এই সপ্তাহে রাষ্ট্রপতিকে যে কোন প্রশ্ন করে তাতে উত্তর পাওয়ার আশা রয়েছে শুধু রাশিয়ার লোকদেরই নয়, ২৫শে এপ্রিল ভ্লাদিমির পুতিন ঐতিহ্য মেনেই তাঁর “সরাসরি উত্তরের” আসরে বসছেন.

এটা হতে চলেছে এগারোতম সরাসরি আসর, যাতে ভ্লাদিমির পুতিন অংশ নিতে চলেছেন ও বর্তমানের রাষ্ট্রপতি পদে আরোহণের পরে প্রথমবার. বিগত বছর গুলিতে পুতিন দেশের মন্ত্রীসভার প্রধান হিসাবে কথা বলেছিলেন জনগনের সঙ্গে. এই সময়ের মধ্যে রুশ লোকদের প্রশ্নের পরিধি অনেক পাল্টে গিয়েছে, কিন্তু প্রধান বিষয় গুলি একই রয়ে গিয়েছে. সামাজিক ক্ষেত্র, আঞ্চলিক সমস্যা, বিশ্বে রাশিয়ার অবস্থান – এই সবই নাগরিকদের অখণ্ড আগ্রহের কারণ হয়ে থাকে. প্রসঙ্গতঃ, প্রত্যেক সরাসরি আসরেই এমন কিছু প্রশ্ন থাকে, যেগুলিকে বলা খুবই কঠিন যে, সাধারন প্রশ্ন বলে. উদাহরণ হিসাবে, যাঁরা ফোন করেছিলেন, তাঁদের আগ্রহ হয়েছিল জানার যে, ভ্লাদিমির পুতিনকে তাঁর জন্মদিনে উপহার দেওয়া উস্সুরিস্কের ব্যাঘ্র শিশুর কি পরিণতি হয়েছে. তারই সঙ্গে রাশিয়ার লোকরা জিজ্ঞাসা করেছেন পুতিন নিজেকে রোমান্টিক ভাবেন কি না, তিনি রুশী হামাম সম্বন্ধে কি মনে করেন. আগ্রহ প্রকাশ করেছিলেন যে, রাষ্ট্রপতি কি ভাবে তাঁর নববর্ষ পালন করবেন – কারণ বিগত বেশ কিছু এই ধরনের অনুষ্ঠানের সময় ছিল ডিসেম্বর মাস.

এই সব “হট লাইনে” পুতিনের জন্য মজার সব প্রস্তাব আর অনুরোধও সব সময়েই করা হয়ে থাকে. ২০০৮ সালে যেমন, তাঁর প্রধান মন্ত্রী থাকার সময়ে প্রশ্ন ছিল খুবই আচমকা: যেমন, দাবী করা হয়েছিল যাঁরা ব্যঙ্গ কৌতুক করেন, তাঁদের শাসন করার, যাতে তাঁরা শ্বাশুড়ী (রাশিয়াতে সাধারণতঃ বৌয়ের মাকে নিয়েই) নিয়ে ব্যঙ্গ করা বন্ধ করেন. কিছু হাস্যস্কর প্রশ্ন পুতিন নিজেই বেছে উত্তর দিয়েছেন. যেমন তিনি বলেছিলেন:

“কে দেশ চালায়, যখন আপনি ও দেশের রাষ্ট্রপতি (তখন দিমিত্রি মেদভেদেভ) ঘুমিয়ে থাকেন? আমরা পালা করে ঘুমাই. সব কিছুই নিয়ন্ত্রণে রয়েছে, চিন্তা করবেন না!”

এই ধরনের আলোচনার সময়ে নানা ধরনের অদ্ভুত ঘটনাও ঘটেছে. একবার পুতিনকে এমনকি প্রশ্ন করা হয়েছিল কোন ধরনের আচার বেশী খেতে ভাল আর কেউ একজন মহিলা প্রস্তাব করেছিলেন, তাঁর সঙ্গে ধীর লয়ে নাচ করার জন্য. ২০০২ সালে পুতিনের সঙ্গে কথা বলার সময়ে একটি ১১ বছরের মেয়ে রাষ্ট্রপতির কাছে অভিযোগ করেছিল যে, তার নিজের শহরে স্কোয়ারে বসানো হয়েছে কৃত্রিম ফার গাছ, জীবন্ত ফার গাছের জায়গায়. পরের দিনই হেলিকপ্টারে চাপিয়ে এক দৈত্যাকার ফার গাছ তুলে এনে বসিয়ে দেওয়া হয়েছিল সেই স্কোয়ারে.

আর এক নাগরিক পুতিনের কাছে প্রশ্ন করেছিলেন যে, রাষ্ট্রপতির কুকুর কোনি যদি কয়েকটা বংশধর দেয়, তাহলে কি তার একটা পোষার জন্য পাওয়া যেতে পারে. রাষ্ট্রপতি আশ্বাস দিয়েছিলেন যে, তিনি ব্যাপারটা বিচার করে দেখবেন. পুতিন ব্যাখ্যা করেছিলেন যে, এই সব বাচ্চা কুকুর দেওয়া দরকার শুধু ভাল লোকের হাতে, তাই যারা এই বাচ্চা নিতে চাইবেন, তাদের সকলের সঙ্গেই আলাদা করে কথা বলা হবে.

“কি করা দরকার, যাতে সমস্ত ইচ্ছা পূরণ হয় আর সকলেই ভাল করে বাঁচতে পারে, সুস্থ থাকতে পারে ও খুশী হতে পারে?” এই ধরনের দার্শনিক প্রশ্ন ২০০৬ সালে ক্লাস টুয়ের ছাত্র সাশা নাজারেঙ্কোকে খুবই চিন্তিত করেছিল. ভ্লাদিমির পুতিন বলেছিলেন যে, সবচেয়ে বড় কথা হল ভাল হবে বলে বিশ্বাস করা, আর নিজের লক্ষ্যের দিকে যাওয়া. আর তারপরে সাশাকে ক্রেমলিনের ক্রিসমাস উত্সবে নিমন্ত্রণ করেছিলেন.