মস্কোতে মনে করা হয়েছে যে, সিরিয়ার বিরোধে গণহত্যার অস্ত্র ব্যবহার করা নিয়ে প্রসঙ্গ তোলা হয়েছে কিছু একদেশদর্শী রাজনৈতিক লক্ষ্য সাধনের জন্য আর তা চলতে দেওয়া যায় না. এই বিষয়ে ঘোষণা করেছেন আজ রাশিয়ার পররাষ্ট্র দপ্তরের প্রধান সের্গেই লাভরভ. তিনি বলেছেন, “মনে হচ্ছে বোধহয়, সেই রকমের রাষ্ট্র রয়েছে, যারা মনে করে যে, যাতে সিরিয়ার প্রশাসনকে হঠিয়ে দেওয়া যায়, তার জন্য যে কোন রকমের মাধ্যমই ভাল. কিন্তু গণহত্যার অস্ত্র ব্যবহারের প্রসঙ্গে উত্থাপন খুবই মারাত্মক. এটা নিয়ে কৌতুক করার প্রয়োজন নেই. ভূ-রাজনৈতিক উদ্দেশ্য নিয়ে এই প্রসঙ্গের ফাটকাবাজী করাকে আমি মনে করি চলতে দেওয়া যেতে পারে না”.

এর আগে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা মন্ত্রী চাক হেগেল ঘোষণা করেছেন যে, সিরিয়ার সরকারি ফৌজ “খুব বেশী মাত্রায় সম্ভব” যে, বিরোধীদের বিরুদ্ধে রাসায়নিক অস্ত্র ব্যবহার করেছে, তবে এটাও সত্য যে, তিনি বলেছেন, তা করা হয়েছে শুধু “নির্দিষ্ট লক্ষ্যে”. পর্যবেক্ষকরা এই ধরনের ঘোষণার অর্থহীণতার কথা উল্লেখ করেছেন. শুধুমাত্র কোন বিন্দু লক্ষ্য করে রাসায়নিক অস্ত্র প্রয়োগ করা হলে কোন রকমের উল্লেখযোগ্য যুদ্ধের পরিণাম অর্জন করা সম্ভব হয় না, আর বিদেশ থেকে অনুপ্রবেশের জন্য কারণ তৈরী করা হয়ে যায়.

নতুন তথ্য যুদ্ধের পিছনে কি থাকতে পারে, যা আবার শুরু করা হল দামাস্কাসের প্রশাসনের বিরুদ্ধে? এই প্রসঙ্গে লেবাননের সামরিক বিশ্লেষক হিশাম জাবের বলেছেন:

“আমার মনে হয় যে, রাসায়নিক অস্ত্র প্রসঙ্গ নতুন শক্তি দিয়ে তোলার কারণ হল পুতিন ও ওবামার আগামী গ্রীষ্মে সাক্ষাত্কারের প্রাক্কালে জনমত তৈরী করা, কারণ জানাই রয়েছে এই বৈঠকে প্রত্যেক পক্ষই নিজেদের মত অন্যের উপরে চাপিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করবে. তাছাড়া, বিগত সময়ে সিরিয়ার সরকারি ফৌজ উল্লেখযোগ্য সাফল্য অর্জন করতে সক্ষম হয়েছে বিরোধীদের সঙ্গে যুদ্ধে. এই সবই আমেরিকার দায়িত্বশীল লোকদের একটা কানাগলিতে পৌঁছে দিয়েছে. কারণ যদি তাদের ঘোষণাকে দেখা হয়, তাহলে দেখা যাবে যে, সিরিয়ার লোকরা রাসায়নিক অস্ত্র প্রয়োগ করেছে অথচ তার কোনও সমর্থন প্রমাণ পাওয়া যাচ্ছে না. একই সময়ে হোয়াইট হাউস গোয়েন্দা বিভাগের কাছ থেকে এই বোধহয় হওয়া ঘটনার খুবই খুঁটিয়ে করা তদন্তের রিপোর্ট চাইছে, যাতে এই রকম মনে না হয় যে, এই কাজ আগেও ইরাকে করা হয়েছে”.

অন্য এক মত ভূ-রাজনৈতিক একাডেমীর সভাপতি অবসর প্রাপ্ত কর্নেল-জেনারেল লিওনিদ ইভাশভ পোষণ করেন. তিনি মনে করেন যে, আমেরিকাকে ইরাকের উদাহরণ মনে তো হয় না যে, দ্বিধা বা আতঙ্কে ফেলবে, তাই বলেছেন:

“মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র সব কিছুই করবে, যাতে যোদ্ধাদের দিয়ে সিরিয়ার প্রশাসনকে হঠানো সম্ভব হয় ও এই দেশকে একটা মাত্সান্যায়ে নিয়ে যাওয়া সম্ভব হয়. সিরিয়ার রাষ্ট্র ব্যবস্থাকেই ধ্বংস করে দেওয়া বর্তমানের সঙ্কটের যারা হুকুম দিয়েছে, তাদের মূল উদ্দেশ্য. এই লক্ষ্য সাধনের জন্য তারা সেই সমস্ত মাধ্যমই ব্যবহার করবে, যা আগে পরীক্ষা করে দেখা হয়ে গিয়েছে. আর রাসায়নিক অস্ত্র ব্যবহারের বিষয়টা আগে ইরাকের ক্ষেত্রে খুব ভাল করেই ব্যবহার করে দেখা হয়ে গিয়েছে, যখন সাদ্দাম হুসেইনের প্রশাসনকে হঠানো হয়েছিল. আর আজ, প্রসঙ্গতঃ, ইরাক ধীরে হলেও রাষ্ট্র হিসাবে ভেঙে পড়ার সামনে এসে দাঁড়িয়েছে. সুতরাং এই রাসায়নিক অস্ত্র প্রসঙ্গকে একটা ভাল কারণ হিসাবে ব্যবহার করা হতেই পারে, যাতে ইরাকের ঘটনা পরম্পরাকেই এই ক্ষেত্রেও ব্যবহার করা যেতে পারে”.

কিন্তু মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র কি এই পথে আবারও যাবে? এর উত্তরে লিওনিদ ইভাশভ বলেছেন:

“সিরিয়াতে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্বে ন্যাটো জোটের অনুপ্রবেশের সম্ভাবনা, আমার মতে এখনও রয়ে গিয়েছে. ওয়াশিংটন নিজেদের লক্ষ্য হিসাবে ঠিক করেছে সিরিয়ার প্রশাসনকে ধ্বংস করার, এর জন্য বিশাল প্রসারিত অপারেশন পরিকল্পনা করেছে, রসদ ও অন্যান্য খাতে বেশ খরচও করেছে আর তাই মোটেও পিছিয়ে যেতে চাইবে না”.

প্রসঙ্গতঃ, বিশেষজ্ঞ উল্লেখ করেছেন যে, শেষ অবধি সব কিছুই রাশিয়ার অবস্থানের উপরে নির্ভর করছে. আর আপাততঃ, আমাদের দেশের দায়িত্বশীল লোকদের ঘোষণা থেকে দেখা যাচ্ছে যে, মস্কো দামাস্কাসের প্রশাসনকে হঠানোর জন্য অপারেশনের শুরুকে মোটেও ইতিবাচক ভাবে দেখবে না. আর এটা ২০০৩ সাল নয়, যে রাশিয়ার মতকে উপেক্ষা করে স্রেফ চোখ বন্ধ করে থাকা যেতে পারে.