আল কায়দার শীর্ষ নেতা ওসামা বিন লাদেনের নিহত হওয়ার খবরটি দুই বছর আগে মার্কিন রাষ্ট্রপতি বারাক ওবামা জানিয়েছিলেন । এ ঘটনার মধ্য দিয়ে বিগত এক দশকেরও বেশি সময়ে ধরে চলা বিশ্বের ১ নম্বর সন্ত্রাসিকে ধরার মার্কিন অভিযানের সমাপ্তি ঘটেছে ।

ঠিক বিগত দুই বছর ধরে আন্তর্জাতিক উগ্রবাদী চক্র নতুন ধারায় অগ্রসর হচ্ছে । আর তা আল-কায়দা ও এ ধরণের অন্যান্য সংগঠনের ক্ষেত্রেও লক্ষ্য করা যাচ্ছে । কেন এ ধরণের ঘটনা ঘটছে । এ নিয়ে রেডিও রাশিয়াকে জানিয়েছেন পর্যবেক্ষক ইভগেনি এরমালায়েভ । তিনি বলেন, "কিছু দিন ধরেই মার্কিন গণমাধ্যমে ওসামা বিন লাদেনকে আটক করতে পরিচালিত অভিযানের সদস্যদের ওপর স্মৃতিচারণ মূলক প্রতিবেদন প্রকাশ করছে ।

নিজেদের অভিজ্ঞতার কথা তাঁরা বর্নণা করেছেন বিভিন্নভাবে। যেমন নৌবাহিনীর এক সেনা বলেন, বিন লাদেনের মাথায় তিনি গুলি করেন। অন্য আরেকজন বলেন, বিন লাদেনের কাছে অস্ত্র ছিলো না এবং তিনি যখন মেঝেতে শুয়ে ছিলেন তখনই হত্যা করা হয় ।

সাধারণত, এ ধরণের অভিযানের ক্ষেত্রে সনাক্তকরণে ব্যবহার করা নথির কথা উল্লেখ করেন না অংশগ্রহণকারীরা । কিন্তু, এখানে আমরা সেই ধরাবাঁধা নিয়ম মানতে দেখছি না । যুক্তরাষ্ট্রের ১ নম্বর শত্রুকে নিধন করা যা ছিল বারাক ওবামার প্রথম রাষ্ট্রপতি পদের দায়িত্বে থাকাকালিন পররাষ্ট্র রাজনীতিতে সবচেয়ে সাফল্যজনক ঘটনা । মার্কিনীদের তাই নিয়মিতই এ সাফল্যের কথা স্মরণ করা উচিত। আর সেই সাথে বিন লাদেনকে হত্যার সেই অভিযানে অংশগ্রহণকারিদের ভিন্ন ভিন্ন বিবৃতি তাই ভাবিয়ে তুলছে যে, সেই দিন সত্যিই কি ঘটেছিল পাকিস্তানের অ্যাবটাবাদে।"

হয়ত অভিযানের সময়ে বিন লাদেনকে হত্যা করা হয়নি বলে মনে করছেন অনেক বিশেষজ্ঞরা । শুধু এটিই গুরুত্বপূর্ণ কথা নয়, আল-কায়দা গত দুই বছরে আরো সক্রিয় জঙ্গি সংগঠন হিসেবে পরিনত হয়েছে । আল-কায়দা লিবিয়ায় ছাড়াও সিরিয়ায় নিজেদের শক্তি ঘাঁটি গড়ে তুলেছে। আরব বিশ্বের উগ্রবাদী সংগঠনগুলোকে আল-কয়দার কাতারে নিয়ে আসার জন্য এখন চেষ্টা করা হচ্ছে।

এ ধরণের ঘটনা থেকে আনুমান করা যায় যে, আল-কায়দা ও এর সমমনা সংগঠনগুলো পশ্চিমা বিশ্বের দিকে সর্বদা নজরদারি রাখছে। আর পশ্চিমা এদের আর সহ্য করতে পারছে না তবে গোপনে সাহায্য করতে প্রস্তুত রয়েছে শর্তসাপেক্ষে।

বিন লাদেনকে হত্যা করার কারণেই কি আল-কায়দার নতুন করে উথান হলো?। আঞ্চলিক বিশেষজ্ঞ ভিক্তর নাদেইন-রেয়েভস্কা। তিনি বলেন, "আল-কায়দা অনেক আগে থেকেই তাদের নেটওয়ার্ক সম্প্রসারণ করেছে। ছোট ছোট দলে ভাগ হয়ে নিজেদের মত করে কাজ করছে। আর ওসামা বিন লাদেনকে হত্যা করার পূর্ব পর্যন্ত নিজেই ওই নেটওয়ার্ক বিস্তারে প্রধান ভূমিকা পালন করেছেন। তাই, লাদেন বেঁচে আছে নাকি মারা গেছে তা জানা খুব একটা প্রয়োজন নেই। আর যদি তাকে হত্যা করা হয়ে থাকে তাহলে কখন করা হয়েছে। গুরুত্ব দেওয়ার বিষয়ে হচ্ছে অন্যদিকে। মধ্যপ্রাচ্যে পশ্চিমা মিত্র জোটের সহায়তায় একের পর এক ক্ষমতার বদল ঘটানো হচ্ছে যারা আল-কায়দার বিরুদ্ধে অবস্থান করেছিল। আল-কায়দার শত্রু ছিলেন সাদ্দাম হোসেন যাকে মার্কিনরা হটিয়েছে। আল-কায়দা ও অন্যান্য উগ্রবাদীদের বিরুদ্ধে সংগ্রাম করেছিল মুহাম্মর গাদ্দাফি। সিরিয়ার রাষ্ট্রপতি বাশার আসাদ শুরু থেকেই আল-কায়দা দমনের কথা বলে আসছেন। আর সিরিয়ার বিরুদ্ধে যুদ্ধ করছে জিহাদ আন-নুসর নামে সংগঠন যারা নিজেদেরকে বিদ্রোহী বলে পরিচয় দিচ্ছে।"

অস্থিতিশীল পরিবেশ ও দারিদ্র্যের উর্ধমুখী পরিসংখ্যান বিভিন্ন অঞ্চলে ছড়িয়ে পড়ছে। আর দক্ষ উগ্রবাদী সংগঠনের জন্য তা আরো বাড়তি সহায়তা করে। আর এর নেটওয়ার্কের সাথে যারা যুক্ত হয়েছে তাদেরকে ভবিষ্যতের নিশ্চয়তা দেয়া হয়।