.

এই তো সেদিনও আয়ুর্বেদ শব্দটা উচ্চারন করলে অনুসন্ধিত্সু রুশবাসীরা আগ্রহ প্রকাশ করতেনঃ এর মানে কি? আর এখন রাশিয়ার ঔষধালয়গুলিতে লোকে প্রায়ই খোঁজ নেয় অমুক বা তমুক আয়ুর্বেদীয় ওষুধ আছে কিনা. উপরন্তু সদ্য দেশের সবচেয়ে খ্যাতিমান মেডিক্যাল ইনস্টিটিউট – সেচেনোভার নামাঙ্কিত মস্কোর প্রথম রাষ্ট্রীয় চিকিত্সা বিশ্ববিদ্যালয়ে অনুষ্ঠিত হল আয়ুর্বেদের উপরে রাশিয়ায় প্রথম সর্বরাশিয়া কংগ্রেস.

ইন্দো-রুশী আয়ুর্বেদ পরিষদের কার্যনির্বাহী আধিকারিক দেনিস কুজমিন উল্লেখ করছেন – বস্তুত এটা রাশিয়ায় ভারতের ঐতিহ্যগত চিকিত্সাবিদ্যা এবং ভারতের সবচেয়ে প্রাচীণ বিজ্ঞানের, যার বয়স ৫ হাজার বছর অতিক্রান্ত, তার আইনিকরণের প্রথম ধাপ. বহু রুশবাসী ভারত ভ্রমণ করে আয়ুর্বেদের উপযোগিতা উপলব্ধি করেছেন. আয়ুর্বেদে ওষুধপত্র তৈরি করা হয় প্রাকৃতিক উপাদান দিয়ে এবং তাদের কোনো পরবর্তী নেতিবাচক প্রতিক্রিয়া হয় না মানবশরীরে.-

দেনিস কুজমিন বলছেন, যে রোগীদের কাম্য, যাতে আয়ুর্বেদ রাশিয়ায় আসন গ্রহণ করে. – “এবং আমাদের কর্তব্য হচ্ছে আয়ুর্বেদের সাথে রাশিয়ার সেই চিকিত্সাদুনিয়ার আদানপ্রদানের পদ্ধতি খুঁজে বের করা, যারা বেশি ঘনিষ্ঠভাবে জানে পশ্চিমী দুনিয়ায় উদ্ভাবিত চিকিত্সা পদ্ধতি ও ওষুধপত্র. সেইজন্যই কংগ্রেসে যোগদানের জন্য আমরা আমন্ত্রণ জানিয়েছিলাম রাশিয়ার চিকিত্সাবিদ্যার প্রতিনিধিবর্গকে, গবেষণাকারী ও উত্পাদনকারী কেন্দ্রগুলিকে, এ দেশের আইনপ্রণেতাদের এবং ভারতে লাইসেন্সধারী বৃহত্ আয়ুর্বেদ কেন্দ্রগুলির ও সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়গুলির প্রতিনিধিদের”.

আয়ুর্বেদকে স্বদেশী চিকিত্সাবিদ্যার অবিচ্ছেদ্য অংশে পরিণত করার বিষয়ে ভারত ও রাশিয়ার মধ্যে কয়েকটি স্মারকপত্র স্বাক্ষরিত হয়েছে. এবং এই অভিমুখে ব্যবহারিক কার্যকলাপের কয়েকটি নমুনা আছে. ভারতীয় চিকিত্সকরা ১৯৮৯ সালে চের্নোবিলের পারমানবিক বিদ্যুত্কেন্দ্রে বিস্ফোরণের শিকার একদল রুশী শিশুর চিকিত্সা করেছিলেন. নব্বইয়ের দশকের শেষাশেষি কেরালার কোট্টাল শহরের আয়ুর্বেদ কেন্দ্রের বিশেষজ্ঞরা দু’বছরেরও বেশি সময় ধরে রাশিয়ার চিকিত্সকদের সাথে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে আয়ুর্বেদী পদ্ধতিতে ১০০ জনেরও বেশি শিশুর চিকিত্সা করেছিলেন ব্রঙ্কাল অ্যাসথমা, সেরিব্রাল প্যারালিসিস, পাকস্থলী ও অন্ত্রের রোগব্যাধীর. গাছপাতা, শেকড়, মাসাজ, যোগের মাধ্যমে চিকিত্সার সুবাদে তখন চিকিত্সাধীন সকল শিশুরই শারিরীক অবস্থার লক্ষনীয় উন্নতি হয়েছিল দীর্ঘকালের জন্য. কিন্তু তাদের চিকিত্সা করেছিলেন দিকপাল আয়ুর্বেদ পন্ডিতরা. তারপরে এর ক্রমবিকাশ আর ঘটেনি. রাশিয়ায় আয়ুর্বেদে ডিগ্রিধারী চিকিত্সক নেই. এবং আপাততঃ রাশিয়ায় আয়ুর্বেদের বিকাশ ঘটছে ব্যক্তিবিশেষের অপেশাদারী উদ্যোগে.

তবে রাশিয়ার চিকিত্সকদের সঙ্গে মতবিনিময়. আলাপ-আলোচনা এই সাক্ষ্য দেয়, যে রাশিয়ায় আয়ুর্বেদ চিকিত্সা পদ্ধতির অগ্রগমনের সম্ভাবনা খালি চোখেই দেখা যাচ্ছে – বলছেন ভারতের কেন্দ্রীয় চিকিত্সা পরিষদের ডেপুটি ডিরেক্টর জয়প্রকাশ নারায়ন. তিনি ছিলেন উপরোক্ত কংগ্রেসে সম্মানীয় অতিথি.-

জয়প্রকাশ নারায়ন উল্লেখ করছেন – “আমাকে রীতিমতো উদ্দীপিত করেছে রুশী চিকিত্সকদের আয়ুর্বেদের প্রতি নিখাদ আগ্রহ. প্রত্যেক প্র্যাক্টিসরত ডাক্তার, সে তিনি যে লাইনেই কাজ করুন না কেন, আধুনিক ওষুধপত্রের সামর্থ্য ও তার সীমারেখা উপলব্ধি করছেন ও তাই বিদেশের বিভিন্ন অগ্রণী চিকিত্সা পদ্ধতির সাথে পরিচয় করছেন. দেশবিদেশের চিকিত্সকরা এই উদ্দেশ্যে আয়ুর্বেদের শরণাপন্ন হচ্ছেন, যা এ্যালোপ্যাথির সাথে সমন্বয়ে সদর্থক ফলাফল দেয় এমনকি ক্রনিক রোগব্যাধীর প্রতিষেধনে ও নিরাময়ে”. জয়প্রকাশ নারায়ন বিশেষ করে উল্লেখ করছেন – “আমরা উদারহাতে ভারতের আয়ুর্বেদ শিক্ষা, গবেষণা ও উত্পাদন কেন্দ্রগুলিতে অর্জিত অভিজ্ঞতা রাশিয়ার ডাক্তারদের সঙ্গে ভাগ করে নিতে তৈরি এবং সেইসাথেই ভারতীয় বিশেষজ্ঞদের রাশিয়ায় পাঠাতে প্রস্তুত”.

ইন্দো-রুশী আয়ুর্বেদীয় পরিষদের উদ্যোগশীল চিকিত্সকদের মতে, রাশিয়ায় আয়ুর্বেদের অগ্রযাত্রার ক্ষেত্রে নতুন স্পন্দনের কাজ করবে দেশের চিকিত্সাবিদ্যা কেন্দ্রগুলিতে বিজ্ঞানের এই শাখার কোর্স চালু করা. এবং এই লক্ষ্য সাধনের জন্য তারা প্রয়াস চালিয়ে যাচ্ছেন,