কিরগিজিস্তানের রাজধানী বিশকেকে সাংহাই সহযোগিতা সংস্থার প্রতিনিধিদের এক বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে। অবৈধ মাদক পাচার প্রতিরোধে সংস্থার প্রতিনিধিদের নিয়ে ওই বৈঠকের আয়োজন করা হয়।

আফগানিস্তান থেকে হিরোইন পাচাররোধে করনীয় শীর্ষক ভূমিকা কি হতে পারে তাই এবারের বৈঠকে আলোচনার মূল বিষয়বস্তু হিসেবে স্থান পায়।

রাশিয়ার ফেডারেল মাদক নিয়ন্ত্রণ সংস্থার পরিচালক ভিক্তর ইভানোভের বলেন, আফগান হিরোইন পাচার সমস্যা শুধুমাত্র আন্তর্জাতিক কমিউনিটির আলোচনার মাধ্যমেই সমাধান করা সম্ভব।

সাংহাই সহযোগিতা সংস্থার সদস্যভুক্ত প্রতিটি দেশের মাদক নিয়ন্ত্রন অধিদপ্তরের পরিচালকরা আফগান মাদকের বিরুদ্ধে যৌথ ঘোষণা দিয়েছেন।

এ সংস্থার সদস্যভুক্ত দেশ রাশিয়া, চীন, উজবেকিস্তান, কাজাকিস্তান, কিরগিজিস্তান ও তাজিকিস্তান নিয়মিত মাদকবিরোধী অভিযান চালিয়ে গেলেও এ সমস্যার সমাধান হচ্ছে না। রাশিয়ার ফেডারেল মাদক নিয়ন্ত্রণ সংস্থার পরিচালক ভিক্তর ইভানোভ আরো বলেন, যে পদক্ষেপ সংস্থার পক্ষ থেকে নেয়া হয় তা আফগান হিরোইন পাচার বন্ধে কোন প্রভাবে ফেলছে না। তিনি আরো বলেন, "অবশ্যই, সাংহাই সহযোগিতা সংস্থার কৌশলগত দিক বিবেচনা করে আফগানিস্তানের মাদক পাচাররোধে আরো কঠোর সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা উচিত। তা না হলে এ কজের সুফল আমরা দেখতে পাবো না।"

বিগত ১২ বছরে মাদক পাচারকারীরা বিশ্বের অন্তত ১০০টিরও বেশি দেশে নিজেদের নেটওয়ার্ক গড়ে তুলেছে। যে পরিস্থিতি তৈরী হয়েছে তা শুধু সামাজিক সমস্যাই নয় বরং রাজনৈতিক সমস্যায় পরিণত হয়েছে বলে মনে করেন ভিক্তর ইভানোভা। রেডিও রাশিয়াকে তিনি আরো বলেন, "মাদকপাচার প্রক্রিয়া খুব দ্রুতই অপরাধী চক্র গঠনে সহায়তা করে যা পরবর্তিতে আধাসামরিক দলে রুপ নেয়। আর এই দল কোন না কোন ভাবে আঞ্চলিক আধিপত্য বিস্তার করতে চাইবে এবং পরিস্থিতিকে অস্থির করার চেষ্টা চালাবে। আর আফগান মাদকপাচার ব্যবস্থা ইউরো-এশিয়ার কিছু অঞ্চলে অস্থিতিকর পরিস্থিতি তৈরী করেছে।"

আগামী ২০১৪ সালে আফগানিস্তান থেকে ন্যাটোর সেনাদের প্রত্যাহারের পরে সাংহাই সহযোগিতা সংস্থার দেশগুলোতে আফগান মাদকপাচারের ঝুঁকি বৃদ্ধি পাবে। সংস্থার সদস্যভুক্ত দেশগুলোকে শুধু একত্রীকরণ করলেই হবে না বরং আফগান মাদকপাচার প্রশ্নে জাতিসংঘের পর্যালোচনায় আনার জন্য যৌথ প্রচেষ্টা চালাতে হবে।