ভারত ও রাশিয়া পারস্পরিক বাণিজ্য বিনিময়ে সন্তুষ্ট নয় – গত বছরে তা হয়েছে এক হাজার কোটি ডলারের সমান – আর ঠিক করেছে তা অনেক গুণ বাড়িয়ে দেওয়ার জন্য সক্রিয়ভাবে সহযোগিতা করার. এই কাজ নিয়ে আলোচনা করা হয়েছে মস্কো শহরে রাশিয়া- ভারত আন্তর্প্রশাসনিক সহযোগিতা পরিষদের সহসভাপতি পর্যায়ের বৈঠকে. ভারতের পক্ষ থেকে এই পরিষদের নেতৃত্ব দিয়েছেন – পররাষ্ট্র মন্ত্রী সলমন খুরশিদ. রাশিয়ার পক্ষ থেকে উপ প্রধানমন্ত্রী দিমিত্রি রগোজিন. এই সাক্ষাত্কারের সময়ে রাশিয়ার রাজধানীতে পরিষদের সহসভাপতি দিমিত্রি রগোজিন নিজের এই বিষয়ে বর্তমানের ধারণাকে আর্থ-বাণিজ্য সহযোগিতার ভবিষ্যত পরিপ্রেক্ষিতে ব্যাখ্যা করে বলেছেন:

“রাশিয়া ও ভারতের মধ্যে ঐতিহ্য মেনেই মিত্র সুলভ ও খুবই নিকট সম্পর্কের কথা মাথায় রেখে এবং দুই দেশের অর্থনীতির বিশাল পরিমানের কথা মনে করে আমাদের উচিত্ হবে অনেক বেশী বাণিজ্যের স্তরে উন্নীত হওয়ার. এটা করা সম্ভব, যখন আমরা সম্পর্কের স্তরে যৌথ শিল্প সহযোগিতা, যৌথ শিল্প উদ্যোগে পৌঁছতে পারব. আর এটা করা দরকার শুধু প্রতিরক্ষা ক্ষেত্রেই নয়, বরং সামাজিক ক্ষেত্রেও”.

এই লক্ষ্য সাধনের জন্য রুশ-ভারত আন্তর্প্রশাসনিক পরিষদ বাস্তবায়ন করার জন্য সবচেয়ে সম্ভাবনাময় প্রকল্প গুলিকেই বেছে নেবে. যে সমস্ত প্রকল্প উপস্থিত করা হয়েছে পরিষদের পর্যালোচনার জন্যে, তাদের মধ্যে রয়েছে – ভারতে কামাজ মালবাহী গাড়ী তৈরী বাড়ানো, রাশিয়ার হেলিকপ্টার কোম্পানীর সঙ্গে হিন্দুস্তান অ্যারোনটিকস্ লিমিটেডের যৌথ প্রকল্পে নতুন প্রজন্মের হেলিকপ্টার নির্মাণ, ভারতীয় রাষ্ট্রীয় কোম্পানী ওএনজিসি রাশিয়াতে নতুন জায়গায় খনিজ তেল উত্তোলনে অংশ গ্রহণ ইত্যাদি. সবচেয়ে সংজ্ঞাবহ প্রকল্পগুলি নিয়ে পথ নির্দেশ রাশিয়া- ভারত আন্তর্প্রশাসনিক পরিষদের সহসভাপতি পর্যায়ে উপস্থিত করার কথা এই মে মাসেই রয়েছে.

ভারতীয় বিশেষজ্ঞরা রাশিয়ার সঙ্গে অর্থনৈতিক সহযোগিতা বৃদ্ধির পথ হিসাবে বাণিজ্য ক্ষেত্রে বাধা দূর করাকেই দেখতে পেয়েছে, আর ঠিক করে বললে শুল্ক পরিহার করাকে. কিন্তু দ্বিপাক্ষিক ক্ষেত্রে এটা করা সম্ভব নয়. রাশিয়া ইউরো-এশিয়া শুল্ক সঙ্ঘের সদস্য ও সেখানে আরও রয়েছে বেলোরাশিয়া ও কাজাখস্থান. কিন্তু ভারত এই দুটি দেশের সঙ্গেও যথেষ্ট প্রসারিত ভাবে সহযোগিতা করে চলেছে. এই প্রাক্তন দুই সোভিয়েত দেশের রাজ্যও ভারতের সঙ্গে সহযোগিতা প্রসারে আগ্রহী, এই কথা মনে করিয়ে দিয়েছেন ইউরো-এশিয়া অর্থনৈতিক পরিষদের কার্যকরী অধ্যক্ষ সভার সদস্য আরতিওম আনিকিয়েভ. ভারতই ইউরো-এশিয়া শুল্ক সঙ্ঘের সঙ্গে সমঝোতা ও সহযোগিতার মাধ্যমে বাণিজ্য করার সম্ভাবনা নিয়ে কথা তুলেছে, অথবা বলা যেতে পারে যে, সার্বিক অর্থনৈতিক সহযোগিতা এই সঙ্ঘের পরিসরে করার. এই বিষয় আবারও রাশিয়ার সহকর্মীদের সঙ্গে মস্কো শহরে এপ্রিল মাসের মাঝামাঝি আলোচনা করার সময়ে তুলেছিলেন ভারতের শিল্প-বাণিজ্য মন্ত্রী আনন্দ শর্মা. তা বর্তমানের সাক্ষাত্কারের সময়ে ভারতের পক্ষ থেকে তোলা হয়েছিল বলে উল্লেখ করে আরতিওম আনিকিয়েভ বলেছেন:

“স্বাধীন বাণিজ্য এলাকা তৈরী করার বিষয়ে সমঝোতা, যখন দেশ গুলি একে অপরের সঙ্গে বাণিজ্যের সময়ে শুল্ক পরিহার করে, তা বাস্তবে, এই সমাকলনের শুরুর অধ্যায়. এই ধরনের সমঝোতা নিয়ে আলোচনা করার প্রস্তাব করে ভারতের তরফ থেকে আশা করা হয়েছে আরও কম দামে রাশিয়ার বিমান ও যন্ত্র প্রযুক্তি পাওয়ার, জ্বালানী শক্তি উত্পাদনের যন্ত্র, সার, বেলোরাশিয়া থেকে ট্রাক্টর, কাজাখস্থানের শিল্পোত্পাদিত জিনিষ পাওয়ার. রাশিয়ার পক্ষ থেকে লাভজনক হবে ভারত থেকে বস্ত্র ও অন্যান্য লঘু শিল্পের জিনিষ আমদানী, কৃষিজাত পণ্য আমদানী, ওষধি ইত্যাদি দ্রব্য আমদানী ও তথ্য প্রযুক্তির আধুনিক দ্রব্য ইত্যাদি. এটা পারস্পরিক ভাবে লাভজনক হলেও এই ধরনের পদক্ষেপের অনেক ঝুঁকিও রয়েছে. যাতে এই সব ঝুঁকি থেকে রাশিয়া ও তার ইউরো-এশিয়া শুল্ক সঙ্ঘের সহযোগী দেশ গুলি রক্ষা পায় ও ভারতেরও ক্ষতি না হয়, তাই তাদের উচিত্ হবে সেই সমস্ত জিনিষ, যাতে শুল্ক নেওয়া বন্ধ হবে, তা তালিকা ভুক্ত করা. এই বিষয়ে অবস্থান জোটের সঙ্গীদের সাথে একসঙ্গে তৈরী করা হবে. এখন এই প্রশ্নে সব দিক ভেবে কাজ করা হচ্ছে”.

ভারত ও রাশিয়া স্থির করেছে খুবই খুঁটিয়ে সম্ভাব্য পরিণাম হিসাব করে দেখার আর আশা করা হয়েছে ইতিবাচক ফলাফলের. ভারতীয় প্রতিনিধিদলের সদস্যরা ইউরো-এশিয়া শুল্ক সঙ্ঘের মুক্ত বাণিজ্য এলাকায় কাজ করার সম্ভাবনা নিয়ে আগামী আন্তর্জাতিক অর্থনৈতিক ফোরাম, যা জুন মাসে সেন্ট পিটার্সবার্গে আয়োজন করা হয়েছে, তাতে আলোচনার প্রস্তাব করেছেন.