ভারতের অন্ধ্র প্রদেশ রাজ্যের পুলিশ স্থানীয় জনতাকে মাভরোদি মন্ডিয়াল মানিবক্স নামের টাকার পিরামিডে, যা রাশিয়ার স্ক্যান্ডাল করে বিখ্যাত হওয়া ঠগ ব্যবসায়ী সের্গেই মাভরোদি তৈরী করেছে, তাতে অর্থ লগ্নি করতে নিষেধ করেছে. সে রাশিয়াতেই বহু সহস্র লোককে সর্বস্বান্ত করেছে. সোভিয়েত দেশ পতনের পরে উপরে ভেসে ওঠা প্রাক্তন গণিতবিদ সের্গেই মাভরোদি দেখিয়েছিল যে, সে নিজে লোক ঠকানোয় খুব ওস্তাদ, যে বহু সরল লোকের বিশ্বাস ব্যবহার করেছিল, যারা মনে করেছিল যে, গরীব হলেও একদিন সকালে ঘুম থেকে ওঠা যাবে হঠাত্ বড় লোক হয়ে. আর পরে যখন তাকে রাশিয়াতে ধরে ফেলা হয়েছিল, তারপরে সে জেল থেকে ছাড়া পাওয়ার পরে শুধু রাশিয়াতেই নয়, বরং দেশের বাইরেও লোক ঠকানো অব্যাহত রেখেছে. তার মধ্যে দেখা গেল – ভারতও রয়েছে.

সিআইডি দপ্তরের প্রধান টি কৃষ্ণ প্রসাদ ঘোষণা করেছেন যে, “আমরা সমাজের কাছে আবেদন করছি, এই ধরনের লোক ঠকানো খেলায় অংশ না নিতে ও তাতে নিজেদের অর্থ লগ্নি না করতে. এই ধরনের কারবারে যারা অংশ নেয়, তাদের ভাল কিছু হতেই পারে না”. এই উচ্চ পদস্থ পুলিশের মন্তব্য অন্ধ্র প্রদেশ রাজ্যে ইন্টারনেটে আশ্চর্য করে দেওয়া মাভরোদি মন্ডিয়াল মানিবক্স নামের টাকার পিরামিড থাকার ঘোষণার পরেই করা হয়েছে, যেখানে আশ্বাস দেওয়া হয়েছে এই ধরনের একে অপরকে সাহায্য করার তহবিলে টাকা দিলে কোন লোকের কোন ক্ষতি তো হবেই না, উল্টে লাভ হবে. কারণ এখানে সকলেই জিতে যাবে.

ভারতের এই MMM এর একেবারেই সহজ স্কীমে অন্ধ্র প্রদেশের লোকদের বলা হয়েছে সাইটে পাঁচ হাজার টাকা দিয়ে গ্রাহক হওয়া শুরু করতে, তারপরে সেই স্কীমে কাজ শেষ হলে, অর্থাত্ তাতে নিজে ছাড়া আরও কয়েক জনকে সামিল করে এই রকমের টাকা দেওয়ালে এবং তাদেরও এই ধরনের ইন্টারনেটে রাখা সাইট নির্মাতাদের তৈরী শেয়ারের বদলে “মাভরো” দেওয়ানো হলে গ্রাহকের অ্যাকাউন্টে টাকা একেবারে বৃষ্টির মতো ঝরতে থাকবে. এখানে দেখার মতো হল যে, ভারতের দক্ষিণে এসে পৌঁছনোর আগে, এই নতুন MMM ভারতের অন্যান্য রাজ্য, যেমন মহারাষ্ট্র, পাঞ্জাব ও গুজরাতে জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে.

এবারে মনে করার সময় হয়ে গিয়েছে, রাশিয়ার এই নাগরিক মাভরোদি কে, যার নামে এই মাভরোদি মন্ডিয়াল মানিবক্স সাইট তৈরী করা হয়েছে. মনে করে গল্প বলেছেন আমাদের সমীক্ষক সের্গেই তোমিন:

“এই চশমা পরা নাতিদীর্ঘ লোকটি, যাকে দেখতে স্কুল মাস্টারের মতো, সে একসময়ে রাশিয়ার রাষ্ট্রপতি বরিস ইয়েলতসিনের মতো এখানে বিখ্যাত হয়েছিল. এটা ছিল দেশ ভেঙে যাওয়ার সময়ে আজ থেকে কুড়ি বছর আগে, তখন বহু লোক, যাদের কাজ ছিল না ও জীবনের কোন অর্থও ছিল না, তারা খুবই তন্নতন্ন করে খুঁজেছিল নতুন পরিস্থিতিতে কি করে বেঁচে থাকা যায়.

তখনই এই MMM শুরু হয়েছিল, যারা খুবই আগ্রাসী ভাবে বিজ্ঞাপন দিয়ে লোককে এই মাভরোদি তৈরী স্কীমে অর্থ লগ্নি করতে বলেছিল আর তার বদলে দিয়েছিল একটা পাতলা কাগজের উপরে মাভরোদির ছবি সমেত টিকিট, যেটা তারা বলেছিল শেয়ারের কাগজ. একটা সময় পর্যন্ত এই স্কীম চালু ছিল, তারপরে পিরামিড অব্যর্থ ভাবেই ভেঙে পড়েছিল, তার তলায় বহু সরল লগ্নি করা লোকও চাপা পড়ছিল, যারা বিশ্বাস করেছিল যে, একটা দারুণ কিছু আশ্চর্য ব্যাপার হবেই. তারা নিজেদের সব জমা টাকা একেবারেই ফেরত না পেয়ে হারিয়েছিল.

২০০৭ সালে অবশেষে মাভরোদির জেল থেকে ছাড়া পাওয়া হয়েছিল, তারপরে সে আবার ২০১১ সালে MMM – 2011 নাম দিয়ে একটা স্কীম চালু করেছিল. সেই কারণে নভোসিবিরস্ক শহরে ২০১২ সালের এপ্রিল মাসে মাভরোদির বিরুদ্ধে ও তার সাকরেদ আলেক্সেই আস্তাখভের বিরুদ্ধে মামলা রুজু করা হয়. তদন্তে প্রকাশ হয়েছিল যে, এই দুজনে ইন্টারনেটে বছরে শতকরা ৯০০ ভাগ সুদ পাওয়া যেতে পারে বলে অর্থ লগ্নি নেওয়া শুরু করেছিল. কিন্তু যেই মামলা শুরু হয়েছিল এই পিরামিড তার পরেই উঠে যায়”.

আর এবারে ঠিক একই ভাবে ভারতে এরা করতে চলেছে. দেখে শুনে মনে হয়েছে যে, ভারতে এসে, সের্গেই মাভরোদি হিসেব করেছে দুটো জিনিষ নিয়ে. প্রথমতঃ, ভারতে বিশেষত, ভারতের প্রত্যন্ত এলাকায় লোকে তার কাজকর্ম নিয়ে কিছুই জানে না. আর তার মানে হল, কাজ করা যেতে পারে, তাকে কেউ ধরিয়ে দেবে এই ধরনের আশঙ্কা না করেই. দ্বিতীয়তঃ, ভারত, রাশিয়ারই মতো, এমন একটা দেশ, যেখানে লোকে ভালবাসে বিশ্বাস করতে অলৌকিক সব বিষয়ে ও লোককে ভরসা করে থাকে. এই রকমই হল ভারতীয় ও রুশ লোকদের প্রকৃতি, তাঁরা বিশ্বাস করেন রূপকথা, কল্প কাহিনী আর গল্পে, তাদের মানসিকতাও একই রকমের.

কিন্তু এই ধরনের সামাজিক পরিবেশ – খুবই ভাল জায়গা, যেখানে মাভরোদি মার্কা ঠগী লোকরা লোকের বিশ্বাসকেই ব্যবহার করে থাকে, যারা ভাবে কিছু না করেই রাতারাতি বড় লোক হওয়া যেতে পারে.