রাসায়নিক অস্ত্র ব্যবহার নিয়ে সিরিয়ার সামরিক বাহিনীর বিরুদ্ধে এক খুব শোরগোল তোলা কিন্তু কোন সাক্ষ্য প্রমাণ ছাড়া প্রচার – এটা স্রেফ বাড়তি এক প্রমাণ যে, পশ্চিম সিরিয়ার বিরুদ্ধে তথ্য যুদ্ধে হেরে যাচ্ছে.

এই রকমই মনে করেছেন সেই সমস্ত বিশেষজ্ঞরা, যাঁরা বিগত সময়ে পশ্চিম থেকে প্রচারিত সংবাদ মাধ্যমে যে, প্রচার চালানো হয়েছে, তা বিশ্লেষণ করে দেখেছেন. আমাদের সমীক্ষক ইভগেনি এরমোলায়েভ যেমন উল্লেখ করেছেন যে, এখন আর চুপ করে থাকা যাচ্ছে না যে, বিরোধী পক্ষের হয়ে লড়াই করা জঙ্গীরা আসলে শুধু চরমপন্থী সন্ত্রাসবাদী, যারা নিজেদের সম্পর্ক আল- কায়দার সঙ্গে আর লুকিয়ে রাখছে না. আর বস্টনের অন্তর্ঘাতের ঘটনার পরে হোয়াইট হাউস দুনিয়ার জঙ্গীদের নিজেদের পক্ষ থেকে সমর্থন করায় নিজেরাই খুব অস্বস্তিকর অবস্থায় পড়েছে, তাই তিনি বলেছেন:

“কয়েকদিন আগে রাষ্ট্রসঙ্ঘের মানবাধিকার রক্ষা কমিশনের রিপোর্টে মনোযোগ আকর্ষণ করা হয়েছিল সিরিয়ার সঙ্কটের চরমপন্থী লক্ষণের দিকে ও তাতে জেহাদী যোদ্ধা ও বাইরের দেশ থেকে তার জন্য উপযুক্ত রকমের আর্থিক সহায়তা বেড়ে যাওয়ার প্রবণতার দিকে. রিপোর্টে বলা হয়েছে যে, যোদ্ধাদের জন্য বাইরের সংরক্ষণশীল স্পনসরদের কাছ থেকে কি মাত্রায় সমর্থন জানানো হচ্ছে, তা নির্ভর করছে কতজন জঙ্গী সালাফিত আদর্শ মেনে চলতে রাজী রয়েছে, তার উপরে. আর জঙ্গীদের বাইরের দেশ থেকে অর্থ দেওয়া হচ্ছে বিপুল পরিমানে. যে গোষ্ঠী সব থেকে বেশী বাইরের দেশ থেকে অর্থ সাহায্য পাচ্ছে, তারা হল ঝেভাত আন- নুসরা. তাদের মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের আগেও স্বীকার করা হয়েছিল সন্ত্রাসবাদী গোষ্ঠী বলে. তারই সঙ্গে খুব ভাল করেই জানা গিয়েছে এই জেহাদী জঙ্গীদের তথাকথিত সংরক্ষণশীল স্পনসররা কোথায় আছে: এটা এই এলাকারই মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সহযোগী দেশ”.

বস্টনের সন্ত্রাসবাদী কাণ্ডের পরে এই ধরনের সমান্তরাল তুলনা ওয়াশিংটনের জন্য ইচ্ছানুযায়ী হচ্ছে না. তাই, সব দেখে শুনে মনে হয়েছে যে, দামাস্কাসের পক্ষ থেকে রাসায়নিক অস্ত্র ব্যবহার করা হয়েছে বলে এই রকমের শোরগোল তোলা প্রচার শুরু করা হয়েছে. তার মূল লক্ষ্য হল: এক অনিবার্য প্রশ্নের উদয়কেই কোন রকমে মনোযোগের বাইরে করা – মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র কেন কথায় ঐস্লামিক চরমপন্থীদের সমালোচনা করে যাচ্ছে আর কাজে তাদের সমর্থন করছে? তাই তাড়াহুড়ো করে এই রাসায়নিক বিষয় বের করে আনা হয়েছে – যদিও নীতিগত ভাবে ও দীর্ঘস্থায়ী পরিপ্রেক্ষিতে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে জন্যই এটা লাভজনক নয়. কারণ কোন রকমের প্রমাণই আসাদ যে রাসায়নিক অস্ত্র ব্যবহার করেছেন তা নেই আর তা থাকতেও পারে না: কারণ সিরিয়ার রাষ্ট্রপতি - আর যেই হোন না কেন পাগল নন. কিন্তু ওয়াশিংটন সিরিয়ার চরমপন্থীদের নিজেদের পক্ষ থেকে সমর্থন করার কাজে এবারে নিজেরাই নিজেদের একেবারে কোনে এনে ফেলেছে আর তাই বাধ্য হয়েছে যে করে হোক নিজেদের ছাড়িয়ে বের হওয়ার জন্য, যাতে অন্তত কিছু সময়ের জন্য নিজেদের জন্য অসুবিধার বাস্তব থেকে এড়িয়ে পালাতে.

আল-কায়দার মতো গোষ্ঠী বিগত বছর গুলিতে উদার স্পনসরদের কল্যাণে আবার নিজেদের স্বর্ণ যুগে ফিরে আসতে পেরেছে. পশ্চিম কি নিজেদের কাছে অন্তত প্রশ্ন করছে না যে, তারা কাদের বড় হতে সাহায্য করছে – আর তাও আবার এই প্রথম না? এই প্রসঙ্গে বিশেষজ্ঞ আন্দ্রেই গ্রোজিন মন্তব্য করে বলেছেন:

“দেখাই যাচ্ছে যে, সিরিয়ার বিরোধী শক্তির বিদেশী স্পনসররা, তা যেমন ইউরোপে, তেমনই নিকটপ্রাচ্যে নিজেদের লক্ষ্য হিসাবে ঠিক করেছে বর্তমানের সিরিয়ার প্রশাসনকে পিষে মারার. তারা সেই ধরনের লোক খুঁজছে, যারা সবচেয়ে বেশী ফল হতে পারে, এই ধরনের কাজ করবে. সিরিয়ার বিরোধী পক্ষের যে শান্তি প্রস্তাবে অনিচ্ছুক ও ধর্ম নিরপেক্ষ গোষ্ঠী রয়েছে, তারা বিদেশ থেকে আসা জেহাদী জঙ্গীদের চেয়ে কম ফলপ্রসূ. তাই আর্থিক সাহায্যের অধিকাংশই পাঠানো হচ্ছে জেহাদী গোষ্ঠীদের, পারস্য উপসাগরীয় রাজতন্ত্র গুলির বেসরকারি তহবিল মারফত. পশ্চিম সহায়তা করেছে, তথাকথিত ভাবে আইনসঙ্গত ভাবে ও মানবিক প্রয়োজনেই. যদিও কে আর নিয়ন্ত্রণ করবে, কোথায় কি ভাবে অর্থ সাহায্য যাচ্ছে? কয়েকদিন আগে ইংরাজী সংবাদপত্র ডেইলি টেলিগ্রাফ লিখেছে যে, সিরিয়ার বিরোধী পক্ষকে দেওয়া আর্থিক সহায়তার শতকরা ষাট ভাগ, চুরি হচ্ছে. সুতরাং এমন হতেই পারে যে, পশ্চিমের সাহায্যের একাংশ জেহাদীদের কাছেও যাচ্ছে – আর হতে পারে যে, স্রেফ কারো পকেটের গভীরেই থেকে যাচ্ছে”.

যে কোন ক্ষেত্রেই হোক না কেন সিরিয়ার সশস্ত্র বিরোধী পক্ষকে পশ্চিমের সংবাদ মাধ্যমে এমনকি সমস্ত রকমের ইচ্ছা থাকা স্বত্ত্বেও গণতন্ত্রের জন্য এক সুন্দর আত্মার মানুষদের দল বলে প্রমাণ করতে পাচ্ছে না.

সিরিয়ার বিরুদ্ধে পশ্চিমের প্রচারের ঢেউকে এখনই হেরে যেতে দেখা যাচ্ছে বলে বিশেষজ্ঞরা উল্লেখ করেছে. কিন্তু এর অর্থ এই নয় যে, যুদ্ধের কাজ কারবারও থেমে যাবে. বরং উল্টো: সিরিয়ার প্রশাসনের কাছে যুদ্ধ ক্ষেত্রে ও রাজনৈতিক ক্ষেত্রেও বিরোধী পক্ষ দাঁড়াতে পারছে না দেখে জঙ্গীদের স্পনসররা এবারে শেষ মাধ্যম নিতে পারে. অর্থাত্ সরাসরি অনুপ্রবেশ করার.