ভ্লাদিমির পুতিন নিজের বর্তমান রাষ্ট্রপতি হিসাবে শাসনের সামাজিক- অর্থনৈতিক ফলাফলে সন্তুষ্ট. এই বিষয়ে তিনি আজ ঘোষণা করেছেন, রাশিয়ার নাগরিকদের সঙ্গে এক হট লাইন অনুষ্ঠানে উত্তর দিতে এসে. দেশের প্রধানের মতে, রাশিয়াতে অর্থনৈতিক রাজনীতিতে কিছু সংশোধনের প্রয়োজন রয়েছে, কিন্তু তার ভিত্তি অপরিবর্তনীয় অবস্থাতেই থাকবে.

মন্ত্রীসভার কাজ মূল্যায়ণ করে পুতিন স্বীকার করেছেন যে, মন্ত্রীসভার কিছু কাজ অসম্পূর্ণ রয়েছে. কিন্তু তিনি মনে করেন যে, মন্ত্রীসভার সদস্যদের, যাঁরা এখন এক বছরের কিছু কম হল কাজ করছেন, তাঁদের নিজেদের কাজের সুযোগ দেওয়া উচিত্, আর এই ক্ষেত্রে দ্রুত দায়িত্বশীল পদের লোকদের পাল্টানো হতে থাকলে, তাতে সুবিধার থেকে অসুবিধাই বেশী হয়. পুতিনের কথামতো, সামাজিক দায়িত্ব, যা তিনি আজ রাষ্ট্রের সরকার ও এলাকার নেতৃত্বের সামনে দিয়েছেন, তা সম্পন্ন করা খুবই কঠিন কাজ. কিন্তু এই মাত্রা বাড়ানো হয়েছে জেনে বুঝেই. শুধুমাত্র এই ভাবেই বাস্তব ফলাফল পাওয়া যেতে পারে, তাই তিনি বলেছেন:

“মাইনে দ্রুত বাড়ছে, শ্রমের ফলে বাস্তব ফলাফল যত দ্রুত বাড়ছে তার থেকেও. এটা অর্থনীতির দিক থেকে খুব ভাল সূচক নয়, কিন্তু সামাজিক ন্যায্য হওয়ার দিক থেকে আমরা সত্যই ঠিক দিকে এগিয়ে যাচ্ছি. আমরা ইতিমধ্যেই অবসর ভাতা দুবার বাড়িয়েছি – ফেব্রুয়ারী ও এপ্রিল মাসে. মাতৃ-ধনের সঙ্গে তৃতীয় সন্তানের জন্যও যে সব জায়গায় জনসংখ্যা সমস্যা রয়েছে, সহায়তা মূলক আর্থিক সাহায্য বৃদ্ধি করেছি”.

দুর্নীতি প্রতিরোধ বিষয়ে ফল কি হচ্ছে সেই প্রশ্নের উত্তর দিতে গিয়ে রাশিয়ার রাষ্ট্রপতি যে তথ্য দিয়েছেন, তাতে ৮০০ জনেরও বেশী সরকারি কর্মী, সংসদ সদস্য, আইন শৃঙ্খলা রক্ষার দায়িত্বে থাকা প্রতিনিধি, যাদের বিশেষ ধরনের আইন সংক্রান্ত মর্যাদা ছিল, তাদেরও দুর্নীতি সংক্রান্ত কারবারের সঙ্গে যোগাযোগের অভিযোগে ফৌজদারী মামলা করে আদালতের সামনে দাঁড় করানো হয়েছে শুধু গত বছরেই. পুতিন মনে করেন না যে, দুর্নীতি সংক্রান্ত লড়াইয়ে কোন রকমের বাঁক নেওয়া হয়েছে আর আশ্বাস দিয়েছেন যে, এই কাজ চলতেই থাকবে.

কয়েকদিন আগের বস্টনে সন্ত্রাস সম্পর্কে রাশিয়ার রাষ্ট্রপতি উল্লেখ করেছেন যে, সম্মিলিত ভাবে আন্তর্জাতিক সমাজের সঙ্গে সক্রিয় না হলে, এই ধরনের ট্র্যাজেডি ঘটতেই থাকবে. রাশিয়া নিজেই এক সন্ত্রাসের প্রথম শিকার, মনে করিয়ে দিয়েছেন পুতিন. আরও যোগ করেছেন যে, তাঁর সবসময়েই বিক্ষোভ তৈরী হয়েছিল, যখন সন্ত্রাসবাদী, যাঁরা রুশ প্রজাতন্ত্রের এলাকায় রক্তক্ষয়ী ও খুবই নিন্দনীয় কাজকর্ম করেছে, তাদের পশ্চিমের সংবাদ মাধ্যমে “জঙ্গী বিদ্রোহী” ছাড়া আর কিছু বলা হয় নি.

এটা ভ্লাদিমির পুতিনের এগারোতম রাশিয়ার নাগরিকদের সঙ্গে সরাসরি আলাপচারিতা, যা হচ্ছে একেবারে তাত্ক্ষণিক প্রচারের মাধ্যমে. এই টেলিভিশন ও রেডিও সম্প্রচারের আগেই দেশের প্রধানের উদ্দেশ্যে ১৭ লক্ষ প্রশ্ন এসেছে.

সব মিলিয়ে এবারের প্রশ্নোত্তরের আসর হয়েছে ৪ঘন্টা ৪৭ মিনিট সময় ধরে ও দেশের প্রধানের উদ্দেশ্যে প্রায় ৩০ লক্ষ প্রশ্ন করা হয়েছিল. তিনি বহু প্রশ্নের বিশদ উত্তর সহ ২৭টি প্রশ্নের ছোট করে উত্তর দিয়েছেন.