চলতি বছরেই রুশী বিজ্ঞানীরা একটি মাপক যন্ত্রের নিরীক্ষা করা শুরু করতে পারেন, যা প্লুটোনিয়ামবাহী অস্ত্রের নির্ভুল সন্ধান দিতে সক্ষম হবে. রাশিয়ার সংবাদ মাধ্যমগুলি এই খবর প্রচার করছে. আন্তর্জাতির পারমানবিক শক্তি এজেন্সীর বিশেষজ্ঞদের পাওয়া তথ্যাবলী যাচাই করে সত্যাসত্য নিরুপণ করতে পারবে ঐ যন্ত্রটি.

বিজ্ঞানীরা জোর দিয়ে বলছেন, যে যন্ত্রটিকে ধোঁকা দেওয়া সম্ভব হবে না. রিএ্যাকটরগুলির কাজের দিকে নজর রাখবে নিউট্রন কণা. সুইজারল্যান্ডের বিজ্ঞানী ওলফহ্যাঙ্গ পাউলি সেই ১৯৩০ সালে এরকম সম্ভাবনার পূর্বাভাস দিয়েছিলেন. আর বিংশ শতাব্দীর শেষদিকে রাশিয়ার কুর্চাতভ ইনস্টিটিউটের পদার্থবিদরা নিউট্রনের সামর্থ্যের ব্যবহারিক প্রয়োগ ঘটানোর প্রস্তাব দেন. তারা প্রমাণ করে দিয়েছেন, যে এর সাহায্যে পারমানবিক রিএ্যাকটরের কাজের ডায়াগনসিস করা যায়.

আমেরিকা এবং জাপানেও নিউট্রন নিয়ে গবেষণা চলছে. বিশেষজ্ঞরা বলছেন, যে নিউট্রনের স্রোত পরিমাপ করে রিএ্যাকটরের গোটা কার্যচক্রটিকে অনুসরন করে অনুধাবন করা যেতে পারে – নতুন জ্বালানী লোড করা থেকে শুরু করে ব্যবহৃত জ্বালানী আনলোড করা পর্যন্ত. বোঝা সম্ভব, যে কতখানি ক্ষমতা নিয়ে রিএ্যাকটর কাজ করছে, আর মুখ্য হচ্ছে, কতখানি প্লুটোনিয়াম ব্যবহৃত হয়েছে.

আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা কেন্দ্রের কর্মী পেওতর তোপীচকানভ ‘রেডিও রাশিয়া’কে বলেছেন, যে এরকম যন্ত্র বসানো যেতে পারে সর্বাধিক পাকড়াওযোগ্য জায়গাগুলিতে – বন্দরে, রেলজংশনে ও স্থল পরিবহনের হাইওয়েগুলিতে. এর সুবাদে পারমানবিক মালমসলা বেহাত হওয়া ও তার পরিবহন রোখা যেতে পারা যাবে.-

এই বিষয়টি সেই সব দেশের ক্ষেত্রে বেশি গুরুত্বপূর্ণ, যাদের পারমানবিক ক্রিয়াকলাপ নিয়ে প্রশ্ন থেকে যাচ্ছে. সাম্প্রতিক কালে পাকিস্তানের, ভারতের পারমানবিক প্রশ্ন নিয়ে উদ্বেগ ধ্বনিত হচ্ছে. পারমানবিক মালমসলা বেহাত হলে, তা পারমানবিক সন্ত্রাসের হাতিয়ার হওয়ার সম্ভাবনার সৃষ্টি করবে. এই বিপদাশঙ্কা গুরুতর এবং আমাদের বিজ্ঞানীরা, যারা রাষ্ট্রের ফরমায়েশ পালন করেন, চেষ্টা করছেন নিউট্রন প্রযুক্তির মাধ্যমে ঐ বিপদাশঙ্কা রুখতে.

বিশেষজ্ঞটি জোর দিয়ে বলছেন, যে সামরিক পারমানবিক প্রযুক্তি ছড়াতে না দেওয়ার দায়িত্বপ্রাপ্ত আন্তর্জাতিক পারমানবিক শক্তি এজেন্সীর নিজস্ব প্রযুক্তিগত গোয়েন্দাগিরি করার মতো সামর্থ্য নেই. ঐ সংস্থার বিশেষজ্ঞরা কেবলমাত্র সেই তথ্য পান, যা রাষ্ট্রগুলি স্বেচ্ছায় দেয়, যেমন, পারমানবিক কেন্দ্রগুলির কাজের রিপোর্ট. অথবা তারা ব্যবহার করেন বিভিন্ন জাতীয় গোয়েন্দা বিভাগের দ্বারা সংগৃহীত তথ্য.-

ইরান, দক্ষিণ কোরিয়ার পারমানবিক প্রকল্পাবলী ও ইস্রায়েলের পারমানবিক কর্মসূচীর বিষয়ে আন্তর্জাতিক পারমানবিক শক্তি এজেন্সী কেবলমাত্র অন্যান্য দেশের গুপ্তচর বিভাগের দ্বারা যোগানো তথ্যাবলীর উপর নির্ভর করে. আন্তর্জাতিক পারমানবিক শক্তি এজেন্সী সম্মানজনক সংস্থা, যার রিপোর্টের ওপর ভিত্তি করে জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদ কোনো রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে বিধিনিষেধ আরোপ করে. আন্তর্জাতিক পারমানবিক শক্তি এজেন্সীর কাছে যে সব তথ্য রয়েছে, তা পুণরায় যাচাই করে দেখা অপরিহার্য.

তোপীচকানভের মতে, এইভাবেই নিউট্রন সম্বলিত নিয়ন্ত্রণ প্রযুক্তি সশস্ত্র পারমানবিক প্রযুক্তির বিস্তার রুখতে পারে. একই সময়ে তা আন্তর্জাতিক পারমানবিক শক্তি এজেন্সীকে রাজনৈতিক স্বার্থসিদ্ধির হাতিয়ারে পর্যবসিত হতে দেবে না. কারণ রুশী বিজ্ঞানীরা যে যন্ত্রের নিরীক্ষা করতে যাচ্ছেন, সেটি হয় প্রাপ্ত তথ্যের সত্যতা প্রমাণ করবে নয়তো তা নস্যাত্ করে দেবে.