রাশিয়া ও চিন এশিয়া প্রশান্ত মহাসাগরীয় এলাকায় মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের রকেট প্রতিরোধ ব্যবস্থা খুলে ধরার বিষয়ে আরও বেশী করেই উদ্বিগ্ন হয়েছে. এই বিষয়ে রাশিয়ার উপ প্রধানমন্ত্রী দিমিত্রি রগোজিন ঘোষণা করেছেন.

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এশিয়াতে নিজেদের রকেট প্রতিরোধ ব্যবস্থা খুবই গুরুতর ভাবে বাড়িয়ে ফেলার ইচ্ছা প্রকাশ করেছে. আমেরিকার লোকরা ঠিক করেছে আলাস্কা অঞ্চলে ১৪টি রকেট বিরোধী রকেট ব্যবস্থা বসানোর, রেডিও নির্ণয় করার দ্বিতীয় স্টেশন জাপানে বসানোর. আর তারই সঙ্গে অন্য এক নিজেদের সহকর্মী দেশ দক্ষিণ কোরিয়ার রকেট ক্ষমতা বাড়িয়ে দেওয়ার. মস্কো ও বেজিং বিশ্বাস করে যে, এর ফলে বিশ্বের স্ট্র্যাটেজিক শক্তি ভারসাম্য নষ্ট হবে. মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র খুবই লোক ঠকাচ্ছে যখন বলছে তাদের রকেট প্রতিরোধ ব্যবস্থা শুধু উত্তর কোরিয়ার রকেট হুমকি ঠাণ্ডা করার জন্য করা হচ্ছে, এই রকম মনে করে রাশিয়ার স্ট্র্যাটেজিক রকেট বাহিনীর প্রাক্তন প্রধান কর্নেল-জেনারেল ভিক্টর এসিন বলেছেন:

“মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র সারা বিশ্ব জুড়ে রকেট প্রতিরোধ ব্যবস্থা সাজাতে চাইছে, যাতে রাশিয়া ও চিনের পারমানবিক শক্তির ক্ষমতা কমানো সম্ভব হয়. মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র উত্তর কোরিয়ার বিরুদ্ধে দেখাই যাচ্ছে যে, কোন রকমের তুলনা করার মতো প্রত্যুত্তর তৈরী করছে না, তাই চিনের উদ্বেগ স্পষ্টই দেখা যাচ্ছে. মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে তারা এখন সহযোগী খুঁজছে, তারাও জানে যে, রাশিয়া মোটেও এই রকেট প্রতিরোধ ব্যবস্থায় খুশী নয়”.

রাশিয়া ও চিনের এই ক্ষেত্রে সহযোগিতা তথ্য বিনিময় দিয়ে কয়েক বছর আগে শুরু হয়েছিল. চিনের চেয়ারম্যান সি জিনপিন এক মাস আগে মস্কো সফরের পরে এখন জোর দেওয়ার জায়গা পাল্টে গিয়েছে ও এবারে একে অপরের অবস্থান নিয়ে যোগাযোগ করতে শুরু করেছে ও সক্রিয়ভাবে একত্রে কাজ করছে. মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের কাজ কর্মের বিরুদ্ধে একত্রিত ভাবে প্রয়োজনীয় উত্তর খোঁজার জন্য মস্কো ও বেজিংকে বাধ্য করেছে এই ধরনের সকলের জন্যই হুমকি ও বিপদের সম্ভাবনা, এই রকম মনে করে রাজনৈতিক গবেষণা ও পূর্বাভাস কেন্দ্রের প্রধান আন্দ্রেই ভিনোগ্রাদভ:

“যদি রাশিয়া ও চিনের পক্ষে কোন একটা বর্তমানে থাকা রকেট বিরোধী ব্যবস্থার প্রত্যুত্তর নিয়ে একসঙ্গে কাজ করার বিষয়ে সমঝোতায় পৌঁছনো সম্ভব হয়, তবে এটা হবে খুবই গুরুতর ধরনের আমাদের দুই দেশের মধ্যে সহযোগিতার গভীরতা নিয়ে একটা সূচক ও এই এলাকায় সহযোগিতা বৃদ্ধির ব্যাপারে একটা সম্ভাবনার প্রতিফলন”.

বিশেষজ্ঞরা এখনও পূর্বাভাস দিতে তৈরী নন, কিন্তু রাশিয়া ও চিনের পক্ষ থেকে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের এশিয়াতে রকেট বিরোধী ব্যবস্থার বিরুদ্ধে কি ব্যবস্থা একজোট হয়ে নেওয়া হবে. কিন্তু সামাজিক-রাজনৈতিক গবেষণা কেন্দ্রের ডিরেক্টর ভ্লাদিমির ইভসেয়েভ উল্লেখ করেছেন যে, চিনের রাশিয়ার মতো রকেট প্রতিরোধ ব্যবস্থা সমস্ত ধরনের নেই, তাই তিনি বলেছেন:

“আমেরিকার রকেট প্রতিরোধ ব্যবস্থা বাস্তবে তৈরী করা হচ্ছে একটা সম্পূর্ণ আংটির মতো করেই, একেবারে আলাস্কা থেকে অস্ট্রেলিয়া পর্যন্ত. এই আংটির মধ্যে জাপান, দক্ষিণ কোরিয়া, ফিলিপাইন রয়েছে. চিনে বিশেষ মনোযোগ দেওয়া হয়েছে এই সব রকেট প্রতিরোধ ব্যবস্থা নিয়ে, কারণ আন্তর্মহাদেশীয় ব্যালিস্টিক রকেটের ক্ষেত্রে তাদের ক্ষমতা এখনও সীমাবদ্ধ”.

উপ প্রধানমন্ত্রী দিমিত্রি রগোজিন নিজের পক্ষ থেকে মনোযোগ আকর্ষণ করেছেন চিনের বিশেষজ্ঞদের ঘোষণার প্রতি. তাঁরা প্রস্তাব করছেন চিনের পারমানবিক ক্ষমতা বৃদ্ধি করার, যাতে তারা আমেরিকার রকেট প্রতিরোধ ব্যবস্থাকে অতিক্রম করতে পারে. রাশিয়া সম্বন্ধে যা বলা যেতে পারে, তা হল নিজেদের সুদূর পূর্বে রাশিয়া ঠিক তত গুলিই অস্ত্র রাখবে, যা প্রয়োজন পড়বে এই এলাকায় যে কোন রকমের সম্ভাব্য আগ্রাসন থেকে প্রতিরোধ করার জন্য, ঘোষণা করেছেন দিমিত্রি রগোজিন.