মস্কোয় বিশ্বের সর্বোচ্চ দৃশ্য অবলোকনের নাগরদোলা নির্মান করা হবে. ‘রাজধানীর দৃশ্যাবলী’ নামের মজাদার বস্তুটির উচ্চতা হবে ২২০ মিটার. রাশিয়ার রাজধানীর দৃশ্যাবলী উপভোগ করা যাবে দক্ষিণ-পশ্চিম দিক থেকে – সেখানেই নজিরবিহীন মনমাতানো কমপ্লেক্সটি বসানো হবে.

যারা মস্কোকে দেখতে চান উচ্চতা থেকে, তাদের আর ১০০ মিটার উচ্চতাবিশিষ্ট ফেডারেশন টাওয়ারে চড়তে অথবা আগে থেকে লাইন দিয়ে ৫৪০ মিটার দীর্ঘ ওস্তানকিনস্কি টিভি টাওয়ারে উঠতে হবে না. বিষদে এই প্রসঙ্গে জানাচ্ছেন মস্কো স্থাপত্য সমাজের সভাপতি বরিস উবোরেভিচ-বরোভস্কি.-

আমার মনে হয়, যে মানুষের মধ্যে এই আইডিয়ার রুপায়নের চাহিদা রয়েছে - তারা চায় মস্কো দেখার নাগরদোলা. মস্কোয় খুব বেশি সুউচ্চ, অবলোকনযোগ্য বিন্দু নেই. ঘূর্ণায়মান চক্র সেই সুযোগ এনে দেবে. লন্ডনেও এরকম ঘূর্ণায়মান চক্র অত্যন্ত জনপ্রিয়, কারণ সেখানে গগনচুম্বী ভবনের সংখ্যা বেশি নয়. আগত পর্যটকদের সুযোগ থাকে পাখির চোখ দিয়ে নগরীকে অবলোকন করার. আমি মনে করি, যে মস্কোতেও সেরকম পর্যটকের সংখ্যা প্রচুর.

আজকের দিনে পৃথিবীতে দৃশ্য অবলোকনের জন্য সবচেয়ে উঁচু ঘূর্ণায়মান চক্র রয়েছে এশিয়ায়. ‘হাওয়ায় ভাসা সিঙ্গাপুর’ শহরের মাথার উপর ১৬৫ মিটার উচ্চতায় মানুষকে নিয়ে যায়. প্রথম পাঁচটির মধ্যে আর আছে চীনের নানচান, লন্ডন, মেলবোর্ন ও জাপানের ফুকুওকা. উদাহরন স্বরূপ, ‘লন্ডনের চোখে’ আরোহন করে গড়ে বছরে ৩০ লক্ষেরও বেশি মানুষ. বিখ্যাত ঐ ঘূর্ণায়মান চক্র থেকে দেখা যায় পার্লামেন্ট হাউস, টেমস নদী. মস্কোয় শহরের কেন্দ্রস্থলে চক্র নির্মান না করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে, যদিও ভেঙে ফেলা ‘রাশিয়া’ হোটেলের জায়গায় অনায়াসেই তা করা যেতে পারতো. পাশেই ক্রেমলিন, জেসাস দ্য সেভিয়ার গির্জা, মস্কো নদী. কিন্তু স্থাপত্যবিদদের পরিচালন সংঘের সদস্য মাক্সিম পেত্রোভ বলছেন, যে সেটা হতো কেন্দ্রস্থলের স্থাপত্যের অবয়বে বড়সড় ব্যাঘাত.-

শহরের কেন্দ্রে, ঐতিহাসিক দৃশ্যপট ভেঙেচুরে এরকম নির্মানকাজ করা ঠিক হবে না. বরং বেশি সুবুদ্ধির কাজ হবে শহরের আধুনিক নির্মায়মান এলাকায় সেটিকে বসানো, যেখানে ঐতিহাসিক বাতাবরন অনুপস্থিত. মূলমন্ত্র হচ্ছে – ক্ষতি না করা, যাতে ঐতিহাসিক অবয়ব লঙ্ঘিত না হয়. দক্ষিণ-পশ্চিম যথাযথ এলাকা. এটা মস্কোর উঁচু অংশ, ওখানকার দৃশ্যপট মন জুড়িয়ে দেয়.

মস্কোয় প্রথম ঘূর্ণায়মান চক্র স্থাপন করা হয়েছিল ১৯৫৮ সালে ইজমাইলভস্কি পার্কে. আজও ওটায় চড়া যায়. আর এখনো পর্যন্ত সবচেয়ে উঁচু চক্রটি অবস্থিত সারারাশিয়া প্রদর্শনী কেন্দ্রে, যার উচ্চতা ৭০ মিটার.

পৃথিবীতে প্রথম ঘূর্ণায়মান চক্রের আবির্ভাব হয়েছিল ১৮৯৩ সালে. ওটা নির্মান করেছিলেন আমেরিকার ইঞ্জিনীয়ার জর্জ ফেরিস শিকাগোয় সারাবিশ্ব প্রদর্শনীতে. আজকের দিনে পৃথিবীতে সবচেয়ে বয়স্ক ঘূর্ণায়মান চক্রটি কাজ করে ভিয়েনার প্রাটের পার্কে. শতাধিক বছরের প্রাচীণ প্রৌঢ়-চক্রটি এখনো পর্যটকদের ওপরে তোলে.

আধুনিক দৃশ্য অবলোকন চক্র হচ্ছে ইঞ্জিনীয়ারিং ভাবনাচিন্তার অবাধ উড়ান. মস্কোয় ভাবী নাগরদোলাটিতে কোনো রড় থাকবে না. দূর থেকে তাকে দেখতে লাগবে দুটি জুড়ে যাওয়া ওয়েডিং রিংয়ের মতো. সমতলে থাকবে পেক্ষাগৃহ, ২৪ ঘন্টা খোলা স্কেটিং রিং, সুইমিং পুল ও বিবাহবন্ধন প্রাসাদ. ৭০-তলা বাড়ির সমান উঁচু চক্রটি হাওয়ায় ভেসে থাকবে. এই ঘূর্ণিয়মান চক্রটি নির্মানের কাজ শেষ করা হবে ২০১৮ সালে, রাশিয়ায় আয়োজিতব্য বিশ্বকাপ ফুটবলের উদ্বোধনের প্রাক্কালে.