ভারত ও রাশিয়া দ্বিপাক্ষিক সহযোগিতা অনেক বেশী বৃদ্ধি করার জন্য নতুন পদক্ষেপ নিয়ে আলোচনা করছে. এই কথা উল্লেখ করেছেন ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রী সলমন খুরশিদ, তিনি মস্কো শহরে সফরের সময়ে এই কথা বলেছেন “রেডিও রাশিয়ার” সাংবাদিক প্রতিনিধিকে. মন্ত্রী সলমন খুরশিদ আর্থ-বাণিজ্য, বিজ্ঞান ও সংস্কৃতি বিষয়ক আন্তর্প্রশাসনিক দ্বিপাক্ষিক পরিষদের সহসভাপতি. মস্কো শহরে তিনি দেখা করেছেন উপ প্রধানমন্ত্রী দিমিত্রি রগোজিনের সঙ্গে – যিনি নিজে এই পরিষদের অপর সহসভাপতি. সলমন খুরশিদ ব্যাখ্যা করে বলেছেন যে, এটা তাঁর পক্ষ থেকে প্রত্যুত্তরে সফর, গত বছরে দিমিত্রি রগোজিনের ভারত সফরের সময়ে সম্ভাব্য দিক নিয়ে কাজকর্ম সম্বন্ধে আলোচনা করা হয়েছিল, আর তারই সঙ্গে কথা হয়েছিল পারমানবিক শক্তি সংক্রান্ত প্রকল্প, খনিজ তেল ও গ্যাস সংক্রান্ত প্রকল্প ও সামরিক প্রযুক্তি সহযোগিতা নিয়ে. সেই প্রকল্প গুলির বাস্তবায়ন করা চলছে, আমরা উদ্ভূত প্রশ্ন ও সমস্যা সমাধান নিয়ে পারস্পরিক ভাবে সহযোগিতা চালিয়ে যাচ্ছি. এই প্রসঙ্গে তিনি আরও যোগ করে বলেছেন:

“আমরা নিজেদের সম্পর্ক আরও পরিমার্জিত করছি, নানা রকমের পথ দিয়ে চলে পারস্পরিক সম্পর্ককে আরও গভীর করছি. ভারতের জন্য সমস্যার বিষয় হল যে, আমরা বেশীর ভাগ জ্বালানী দেশে আমদানী করে থাকি, তার মধ্যে খনিজ তেল ও গ্যাস রয়েছে. আর আপাততঃ কোনও পাইপ লাইন নেই যে, সেই গুলি আমাদের কাছে সরাসরি আনা যেতে পারে, তাই আমাদের দরকার বিকল্প পথের নানা ধরনের উপায়. ভারত ও রাশিয়া পথ দেখতে পেয়েছে রাশিয়া থেকে তরল গ্যাস সরবরাহের বিষয়ে সহযোগিতা করার. এর জন্য প্রয়োজন পড়বে বন্দর গুলিকে নতুন করে ঢেলে সাজানোর. দুই দেশই ঠিক করেছে এই দিকে কাজ করার”.

রুশ প্রজাতন্ত্রের সঙ্গে অন্যান্য বিষয়ে সহযোগিতা নিয়েও মন্ত্রী সলমন খুরশিদ বলেছেন, যা সমর্থন ও এগিয়ে দেওয়ার প্রয়োজন রয়েছে. ভারতের জন্য অবশ্যই নিঃশর্ত ভাবে গুরুত্বপূর্ণ হল পারমানবিক জ্বালানী শক্তি বিষয়ে অগ্রগতির, তাই তিনি বলেছেন:

“পারমানবিক জ্বালানীর ক্ষেত্রে আমাদের রাশিয়ার সঙ্গে সহযোগিতা খুবই প্রসারিত ও গভীর. কুদানকুলাম পারমানবিক বিদ্যুত প্রকল্পের প্রথম রিয়্যাক্টরে পরীক্ষা ইতিমধ্যেই করা হচ্ছে, দ্বিতীয় রিয়্যাক্টরও শতকরা ৯৩ ভাগ প্রস্তুত. তৃতীয় ও চতুর্থ রিয়্যাক্টর নিয়ে কয়েকটি আইনগত ও প্রযুক্তিগত প্রশ্নের সমাধান করা হচ্ছে. রাজনৈতিক স্তরে দুই দেশই ঠিক করেছে উদ্ভূত সমস্যা সমাধান করতে. পারমানবিক বিদ্যুত প্রকল্পের কাজ শেষ হতে কিছুটা সময় বেশী লাগতে পারে, কিন্তু সমস্ত রকমের জটিলতা পার হয়ে আসা সম্ভব. আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক যা দুই পক্ষই বিশেষ মনোযোগ দিয়েছে, তা হল বাণিজ্য, ব্যবসা ও পারস্পরিক বিনিয়োগের ক্ষেত্রে”.

রাশিয়া ও ভারতের মধ্যে বাণিজ্যের পরিমান শুধু গত বছরেই বৃদ্ধি পেয়েছে শতকরা ৩০ ভাগ. আর এটা হয়েছে সকলেরই অর্থনৈতিক উন্নতির হার কমে যাওয়া ও বিশ্ব জোড়া বাণিজ্যের উন্নতির গতি হ্রাসের পরিপ্রেক্ষিতে. আসন্ন কয়েক বছরের মধ্যে দুই দেশই ঠিক করেছে পারস্পরিক বাণিজ্যের পরিমান দু হাজার কোটি ডলার সমান অর্থমূল্যের বেশী করার. কিন্তু এই সংখ্যা একেবারেই দুই দেশের সম্ভাবনার তুলনায় অতি সামান্য, তাই দুই দেশই মন্ত্রীর কথামতো আগ্রহ প্রকাশ করেছে পারস্পরিক বিনিয়োগের বিষয়ে, আর আন্তর্প্রশাসনিক পরিষদ কাজ করছে দুই দেশের ব্যবসায় পারস্পরিক ভাবে আরও সক্রিয় যাতে হতে পারে, তার জন্য.ভারতের পক্ষ থেকে সহসভাপতি বিশেষ করে উল্লেখ করেছেন যে, তাঁদের দেশ চায় রাশিয়ার জ্বালানী শক্তি উত্পাদন ক্ষেত্রে বিনিয়োগ করতে, এই ধরনের বিনিয়োগের উদাহরণ রয়েছে ভারতীয় ওএনজিসি কোম্পানীর পক্ষ থেকে রাশিয়ার সাখালিন এলাকায় কার্বন যৌগ উত্তোলনের বিষয়ে.

তারই সঙ্গে ভারতের সঙ্গে রাশিয়ার ব্যবসায়িক সভা ভারতীয় সহকর্মীদের জন্য নির্দিষ্ট প্রকল্প প্রস্তাব করেছে. তার মধ্যে রয়েছে রাশিয়ার বৃহত্ “ট্রাক্টর” তৈরী করার কনসার্নের সঙ্গে সহযোগিতা, নেতৃস্থানীয় খনিজ তেল ও গ্যাস হোল্ডিং “সিবুরের” সঙ্গে সহযোগিতা ও “রাশিয়ার হেলিকপ্টার” নামের কনসার্নের সঙ্গেও সহযোগিতা.