জাপানের বিজ্ঞানীরা অন্যের স্বপ্নে “উঁকি দিয়ে” দেখে নিতে শিখে ফেলেছেন. নারা নামের শহরের বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি ইনস্টিটিউটের কর্মীরা এবার ঘোষণা করেছেন যে, তারা মানুষের অবচেতন মনে উঁকি দিয়ে দেখতে পেরেছেন ও নির্দিষ্ট করে বলতে পারছেন, সে কি নিয়ে স্বপ্ন দেখছে. তাদের পরবর্তী লক্ষ্য – এই স্বপ্নের ভিডিও তুলে রাখা.

স্বপ্ন দেখা মানুষের মস্তিষ্কের এক সবচেয়ে কম গবেষণা হওয়া কাজ. জাপানের বিজ্ঞানীরা চেষ্টা করেছেন বিজ্ঞানের এই ক্ষেত্রেও বিকাশ ঘটাতে. তাঁরা তিনজন পুরুষ মানুষকে ডেকে এনে পরীক্ষা করে দেখেছেন. তাদের ঘুমের সময়ে বিশেষ ধরনের যন্ত্রের সঙ্গে জুড়ে দেওয়া হয়েছিল, যা মস্তিষ্কের কাজ লক্ষ্য করতে সক্ষম. তথাকথিত দ্রুত ঘুমের সময়ে, যখন চোখের মণি পাতার তলায় দ্রুত নড়াচড়া করতে থাকে, আর মস্তিষ্কে দেখতে পাওয়া যায় যে সজীব ভাবে কাজকর্ম হচ্ছে, তখন এই সব পরীক্ষার লোকদের জাগিয়ে তুলে প্রশ্ন করা হয়েছিল যে, তারা কি দেখছিলেন স্বপ্নে. প্রত্যেক পুরুষকে ২০০ বারের মতো জাগিয়ে তোলা হয়েছিল. তারপরে বিজ্ঞানীরা তাদের বলা বর্ণনাকে মস্তিষ্কের বিভিন্ন জায়গার সক্রিয়তার সঙ্গে তুলনা করে দেখেছিলেন. ফলে তৈরী করা হয়েছিল এক কম্পিউটার প্রোগ্রাম, যা স্বপ্নে দেখা ছবিকে প্রায় শতকরা সত্তর ভাগ পর্যন্ত জট ছাড়াতে পারে.

জাপানের বিজ্ঞানীদের এই আবিষ্কার খুব বড় রকমের বাস্তব ব্যবহার পেতে পারে, এই রকম মনে করে মনস্তত্ববিদ চিকিত্সক লিওনিদ ত্রেতিয়াক বলেছেন:

“প্রথমতঃ, এই “দ্রুত ঘুমের” সময়ে পরীক্ষা, প্রক্রিয়ার দৃষ্টিকোণ থেকে তাতে যা ঘটে, তা নিয়ে গবেষণা করার সুযোগ দেয়. এর ফলে আউটিজম, সিজোফ্রেনিয়া অথবা এন্ডোজেনাস ডিপ্রেসনের সময়ে যে সমস্ত বাস্তব সম্বন্ধ সমেত কষ্টের অনুভূতির এলাকা রয়েছে, তাতে পরবর্তী সময়ে প্রবেশ করা যেতে পারে. একটা ধারণা রয়েছে যে, ডিপ্রেসনের সময়ে মাথায় স্বপ্ন আসে ব্যাথার ঘটনা নিয়ে. দ্রুত ঘুম হয় খুবই চাপের, ভয়ঙ্কর ও ডিপ্রেসনের রোগীরা ঘুম থেকে ওঠেন এক ধরনের বিষাদ ও ক্লান্তির অনুভূতি নিয়ে. এই সবই প্রকট হতে পারে. তাছাড়া, এর জন্য টেলিপ্যাথি করে যোগাযোগের বিনিময় করার জন্য কোড তৈরী করা যেতে পারে, যা আগে মনে করা হয়েছে শুধু কাল্পনিক ভাবেই সম্ভব”.

জাপানের বিজ্ঞানীদের পরবর্তী লক্ষ্যও কিছু কম অবাস্তব অথচ দারুণ লাগছে না. তাঁরা ঠিক করেছেন ঘুমের অন্য সময়েও স্বপ্নের ব্যাখ্যা করতে যাচ্ছেন আর তারপরে ঠিক করেছেন একটা যন্ত্র তৈরী করার, যা অবচেতন মনে দেখা ছবিকে পর্দায় এনে ফেলতে পারবে. যদি স্বপ্নকে শব্দ, চরিত্র, রঙ অন্যান্য খুঁটিনাটি সমেত পর্দায় দেখানো সম্ভব হয় – তবে একটা সত্যিকারের ভিডিও দেখতে পাওয়া যাবে, এই কথা উল্লেখ করে রাশিয়ার ঘুম নিয়ে গবেষকদের সংগঠনের সভাপতি রোমান বুজুনভ বলেছেন:

“আমি মনে করি যে, যে প্রথম এই স্বপ্নের ছবিকে পর্দায় দেখাতে পারবে অথবা কোন মেমরি কার্ডে ধরে রাখতে পারবে, তাকে সঙ্গে সঙ্গেই নোবেল পুরস্কার দেওয়া হবে. যদি অবশ্য কোন গুপ্তচর সংস্থা এটাকে গোপনীয় তথ্য বলে আলাদা করে আটকে না দেয়. আপনারা তো বুঝতেই পারছেন, অন্যের স্বপ্ন নিয়ে নেড়েচেড়ে দেখতে পারলে মন্দ হয় না. আর যদি তা যৌন বিষয় নিয়ে হয় ও সেটা প্রথমে তুলে রেখে তার পরে আবার দেখানো হয়? আবার সেই স্বপ্ন যদি কোন নামী দামী লোকের হয়, কোন রাজনীতি সম্পর্কের লোক বা সে রকম কারো? তখন এটাই হয়ে দাঁড়াতে পারে অনেক সমস্যার ব্যাপার”.

প্রসঙ্গতঃ, এই অবধি যেতে বেশী দিন লাগবে না. যাঁরা মৌলিক বিজ্ঞান নিয়ে কাজ করছেন, তাঁরা অবশ্য জাপানের বিজ্ঞানীদের এই ঘোষণাকে কিছুটা বাড়িয়ে বলা বলে উল্লেখ করেছেন. খুব সম্ভবতঃ, তাঁরা এই ধরনের পথে এগিয়েছেন, যাতে নিজেদের গবেষণার প্রতি দৃষ্টি আকর্ষণ করা সম্ভব হয় ও পরবর্তী কালে এর জন্য আর্থিক প্রয়োজন মেটানো যায়, এই কথা উল্লেখ করে এক মন বিশ্লেষক সের্গেই আভাকুমভ বলেছেন:

“এই যে পরীক্ষা করে দেখা হয়েছে, তা দ্রুত ঘুমের সময়ে মগজের নানা জায়গায় সক্রিয়তা লক্ষ্য করে দেখেছে. আর তারপরে পরিসংখ্যান তথ্যের উপরে নির্ভর করে দেখা হয়েছে যে, বেশীর ভাগ লোকের ক্ষেত্রে কি প্রায়শঃই হয়ে থাকে. মায়ের চরিত্র উদ্ভব হওয়ার সঙ্গে মগজের এই জায়গাটা ধরা যাক সক্রিয় হয়েছে, কিন্তু তার বেশী কিছু নয়. তাই বলে দেওয়া যে, এটাকে এবারে দেখানো সম্ভব হবে, তা আলতো করে বলতে হলে, বলা যেতে পারে যে সময়ের আগেই ঘোষণা করা হয়ে গেছে”.

সুতরাং এখনও সবাই শান্তিতে ঘুমোতে পারেন – স্বপ্নের মধ্যে কেউই লুকিয়ে ঢুকে পড়তে পারবে না আর অবচেতন মনের গোপন রহস্য বিশ্বের কাছে ফাঁস করে দেবে না. কিন্তু এটা – অবশ্য আপাততঃ. এক সময়ে মোবাইল ফোন ব্যাপারটাও ছিল খুবই অবাস্তব আর কাল্পনিক ব্যাপারের মতোই.