২৬শে এপ্রিল আন্তর্জাতিক তেজস্ক্রিয় বিকীরণ সংক্রান্ত দুর্ঘটনা ও বিপর্যয় দিবস পালন করা হচ্ছে. এই দিনে ১৯৮৬ সালে চেরনোবিল পারমানবিক বিদ্যুত কেন্দ্রে এক ভয়ঙ্কর দুর্ঘটনা ঘটেছিল, যা মানবসমাজকে পারমানবিক বিদ্যুত শক্তির নিরাপত্তা নিয়ে চিন্তিত হতে বাধ্য করেছিল.

মানব সমাজের জীবনে শান্তিপূর্ণ পরমাণু শক্তি উদ্ভব হয়েছে পঞ্চাশ বছরেরও আগে. পারমানবিক রিয়্যাক্টর গুলি শুধু শক্তির ক্ষুধাকেই কমাতে সক্ষম হয় নি, বরং বহু দেশের পরিবেশ সংরক্ষণের কাজও করেছে. উদাহরণ হিসাবে বলা যেতে ফ্রান্সের কথা. এই দেশের বিদ্যুত শক্তির শতকরা ৭৫ ভাগ পাওয়া যায় পারমানবিক উত্স থেকে, যার কারণে বাতাসে কার্বন ডাই অক্সাইড দূষণের পরিমান কমানো সম্ভব হয়েছে ১২ ভাগ. মনে হতে পারে খুবই আদর্শ উপায়. কিন্তু তা শুধু একমাত্র দুর্ঘটনা বিহীণ ভাবে কাজ করা হলে তবেই. তারই মধ্যে পারমানবিক শক্তি উদয় হওয়ার পর থেকে বিভিন্ন দেশে বিভিন্ন রকমের গুরুত্বের দুর্ঘটনা ঘটেছে. এখনই তার সংখ্যা প্রায় ৪০০. সবচেয়ে বড় – ইউক্রেনের চেরনোবিল শহরের বিপর্যয়, আমেরিকার থ্রি মাইল আইল্যান্ডে ১৯৭৯ সালের পারমানবিক বিদ্যুত কেন্দ্রে বিপর্যয় ও ২০১১ সালে জাপানের ফুকুসিমা পারমানবিক বিদ্যুত কেন্দ্রে বিপর্যয়. কিছু গবেষকের মতে, শেষ বিপর্যয় সম্মিলিত ভাবে তেজস্ক্রিয় বিকীরণের মাত্রায় চেরনোবিল কেন্দ্রের চেয়ে ২০ গুন বেশী. এই সব দুর্ঘটনার কারণ ছিল নানা রকমের, কিন্তু এর অভিজ্ঞতা বিশেষজ্ঞরা একেবারে খুঁটিনাটি অবধি বিশ্লেষণ করে দেখেছেন, এই কথা উল্লেখ করে জ্বালানী উন্নয়ন তহবিলের ডিরেক্টর সের্গেই পিকিন বলেছেন:

“সবচেয়ে মুখ্য হল যে, মানব সমাজ প্রযুক্তি ও মানব ঘটিত বিপর্যয়ের পরিস্থিতিতে দেখা যায় খুবই অরক্ষিত. তাই প্রয়োজন পড়বে আগে থেকেই ভাবার যে, কি ধরনের পরিস্থিতি হতে পারে, সেই গুলিকে আগে থেকেই রোধ করার ও ঝুঁকির প্রভাবের মাত্রাকে নরম করে দেওয়া. এখানে মনোযোগ নিরাপত্তা বিষয়ে দেওয়া খুবই জরুরী”.

বর্তমানে বিশ্বে প্রায় ৪৪০ -৪৫০টি পারমানবিক বিদ্যুত কেন্দ্রের রিয়্যাক্টর কাজ করছে. ষাটটিরও বেশী তৈরী করা হচ্ছে. কিন্তু তা স্বত্ত্বেও জাপানের শেষ বিপর্যয় খুব বেশী করেই পারমানবিক শক্তি সম্বন্ধে মানুষের ধারণা পাল্টে দিয়েছে, যা চেরনোবিল বিপর্যয়ের পরে প্রায় তিন দশক ধরে অবিরত কাজ করে কিছুটা ভাল করা সম্ভব হয়েছিল. এই কারণেই ব্যতিক্রমী শক্তির উত্স খোঁজার দিকে বেশী করে শক্তি প্রয়োগ করা শুরু হয়েছে, এই কথা উল্লেখ করে পারমানবিক শক্তির স্ট্র্যাটেজি জার্নালের প্রধান সম্পাদক ওলেগ দ্ভোইনিকভ বলেছেন:

“ব্যতিক্রম অবশ্যই রয়েছে. নির্মাণ করা যেতে পারে বাষ্প ও গ্যাসের টারবাইন এবং কয়লা থেকেও বিদ্যুত শক্তি কেন্দ্র. কিন্তু শক্তির একটা নিখুঁত ভারসাম্যের ব্যাপারও রয়েছে. বিশেষজ্ঞরা বলে থাকেন যে, প্রায় এক হাজার পারমানবিক রিয়্যাক্টর, নীতিগত ভাবে আমাদের বিশ্বে থাকতেই পারে. অন্য বিষয় হল যে, পারমানবিক বিদ্যুত কেন্দ্র তৈরী করার সঙ্গে একসাথে সমাধান করা দরকার কি করে ব্যবহৃত পারমানবিক জ্বালানী পুনরুদ্ধার করা যাবে. কিন্তু আগামী তিরিশ – চল্লিশ বছরের জন্য এই ধরনের রিয়্যাক্টরের ভবিষ্যত সম্ভাবনা রয়েছে আর সেই গুলি তৈরী করাও হবে”.

তেজস্ক্রিয় দুর্ঘটনা ও বিপর্যয় থেকে নিহতদের স্মৃতির উদ্দেশ্যে আজ রাশিয়া, ইউক্রেন ও বেলোরাশিয়া বহু শহরে স্মরণ সভা করা হবে. ইউরোপের দশটি দেশে “চেরনোবিল ও ফুকুসিমার পরে ভবিষ্যতের জন্য”, নামে এক সপ্তাহ ব্যাপী “ইউরোপের কাজ কর্ম সপ্তাহ” পালন করা হবে. তাদের মধ্যে চেরনোবিল দুর্ঘটনায় ত্রাণের কাজ যাঁরা করেছেন, তাঁদের সঙ্গে সাক্ষাত্কার থাকবে, যাঁদের পুরুষকার ও আত্মত্যাগের জন্য এই বিপর্যয়ের পরিণতি অতিক্রম করা সম্ভব হয়েছে.