যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রপতি বারাত ওবামা বলেছেন, সিরিয়ায় রাসায়নিক অস্ত্র ব্যবহারের সুনির্দিষ্ট প্রমাণ এখনো মেলেনি। তবে, যদি তবে রাসায়নিক অস্ত্র ব্যবহারের প্রমাণ পাওয়া যায় তাহলে এর জবাবে যথাযথ ব্যবস্থা নেয়া হবে বলে জানিয়েছেন হোয়াইট হাউসের কর্মধার। বিশেষজ্ঞরা উল্লেখ করেন, এর পূর্বেও মার্কিন গোয়েন্দারা ওয়াশিংটনকে নানা বিষয়ে নিয়ে প্রমাণ দিয়েছিল। তবে তা ছিল শুধুই রাজনৈতিক দৃষ্টিভঙ্গির আদলে তৈরী। হোয়াইট হাউস আপাতত এটা নিয়েই ব্যস্ত আছে।

শুক্রবার জর্ডানের বাদশা আবদুল্লাহর সঙ্গে বৈঠকে বসার আগে হোয়াইট হাউসে অনুষ্ঠিত এক সংবাদ সম্মেলনে ওবামা বলেন, রাসায়নিক অস্ত্র ব্যবহারের প্রমাণ এখনও প্রাথমিক পর্যায়ে থাকায় এ সংক্রান্ত সুনির্দিষ্ট তথ্য পেতে সিরিয়ায় তদন্ত চালিয়ে যাওয়া হচ্ছে।

ওবামা আরো বলেন, সিরিয়ার সরকার রাসায়নিক অস্ত্র ব্যবহার করার অর্থ হচ্ছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এ দেশের পরিস্থিতিতে গুরুত্ব না দেয়ার সমান।
সিরিয়ার রাসায়নিক অস্ত্র নিয়ে ওবামার এ ধরণের মন্তব্য এটাই প্রথম নয়। এ থেকে হয়ত অনুমান করা যাচ্ছে, মার্কিন প্রশাসন থেকে ওবামার ওপর বাড়তি চাপ আসছে। অন্যদিকে বিষয়টি পরিষ্কার যে, এ সব পরিস্থিতির মধ্যে সিরিয়ার আর্মি রাসায়নিক অস্ত্র ব্যবহার করলে তা হবে দামাস্কাসের জন্য রাজনৈতিক আত্বহত্যা। সামরিক দৃষ্টিকোন থেকে সিরিয়ার আর্মির জন্য তার প্রয়োজন নেই ।

সিরিয়ায় অস্ত্রধারী বিরোধীরা সর্বশেষ গত ১৯ এপ্রিল রাসায়নিক অস্ত্র ব্যবহার করেছিল আলেপ্পোর কাছের শহর খান-এল-আসালে। এ বিষয়ে জানিয়েছেন সিরিয়ার তথ্যমন্ত্রী আমরান আজ-জুয়াবি, যিনি এখন মস্কোতে এক সফরে অবস্থান করছেন। তিনি রাশিয়ার পর্লামেন্ট প্রতিনিধিদের সাথে সাক্ষাত করেছেন। রেডিও রাশিয়াকে তিনি বলেন, "কিছু আরব টেলিভিশন চ্যানেল আগে থেকেই সংবাদ পায় যে, কোথায় সম্ভাব্য হামলা হতে পারে। সৌদি আরব ও কাতার সিরিয়ার জনগন ও সাংবাদিকদের বিপুল পরিমান অর্থ দেয়ার প্রস্তাব দিয়েছিল। এর শর্ত ছিল, তাদের হয়ে কথা বলতে হবে। সত্য হলেও অনেক সময়ে তারা জনগনকে নিজেদের জালে আটকে ফেলে। তবে অধিকাংশ সাংবাদিকরা তাদের হয়ে কথা বলার প্রস্তাব প্রত্যাখান করেছে।

এর আগে আল-আরাবিয়া চ্যানেলের এক মহিলা সাংবাদিকের সাথে সাক্ষাতকারে তাকে আমি বলেছিলাম, বোমা বিস্ফোরণের অনেক আগেই আপনি এ খবর প্রচার করেছেন।"

সিরিয়ার বিরুদ্ধে এখন চলছে তথ্যযুদ্ধ। এমনটি উল্লেখ করেছেন দুমার তথ্য-রাজনীতি বিষয়ক কমিটির প্রধান আলেক্সেই মিত্ররোপানোভ । তিনি বলেন, 'সিরিয়ার চারপাশে এখন যা ঘটছে তা নিঃসন্দেহে বিশ্ব তথ্যযুদ্ধ। বিরোধীদের পক্ষ থেকে সংবাদ যেন না ছাড়ায় তারই এখন চেষ্টা করা হচ্ছে। সিরিয়ার টেলিভিশন চ্যানেল এখন আর স্যাটেলাইটের মাধ্যমে দেখা যায় না। তা বন্ধ করে দেয়া হয়েছে। পশ্চিমা গণমাধ্যম সিরিয়াকে নিয়ে সংবাদ পরিবেশন করছে সত্যিকার সিরিয়ার চিত্র তা নয়।"

বিষয়টি এখন অবস্থানে গিয়ে দাঁড়িয়েছে যে, সিরিয়ার বিরোধীদের বিরুদ্ধে সর্বেশষ যুদ্ধে সরকারি সেনারা জয়ী হওয়ায় বিরোধীদলের নেতারা দুঃচিন্তায় পড়ে গেছেন।