার এই অর্থ নিয়েছিল হেরম্যান নামক লোকটির কাছ থেকে.

এখন, সুপ্রীম কোর্টের রায়ের পরে একাধিকবার চালু হতে গিয়ে বাধা পাওয়া কুদানকুলাম বিদ্যুত কেন্দ্রের আর কাজ শুরু করায় কোন বিলম্ব হওয়ার কথা নয়, অন্তত এই কথাই ভারতের শক্তি উত্পাদনের বিশেষজ্ঞরা মনে করেন. তাঁরা খুব ভাল করেই বুঝতে পেরেছেন যে, রাশিয়ার সহায়তায় তৈরী কেন্দ্রকে হেয় করার পিছনে রয়েছে বাইরের দেশের পারমানবিক শক্তি উত্পাদক কোম্পানীরা. আর স্থানীয় রাজনীতিতে যারা মাথা চাড়া দিতে চাইছে. তাদের জন্য তামিলনাডু বা পশ্চিমবঙ্গের অথবা বাংলাদেশের পরিবেশ সংরক্ষণ কোনও মুখ্য বিষয় নয়, তারা কাজ করছে বাইরের দেশের “দানে” ও চেষ্টা করছে বিরোধকে ব্যবহার করে স্থানীয় বিধানসভাতে জায়গা পাওয়ার.