২৬শে এপ্রিল থেকে শুরু হয়েছে সেন্ট জর্জ টেপ বা পবিত্র গিওর্গি ফিতা নামের সামাজিক অনুষ্ঠান. একটা কালো – কমলা রঙের ফিতা এখন আর শুধু রাশিয়ার লোকরাই ভাল করে চেনেন না, বরং বিশ্বের ১০০টি দেশেও চেনে. যেখানই রুশ লোকরা আছেন, তাঁরা এই ফিতা, যা মহান বিজয়ের প্রতীক হয়েছে, সেটাকে নিজেদের জামায়, ব্যাগে, গাড়ীর গায়ে লাগিয়ে নিচ্ছেন.

এই ধরনের কাজ আজ নয় বছর ধরে করা হচ্ছে. শহরের রাস্তায় স্বেচ্ছাসেবকরা লোককে বিনামূল্য এই ফিতা দিতে থাকবেন, এর রঙ রাশিয়ার সবচেয়ে মর্যাদাময় যুদ্ধে পাওয়া পদকের রঙে তৈরী. শুধুমাত্র যুদ্ধ ক্ষেত্রে বীরত্ব প্রদর্শনের জন্য রাশিয়াতে গত দুশো বছর ধরে এই পুরস্কার দেওয়া হয়েছে. কালো আর কমলা রঙ – যুদ্ধ ক্ষেত্রের ধোঁয়া ও আগুনের প্রতীক. দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময়ে এই রঙ আবার করে ব্যবহার করা শুরু হয়েছিল সৈন্যদের বীরত্বের পদকে, আর তারপরে ব্যবহার করা হয়েছিল বিজয়ে মেডেলের রঙে.

রেডিও রাশিয়া – এই সামাজিক অনুষ্ঠানের ঐতিহ্যবাহী সহকর্মী. আর কালো ও কমলা ফিতা আমাদের রেডিও শ্রোতাদের জন্য বহু দেশে ইতিমধ্যেই পাঠানো হয়েছে. রেডিও রাশিয়ার জন্য এই ফিতা খুবই দামী এই কথা উল্লেখ করে রুশ ভাষায় প্রচার বিভাগের প্রধান সম্পাদক আরমেন গাসপারিয়ান বলেছেন:

“এটা দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ সম্বন্ধে জাতীয় স্মৃতি ও বিবেকের সহযোগিতার এক সামাজিক প্রতীক, সেই ভয়ঙ্কর মূল্য, যা সোভিয়েত দেশের মানুষরা দিয়েছিল বিজয়ের পদতলে. সংখ্যায় ২ কোটি ৭০ লক্ষ মানুষের প্রাণ. আমাদের রেডিও শ্রোতারা প্রাক্তন সোভিয়েত দেশের যে সব শহরে আমাদের অনুষ্ঠান প্রচার করা হয়, ইউরোপে, এশিয়াতে, আমেরিকাতে আজ এই প্রতীক নিজেরা নিজেদের সঙ্গে বয়ে নিয়ে বেড়ান”.

এটা ঠিক যে, এই অনুষ্ঠানের সবচেয়ে প্রসারিত অংশ মস্কোতেই হয়ে থাকে. এই বছরে রাশিয়ার রাজধানীতে ঠিক করা হয়েছে তিরিশ লক্ষ ফিতা দেওয়ার, এই কথা উল্লেখ করে রাশিয়ার ছাত্র সমাজের প্রধান মিখাইল আরুত্যুনভ বলেছেন:

“এই কাজ শুরু হওয়ার দিন ২৬শে এপ্রিল, মস্কো শহরে উদ্বোধন করা হয়েছে এক গ্র্যাফিক্সের প্রদর্শনী. গিওর্গি ফিতা অনুষ্ঠানে এটা কটা নতুন সংযোজন, যাতে বেশ কয়েকটি দলের কাজ দেখানো হচ্ছে. এর জন্য স্লোগান হয়েছে দাদুকে বিজয়ের জন্য ধন্যবাদ!”

এই কয়েক বছর ধরে এই ধরনের অনুষ্ঠান চলার সময়ে সারা বিশ্বে ১০ কোটির বেশী ফিতা দেওয়া হয়েছে. রেডিও রাশিয়া এই অনুষ্ঠান নিয়ে কি হচ্ছে তা জানিয়ে যেতে থাকবে. রেডিও রাশিয়া তার সাইটে এর ফোটো দেবে, তার মধ্যে বিজয় দিবসে রেডিও শ্রোতাদের ছবিও দেওয়া হবে.