সোচী শহরে ২০১৪ সালের শীত অলিম্পিকের আগের মশাল দৌড়ের মশাল আন্তর্জাতিক মহাকাশ স্টেশনে নিয়ে যাওয়া হবে, তার সঙ্গে এটা আবার উন্মুক্ত মহাকাশেও বের করা হবে. তা একে অপরকে আনুষ্ঠানিক ভাবেই হস্তান্তর করবেন দুই রুশ মহাকাশচারী ওলেগ কোতভ ও সের্গেই রিয়াজানস্কি, যাঁরা সেপ্টেম্বর মাস থেকে এই স্টেশনের অভিযাত্রীদের মধ্যে থাকবেন. যাতে অলিম্পিকের আগুন মহাকাশের কক্ষপথে পৌঁছায়, তাই “সইউজ” মহাকাশ যানে করে বদলী অভিযাত্রীদের সময়ের আগেই পাঠানো হচ্ছে.

প্রথম থেকে পরিকল্পনা করা হয়েছিল যে, “সইউজ” আন্তর্জাতিক মহাকাশ স্টেশনে যাবে ২৫শে নভেম্বর. কিন্তু নতুন রুটিন অনুযায়ী উড়ান এগিয়ে আনা হয়েছে ৭ই নভেম্বরে. এই যানে করে মহাকাশে অলিম্পিকের আগুন সমেত মশাল নিয়ে যাওয়া হবে. আর পৃথিবীতে তা ফিরিয়ে আনা হবে তার পাঁচদিন বাদেই পুরনো যাত্রী দলের সঙ্গে. তাঁদের পৃথিবীতে নেমে আসার দিনও ১০ই নভেম্বর থেকে ১২ই নভেম্বরে সরিয়ে নিয়ে যাওয়া হয়েছে. এই সময়ে স্টেশনে একই সঙ্গে বেশ কয়েকটি মহাকাশচারী দল থাকবেন – সব মিলিয়ে নয় জন ও এটা খুবই বিরল ব্যাপার.

মস্কো থেকে মশাল দৌড় শুরু হবে অলিম্পিকের আগুন নিয়ে ৭ই অক্টোবর. সোচীর পথে দৌড়ে যাঁরা অংশ নেবেন রুশ প্রজাতন্ত্রের সবকটি অর্থাত্ ৮৩টি অংশের ২৯০০ জনপদ দিয়ে যাবেন. মহাকাশের উড়ানের কারণে মাটির উপর দিয়ে যাওয়াতে সাময়িক বিরতি ঘটবে.

এই দৌড়ের জন্য তৈরী করা হচ্ছে ১৪ হাজার মশাল, যেগুলি হবে লাল- রুপালী রঙের ও দেখতে হবে মহাকাব্যের ফোনিক্স পাখীর মতো, যা সাফল্যের প্রতীক. মহাকাশে যে মশাল যাবে, তার গড়নও একই রকমের হবে, রঙে ও আকারে. কিছুদিন আগে পর্যন্ত শুধু প্রশ্ন ছিল যে, ওটা কি সত্যই আগুন জ্বলা অবস্থায় মহাকাশে যাবে!

মহাকাশ স্টেশনের ভিতরে খোলা আগুন সত্যিকারের বিপদের কারণ হতে পারে. এই প্রসঙ্গে মন্তব্য করে সেন্ট পিটার্সবার্গের মহাকাশ ফেডারেশনের উপসভাপতি ওলেগ মুখিন বলেছেন:

“আগুনের চারপাশে বায়ু জ্বলতে থাকবে. যদি এটায় একটা সলতে করা হয়, তবে সেখানে নিয়মিত জ্বালানী দিতে হবে. অনেক গ্যাস নিয়ে যেতে হবে, আর তা আবার সমস্ত অক্সিজেনই জ্বলতে গিয়ে খরচ করে ফেলবে. মাটিতে আগুন কোতাও সরানো বা নিয়ে যাওয়া যেতে পারে, এমনকি বিমানেও তা সম্ভব, কিন্তু মহাকাশে সম্ভব নয়. একেবারেই অন্য রকমের অতিরিক্ত চাপের তফাত রয়েছে, পরিস্থিতিও অন্য রকমের”.

যাতে মহাকাশে ও স্টেশনে আগুন জ্বলতে পারে, তার জন্য দরকার পড়বে অনেক গ্যাস ও অক্সিজেনের. নির্ভর অবস্থায় জ্বলার ফলে যা বের হবে, তা কোথাও ওপরে উড়ে যাবে না, চারপাশেই জমে থেকে আগুনের জন্য গ্যাস বা অক্সিজেনের সিলিন্ডারের তাপমাত্রা বাড়াতে থাকবে, যার ফলে বিস্ফোরণ হতেও পারে, যদি তার জন্য আলাদা করে বিশাল রকমের সুরক্ষার ব্যবস্থা না করা হয়, তাহলে. তাই “রসকসমস” সংস্থায় ঠিক করা হয়েছে যে, ঝুঁকি নিয়ে খোলা আগুন নিয়ে যাওয়া হবে না. যদিও খুব সম্ভব যে, কিছু একটা করে মশালে অগ্নি শিখার নকল করা হবে.

প্রসঙ্গতঃ, ১৯৯৬ সালে আটলান্টা গ্রীষ্ম অলিম্পিকের আগে ও ২০০০ সালে সিডনি গ্রীষ্ম অলিম্পিকের আগেও আগুন মহাকাশে নিয়ে যাওয়ার কথা হয়েছিল. দুই ক্ষেত্রেই আয়োজকরা এই ধারণা বাদ দিয়েছিলেন, আর মহাকাশের কক্ষপথে পাঠানো হয়েছিল আগুনের নকল সমেত মশাল.

এবারের মশাল দৌড়ে মহাকাশ ছাড়া আগুন নিয়ে যাওয়া হবে অন্যান্য সব অস্বাভাবিক দৌড়ের বিন্দুতে. আগুন নিয়ে যাওয়া হতে চলেছে ইউরোপের সবচেয়ে উঁচু এলব্রুসের পাহাড় চূড়ায়, উত্তর মেরুতে, আর তারই সঙ্গে বৈকাল হ্রদের গভীরেও. কি করে জলের নীচে অত গভীরে আগুন নিয়ে যাওয়া হবে, যা জটিলতার দিক থেকে “মহাকাশ যাত্রার” মতই, তা এখনও বলা হচ্ছে না.