আপনারা পড়ছেন ও শুনছেন রেডিও রাশিয়া প্রচারিত অনুষ্ঠানঃ ‘রাশিয়া-ভারতীয় উপমহাদেশ - ঘটনাবলী, মানুষজন, তারিখ’.এই অনুষ্ঠানের পরিসরে আপনাদের কাছে পেশ করছি ‘স্মরণীয় তারিখগুলি’ নামক আমাদের মাসিক আলেখ্য, যেখানে আমরা স্মরণ করি সেইসব গুরুত্বপূর্ণ ঘটনাবলী ও ব্যক্তিত্বদের, যেগুলি ও যারা রাশিয়ার সাথে ভারতীয় উপ-মহাদেশের দেশগুলির পারস্পরিক সম্পর্কের ইতিহাসে বিশিষ্ট ভূমিকা রেখেছে ও রেখেছেন.

এ বছরে মে দিবসেই রাশিয়ার সাথে পাকিস্তানের কূটনৈতিক সম্পর্ক স্থাপনের ৬৫ বছর পূর্তি হল. পারস্পরিক রাষ্ট্রদূতদের বিনিময় হয়েছিল তার দুবছর পরে, ১৯৫০ সালে. রাশিয়ার সাথে পাকিস্তানের সম্পর্কের ইতিহাসে যেমন ছিল সক্রিয় সহযোগিতার পর্ব, তেমনই শীতলতার অধ্যায়. বর্তমানে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক বিষয়ে, যেমন, সন্ত্রাসবাদের মোকাবিলা, আঞ্চলিক নিরাপত্তা মজবুত করা ও স্থিতিশীলতা অর্জনের প্রশ্নে আমাদের দুই দেশের অবস্থান ও স্বার্থের ঘনিষ্ঠতা লক্ষ্য করা যাচ্ছে. শাংহাই সহযোগিতা সংস্থা, যার সদস্য রাশিয়া, চীন, কাজাখস্তান, উজবেকিস্তান, তাজিকিস্তান ও কির্গিজিয়া, সেখানে পর্যবেক্ষকের ভূমিকা পালন করছে পাকিস্তান ২০০৫ সাল থেকে. আশা করা হচ্ছে, যে ২০১৩ – ২০১৫ সালের জন্য নির্দিষ্ট সাংস্কৃতিক ও বিজ্ঞান-প্রযুক্তিগত সহযোগিতা চুক্তি অদূর ভবিষ্যতে স্বাক্ষর করবে রাশিয়া ও পাকিস্তান.ইসলামাবাদে আবার নতুন করে রুশী সাংস্কৃতিক কেন্দ্র খোলার পরিকল্পনা করা হয়েছে, যেখানে রুশী ভাষা শিক্ষার ক্লাসও চালু করা হবে. তাছাড়াও পাকিস্তানের ন্যাশনাল এ্যাসেম্বলি ও রাশিয়ার রাষ্ট্রীয় দ্যুমার মধ্যে সহযোগিতা বিষয়ক সম্মতিপত্র স্বাক্ষর করার ব্যাপারেও বোঝাপড়া হয়েছে.

“অবশেষে আমি রাশিয়ায় এসে পৌঁছেছি. যা দেখছি, আশ্চর্য লাগছে. অন্য কোনো দেশের মতো নয়. একেবারে গোড়া থেকে অন্যরকম”, - এই কথাকটি দিয়ে কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর শুরু করেন তাঁর ‘রাশিয়ার চিঠি’ বইটি.৬৯ বছর বয়সে ১৯৩০ সালে তিনি আমাদের দেশ সফর করেন. উপরোক্ত বইটির প্রথম পাতা থেকে শেষ পাতা পর্যন্ত সম্পৃক্ত ছিল লেখকের রাশিয়ার প্রতি আন্তরিক ভালোবাসায়. তাই রাশিয়ার রাজধানীর অন্যতম একটি নাগরিক পার্কে ঐ মহান বাঙালী মনীষির ব্রোঞ্জনির্মিত বিশালাকার স্মৃতিমূর্তি কাউকে বিস্মিত করে না. মহান ভারতীয় কবি, লেখক, দার্শনিক, শিল্পী, শিক্ষাবিদ ও নাট্যকার কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ১৮৬১ সালের ৭ই মে জন্মগ্রহণ করেছিলেন.

৯ই মে – নাত্সী জার্মানীর বিরুদ্ধে রাশিয়া ও মিত্রশক্তির ৬৮-তম বিজয়োত্সব উদযাপিত হবে. দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের ফ্রন্টে ভারতীয় সামরিক কর্মচারীরাও কাঁধে কাঁধ দিয়ে লড়াই করেছিলেন. সোভিয়েত ইউনিয়নের সামরিক পদকে ভূষিত হয়েছিলেন ক্যাপ্টেন রাম সিং, সাব-লেফটেন্যান্ট উইলিয়ামস, সুবেদার নারায়ন রাও নিক্কাম, পৃথ্বা সিং কুরুঙ্গ, হাবিলদার গজেন্দর সিং. ভারতীয়সামরিক কর্মচারীরা ভারত থেকে ইরান হয়ে সামরিক মালপত্র পাহারা দিয়ে নিয়ে আসতো রাশিয়ায়.মাল পাহারা দিয়ে নিয়ে আসা ছিল বিপদসঙ্কুল কাজ. যাত্রাপথে রাস্তাঘাটে, বিশেষতঃ পাহাড়ী অঞ্চলে, তারা প্রায়ই নাত্সী চরদের হামলার শিকার হতো.

ভারতীয় উপ-মহাদেশের দেশগুলিতে বেতার সম্প্রচারণের ৭১ বছর পূর্ণ হচ্ছে. ভারতীয় উপ-মহাদেশের অধিবাসীদের জন্য ১৯৪২ সালের ১৮ই মে প্রথম ১৫ মিনিটের অনুষ্ঠান সম্প্রচারিত হয়েছিল হিন্দি ও উর্দু ভাষায়. রেডিও মস্কো সেই দিন থেকে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের শেষদিন পর্যন্ত ফ্রন্ট থেকে সর্বশেষ সংবাদ প্রচার করেছিল. সেই সময় অধিকাংশ ভারতীয়ের জন্য বেতার ছিল একমাত্র সংবাদ জানার উত্স. এখন ‘রেডিও রাশিয়া’ মিডিয়াম ও শর্ট ওয়েভে সম্প্রচারণ চালিয়ে যাচ্ছে এবং তাছাড়াও ইন্টারনেটে তার নিজস্ব সাইটে রুশী এবং বাংলা, হিন্দি, উর্দু সহ মোট ৩৮টি বিদেশী ভাষায় অনুষ্ঠান পরিবেশন করে.

স্বাধীন ভারতের প্রথম প্রধানমন্ত্রী পন্ডিত জওহরলাল নেহরু বলেছিলেন –“নির্মানের বিশাল মঞ্চ, যেখানে হাজার হাজার মানুষ গড়ে তুলছে প্রকান্ড আকারের সব শিল্প কারখানা, যা দেখে মনে হবে ঠিক যেন মন্দির, গির্জা ও মসজিদ গড়া হচ্ছে”. তার কাজের ক্যাবিনেটে গোটা একটা দেওয়াল ধরে ঝুলতো ভারতের বিশাল একটি মানচিত্র. ঐ মানচিত্রটির ওপর তিনি নিজ হাতে নির্মীয়মান সব কল-কারখানাকে বিন্দুবদ্ধ করতেন. নেহরু প্রায়ই মানচিত্রটির কাছে এগিয়ে গিয়ে দীর্ঘসময় ধরে একাগ্রমনে সেগুলিকে অবলোকন করতেন. তাঁর স্বপ্ন রুপায়নে রাশিয়া গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছিল. রাশিয়ার প্রযুক্তিগত সহযোগিতায় নির্মিত হয়েছিল ভিলাই, বোকারো ও বিশাখাপত্তনমেইস্পাত কারখানা, দূর্গাপুরে এমএএমসি, রাঁচিতে হেভি-ইঞ্জিনীয়ারিং কারখানা, কোর্বায় এ্যালুমিনিয়াম কারখানা, বারাউনি ও মথুরাতে ওয়েল রিফাইন্যারি, কয়েকটি তাপ ও জলবিদ্যুত কেন্দ্র ও অন্যান্য কল-কারখানা. পন্ডিত জওহরলাল নেহরু প্রয়াত হন ১৯৬৪ সালের ২৭শে মে.