মঙ্গলবারে ভারতের পররাষ্ট্র দপ্তর থেকে ঘোষণায় অভিযোগ জানানো হয়েছে যে, চিনের বাহিনী জম্মু ও কাশ্মীরের লাদাখ এলাকায় বাস্তব নিয়ন্ত্রণ রেখা পার হয়ে এসে জায়গা নিয়েছে. ভারতীয় পক্ষ দাবী করেছে অবিলম্বে চিনের সেনা বাহিনীকে নিজেদের এলাকায় চলে যাওয়ার জন্য আর একই সঙ্গে নিজেদের বাহিনী পাঠিয়েছে বিতর্কিত এলাকায়. চিন ঘোষণা করেছে যে, তাদের সেনারা কোন রকমের সীমারেখা পার করে নি, আর ভারতকে সু প্রতিবেশী হিসাবে আলোচনার মাধ্যমে সমস্যা সমাধান করতে আহ্বান করেছে. বেশীর ভাগ পর্যবেক্ষকদের মতেই এই ভাবেই বিষয়ের নিষ্পত্তি হবে – কারণ সম্পর্ক জটিল করা এখন না চিনের না ভারতের কারোরই দরকার নেই.

ঘটনা ঘটেছে ১৫ই এপ্রিল, চিনের গণ স্বাধীনতা বাহিনীর একটি ট্রুপ এই এলাকার পাহাড়ী জায়গায় তাঁবু খাটিয়েছিল, যা ভারতের পক্ষ থেকে নিজেদের এলাকা বলে মনে করা হয়. এই নিয়ে রাশিয়ার স্ট্র্যাটেজিক গবেষণা ইনস্টিটিউটের বিশেষজ্ঞ বরিস ভলখোনস্কি বলেছেন:

“এই পরিস্থিতির মূল্যায়নের ক্ষেত্রে জটিলতা রয়েছে এই কারণে যে, ভারতে প্রক্তন জম্মুও কাশ্মীর রাজ্যের পশ্চিমের সমস্ত এলাকাকেই বেআইনি ভাবে দখল করা বলে মনে করে, তার মধ্যে সেই এলাকাও রয়েছে, যা বাস্তবে চিন নিয়ন্ত্রণ করে থাকে. কিন্তু এমনকি বাস্তবে নিয়ন্ত্রণের রেখাও যথেষ্ট ভাবে চিহ্নিত করা হয় নি, আর তাই এই রেখা পার হওয়ার ব্যাপারটাও নানা সময়ে যেমন ভারতীয়, তেমনই চিনের বাহিনীও করেছে. তাই আজ ঠিক করে বলা কঠিন এই পাহাড়ী এলাকার কোন জায়গা ভারতের ও কোন জায়গা চিনের”.

প্রসঙ্গতঃ, ১৯৬০ এর দশকের মাঝামাঝি সময় থেকেই এই ধরনের সীমা লঙ্ঘনের পরে কোন রকমের গুরুতর সংঘর্ষের কারণ হয় নি. কিন্তু এই অধ্যায়কে ভারত চিনের প্রসারিত সম্পর্কের থেকে আলাদা করে দেখলে ও তারই সঙ্গে দুই দেশের আভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক পরিস্থিতি থেকে আলাদা করে দেখলে ঠিক হবে না, বিশে, করে ভারতের. যদিও ২০০৩ সালেই ভারত ও চিন নিজেদের পারস্পরিক অভিযোগের একাংশ সমাধান করে ফেলেছে তবুও সীমান্ত সংক্রান্ত অভিযোগ একে অপরের প্রতি রেখেই চলে আসছে. তার মধ্যে পশ্চিমের লাদাখ এলাকার মতো উত্তর – পূর্বের অরুণাচল প্রদেশ রয়েছে. তা স্বত্ত্বেও আন্তর্রাষ্ট্রীয় সম্পর্ক তৈরী করার বিষয়ে দুই রাষ্ট্রই এখন সেই বিষয়ে মনোযোগ বেশী করে দিচ্ছে, যাতে তারা কাছাকাছি আসতে পারে – বিশেষ করে অর্থনৈতিক ক্ষেত্রে.

এই পরিস্থিতিতে একটা ব্যাপার চোখে পড়ছে. যখন ভারতের সংবাদ মাধ্যমে বিভিন্ন ভাবে এই খবরের আলোচনা করছে, চিনে কিন্তু সংবাদ মাধ্যম চুপ করেই রয়েছে. এর কয়েক রকম ব্যাখ্যা তে পারে.

হতে পারে যে, আসলে, চিনের পররাষ্ট্র দপ্তরের সরকারি ঘোষণায় যা বলা হয়েছে, তাতে চিনের বাহিনী কোন সীমারেখা লঙ্ঘণই করে নি, আর তাছাড়া এই দেশের এমনিতেই প্রতিবেশী প্রায় সব দেশের সঙ্গে সীমান্ত নিয়ে সমস্যা রয়েছে, বিশেষ করে কয়েকদিন আগেই জাপানের সঙ্গে সেনকাকু দ্বীপপূঞ্জের অধিকার নিয়ে সম্পর্ক তীক্ষ্ণ হয়েছে. এই পরিস্থিতিতে বেশী মনোযোগ আকর্ষণ না করাই ভাল বলে মনে করা হয়ে থাকতে পারে চিনে, কিন্তু তা স্বত্ত্বেও চুপচাপ জেদ করে নিজেদের কাজ করেই যাওয়া. ভারতের সংবাদ মাধ্যমে প্রতিক্রিয়া নিয়ে যা বলা যেতে পারে, তা নিয়ে বরিস ভলখোনস্কি বলেছেন:

“যদিও ভারতের সর্বজনীন লোকসভা নির্বাচনের এখনও এক বছরের বেশী দেরী রয়েছে, তাও দেশ আজ এক বছরেরও বেশী সময় ধরে একটা প্রাক্ নির্বাচনী পরিস্থিতির মধ্যেই রয়েছে. তার মধ্যে ক্ষমতাসীন জোটের জন্য পূর্বাভাস মোটেও সুবিধার নয়. এই পরিস্থিতিতে সরকারের দরকার সমস্ত রকমের মাধ্যমকেই ব্যবহার করার, যাতে নিজেদের মর্যাদা বাড়ে. আর বাইরের থেকে আসা কোনও সত্য বা কৃত্রিম হুমকির চেয়ে ভাল আর কি হতে পারে আর তারই সঙ্গে যে কোন রকমের আগ্রাসন থেকে প্রতিরক্ষার জন্য প্রস্তুত আছি বলে দেখানোর মতো ভঙ্গিমাও”.

কিন্তু তাও, বেশীর ভাগ পর্যবেক্ষকদের মতেই, দীর্ঘস্থায়ী স্বার্থের কারণই শেষ অবধি প্রাধান্য পাবে, আর দুই পক্ষই উদ্ভূত বিরোধকে শান্ত ভাবে অন্যান্য বিষয়ে গঠন মূলক পারস্পরিক কাজকর্মের স্বার্থে মিটিয়ে নেবে.