জর্জ্জিয়ার অভিশংসক দপ্তর এই সপ্তাহেই গত বছরে লোপত গিরিকন্দরে ঘটনার বিষয়ে অতিরিক্ত তদন্ত শুরু করতে চলেছে. ২০১২ সালের আগষ্ট মাসে সেখানে জর্জ্জিয়ার বিশেষ বাহিনীর অভিযানের সময়ে এক দল চিচনিয়ার সন্ত্রাসবাদীকে ধ্বংস করা হয়েছিল. আজ এক খবরে প্রকাশ হয়েছে যে, এই যুদ্ধ-সংঘর্ষ ছিল একটা প্ররোচনা মাত্র, আর এই সব জঙ্গীদের জর্জ্জিয়াতেই তৈরী করা হয়েছিল রাষ্ট্রপতি সাকাশভিলির জ্ঞাতসারেই. তাদের সেই সমস্ত চিচেন লোকদের থেকে বাছাই করে আনা হয়েছিল, যারা ইউরোপের নানা দেশে রাজনৈতিক আশ্রয় নিয়েছিল.

এই তথ্য দেওয়া হয়েছে জর্জ্জিয়া মানবাধিকার রক্ষা অধিকর্তা উচি নানুশাভিলির রিপোর্টে. যদিও এই রিপোর্টের কিছু অংশ এপ্রিল মাসেই প্রকাশ করা হয়েছিল, সেটার সম্পূর্ণ বয়ান এখনই শুধু প্রকাশিত হয়েছে. নানুশাভিলির রিপোর্টে জোর দিয়ে বলা হয়েছে যে, চিচনিয়ার সন্ত্রাসবাদীদের তবিলিসি বিমানবন্দরে সাক্ষাত্ করেছিল জর্জ্জিয়ার স্বরাষ্ট্র দপ্তরের উচ্চপদস্থ কর্তারা, তাদের জন্য ফ্ল্যাট ভাড়া করা হয়েছিল, তাদের গাড়ী চালানোর লাইসেন্স দেওয়া হয়েছিল ও সঙ্গে রাখার মতো আগ্নেয়াস্ত্রও দেওয়া হয়েছিল, আর তারপরে রাজধানীর কাছে এক সামরিক ঘাঁটিতে তাদের তালিম দেওয়া হয়েছিল. জর্জ্জিয়ার প্রশাসন নাকি চিচেন লোকদের ইউরোপ থেকে জর্জ্জিয়াতে ফিরে আসতে বলেছিল, আশ্বাস দিয়েছিল যে, সশস্ত্র অবস্থায় রাশিয়াতে ঢোকার জন্য করিডর তৈরী করে দেবে.

জর্জ্জিয়ার প্রধানমন্ত্রী বিদজিনা ইভানিশভিলি এই তদন্ত শুরু হওয়াকে সমর্থন করেছেন. রাষ্ট্রপতি সাকাশভিলি এই ব্যাপারে তার তরফ থেকে এখন একেবারে স্বাভাবিক হয়ে যাওয়া এক সাদামাটা ঘোষণা দিয়েই ক্ষান্তি দিয়েছেন যে, এই সবই ক্রেমলিনের নতুন করে দেওয়া চাল বলে. কিন্তু লন্ডনে থাকা চিচনিয়ার বিচ্ছিন্নতাবাদীদের প্রাক্তন বিদেশ প্রতিনিধি আহমেদ জাকায়েভ নানুশাভিলির রিপোর্টকে সমর্থন করেছে. সে বলেছে যে, জর্জ্জিয়ার সরকার সত্যই ইউরোপ থেকে চিচনিয়া লোকদের আমন্ত্রণ করে নিয়ে গিয়েছিল ও তাদের আর্থিক বিষয়ে ও অস্ত্র রসদের সাহায্য করেছিল.

সাকাশভিলি প্রশাসনের সময়ে থাকা সন্ত্রাসবাদী তৈরীর কেন্দ্রের কথা অনেকদিন আগে থেকেই বলা হচ্ছে, এই প্রসঙ্গে রাশিয়ার সন্ত্রাসবাদ ও মাদক মোকাবিলা তহবিলের সভাপতি আলেকজান্ডার মিখাইলভ বলেছেন:

“জর্জ্জিয়ার এক নির্দিষ্ট গোষ্ঠীর লোকদের জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ ছিল আমাদের বিরোধীদের দেখানো যে, তারা সব সময়েই এই এলাকায় সমর্থন ও ভরসা পাবে. এখানে কথা হচ্ছে আলাদা সব গোষ্ঠী তৈরীর, যারা সন্ত্রাসবাদী কাজ করতে সক্ষম. খুব স্বাভাবিক যে, তারা আদর্শগত ভাবে রাশিয়াকে সবচেয়ে বেশী ক্ষতিগ্রস্ত করার জন্য তৈরী হয়েছিল. আমি মনে করি না যে, জর্জ্জিয়াতে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের জন্য সন্ত্রাসবাদী তৈরী করা হচ্ছিল, যারা তাদের খেতে দিয়েছে. কিন্তু এই ধরনের সন্ত্রাসবাদীদের যে রাশিয়ার এলাকাতে কাজ করার জন্য প্রস্তুত করা হয়েছিল, তা একেবারেই দেখতে পাওয়া যাচ্ছে”.

সাকাশভিলির সময়ে ককেশাসে বিচ্ছিন্নতাবাদী মনোভাব চাগিয়ে তোলার জন্য লক্ষ্য স্থির করা হয়েছিল, এই কথা উল্লেখ করে রুশ বিজ্ঞান একাডেমীর প্রাচ্য অনুসন্ধান ইনস্টিটিউটের মধ্য এশিয়া ও ককেশাস গবেষণা কেন্দ্রের কোঅর্ডিনেটর আলেকজান্ডার স্কাকভ বলেছেন:

“এই সবই জর্জ্জিয়ার নেতৃত্বের সব থেকে উচ্চ পর্যায় থেকেই করা হয়েছে, যা সাকাশভিলি নিজে পুরস্কৃত করেছে ও তার পরিকল্পনায় রাশিয়ার সবচেয়ে বেশী ক্ষতি কি করে করা যায়, তা দেখা. স্ট্র্যাটেজিক উদ্দেশ্য ছিল কি করে রাশিয়াকে আবখাজিয়া ও দক্ষিণ অসেতিয়ার স্বাধীনতা স্বীকার থেকে বিরত করা যায়. তবিলিসি শহরে মনে করা হয়েছিল যে মস্কো উত্তর ককেশাসের সমস্যায় জর্জরিত হয়ে দক্ষিণ ককেশাসের সমস্যা নিয়ে কাজ করার সুযোগ পাবে না”.

জর্জ্জিয়ার স্বরাষ্ট্র দপ্তরের উপ মন্ত্রী গিয়া লর্দকিপানিদ্জে চিচনিয়ার জঙ্গী যোদ্ধাদের উত্তর ককেশাসে পাঠানোর ব্যবস্থা নিয়ে কাজকর্ম দেখাশোনা ও নেতৃত্ব করেছিল. নিহত জঙ্গীদের মধ্যে পাঁচজন ছিল চিচনিয়ার লোক. জর্জ্জিয়ার অভিশংসক দপ্তর ইতিমধ্যেই বিচার সংক্রান্ত ফরেনসিক তদন্ত শুরু করেছে, নিহতদের আত্মীয়দের সঙ্গে তাদের দেহ কবর থেকে তোলার ব্যাপারে সমঝোতায় এসেছে.

যদি এই সব তথ্য প্রমাণিত হয়, তবে এটা আরও একটি ভারী আঘাত হবে জর্জ্জিয়ার রাষ্ট্রপতির খ্যাতির উপরে. এই প্রসঙ্গে রাশিয়ার বিশেষজ্ঞরা মনে করেন না যে ত্সারনায়েভ ভাইয়েরা, যারা এই এপ্রিলে বস্টন বিস্ফোরণের সঙ্গে জড়িত, তারা জর্জ্জিয়াতে প্রশিক্ষণ পেয়েছিল.