রাশিয়ার লোকেদের জন্য, এবারে যারা এশিয়া ও হিন্দুস্থানী ফলিত শিল্প ও আধুনিক সংস্কৃতির বিষয়ে আগ্রহ প্রকাশ করে থাকেন, তারা নতুন তথ্যের উত্স খুঁজে পেয়েছেন. তার জন্য ইন্টারনেটে সেনের গ্যালারি নামে একটা সাইট খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে – যাতে শিল্প সম্বন্ধে সংগ্রহ নিয়ে কিছু কথা ও ছবি রয়েছে. তৈরী করেছে ওলগা ও দেবাশিস সেনগুপ্ত নামের গুবকিনের নামাঙ্কিত খনিজ তেল ও গ্যাস বিষয়ক ইনস্টিটিউট থেকে সোভিয়েত দেশ পতনের সময়ে নব্বইয়ের দশকে পাশ করা দুই প্রাক্তন ছাত্রছাত্রীর রুশ-ভারতীয় এক পরিবার, যাদের রাশিয়ার উরালে একটা তাপ-রোধক পলিমার দ্রব্যের কারখানা রয়েছে – আয়ের উত্স হিসাবে দেখানোর জন্য. তারা আজ অনেক বছর ধরে নাকি লোক শিল্পের বস্তু সংগ্রহ করে চলেছে: তাঁতের বস্ত্র, ছবি, স্থাপত্য, যা ভারতে ও বিশেষ করে হিন্দুস্থান নামে পরিচিত এলাকার শিল্পীরা তৈরী করেছেন. যেসব জিনিষ তারা এবারে প্রদর্শনী করে দেখিয়েছে, তা নিয়ে ওলগা বলেছে যে, এই গুলি নাকি বিশেষজ্ঞরা দেখে প্রদর্শনী করে দেখানোর উপযুক্ত বলে জানানো হয়েছে. সে বলেছে:

“এই গ্যালারির উদ্দেশ্য হল লোককে দেখানো ও শেখানো – এটা একটা বেসরকারি সংস্থা বলে রাশিয়াতে নথিভুক্ত করা হয়েছে. আমরা শুধু এখানে ঐতিহ্যই সম্পূর্ণ করে দেখাই না, বরং বর্তমানের ভারত, পাকিস্তান, বাংলাদেশ, নেপাল, মালয়েশিয়া ও অন্যান্য এশিয়ার দেশের সাজানোর ও ফলিত শিল্পকলার দৃষ্টান্ত পেশ করে থাকি. সেই গুলি ২০০টিরও বেশী শিল্পীদের কাজ. এই জিনিষগুলি কাঠ, হাড়, পাথর, ব্রোঞ্জের জালের উপরে করা শিল্পীদের কুটির শিল্পের নিদর্শন. রাশিয়ার বিভিন্ন শহর থেকে উত্সুক লোকরা আমাদের সাইটে এই গুলি দেখে থাকেন. মাত্র কয়েকদিন আগেই ইন্টারনেটে এই গ্যালারি প্রদর্শনী করেছে – আর তা এর মধ্যেই হাজার জন লোকে দেখেছে”.

কৃত্রিম জগতে থেকেও সেনের গ্যালারি মস্কোর এক রেস্তোরাঁয় বিগত ছুটির শনিবারে এক প্রদর্শনীর আয়োজন করেছিল, যেখানে হাতের কাজ করা নানা রকমের শাড়ী দেখানো হয়েছে. রামধনুর সব রঙের শাড়ীর উপরে সোনালী ও রুপালী রঙের জরির কাজ, যা গত শতকে ও এই একবিংশ শতাব্দীতে তৈরী অবস্থায় কিনতে পাওয়া যায় – কেরালা, কর্নাটক, রাজস্থান, দিল্লীর নানা বাজার থেকে, সেই গুলিই এখানে দেখানো হয়েছে. অল্প বয়সী ভারতীয় ও রুশী মেয়েদের শাড়ী পরিয়ে হাঁটান হয়েছে.

সেই দিনেই নিজেদের কাজের একটা গুরুত্বপূর্ণ দিক বলে সেনের গ্যালারি ঘোষণা করেছে দাতব্য. তারা এখানে প্রদর্শনীর উদ্বোধন উপলক্ষে লটারি খেলার আয়োজন করেছিল ও সেই জমা পড়া অর্থ, যা আয়োজকরা বলেছেন কয়েক হাজার ডলার, তা তারা তুলে দিতে যাচ্ছেন “জীবন উপহার দাও” নামের বিখ্যাত রুশ দাতব্য তহবিলে, যেটি রাশিয়ার মান্যগন্য শিল্পী অভিনেতারা তৈরী করেছেন কর্কট রোগে ও অন্যান্য কঠিন রোগে আক্রান্ত শিশুদের চিকিত্সা করার জন্য.

আসন্ন ভবিষ্যতে সেনের গ্যালারি – মস্কো ও ইকাতেরিনবুর্গ শহরের নানা জায়গায় এই প্রদর্শনীর আয়োজন করতে চলেছে, তারপরে তারা যাবে অন্যান্য শহরেও, ইচ্ছা রয়েছে সেখানে রাশিয়া ও হিন্দুস্থানী লোক শিল্পের কারিগরদের এনে নানা রকমের মাস্টার ক্লাস আয়োজন করা. রাশিয়ার হাতে বোনা কাজের শিল্পীরা বর্তমানে এই গ্যালারির বায়না পেয়ে ভারতীয় মহাকাব্য অনুসারে একটি প্যানেল বানাতে শুরু করেছেন.