বিশ্বজোড়া তাপমাত্রা বৃদ্ধি, যা নিয়ে বিগত বছর ধরে এত কথা চালাচালি হচ্ছে, তা এবারে বিশ্বজোড়া ঠাণ্ডায় বদলে যেতে পারে. সেন্ট পিটার্সবার্গের পুলকভ পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রের বিজ্ঞানীরা বলেছেন যে, সৌর সক্রিয়তা এবারে কমার দিকে যাচ্ছে ও আমাদের গ্রহে তাপমাত্রা কমার দিকে যাচ্ছে. সারা বিশ্ব জোড়া ঠাণ্ডা হওয়া নিয়ে পূর্বাভাস মোটেও ভিত্তিহীন নয়. এটা কি তাহলে উত্তর মেরুকে ব্যবহার যোগ্য করা নিয়ে বহু দেশের যে পরিকল্পনা রয়েছে, তার উপরে প্রভাব ফেলতে পারে?

এই কিছুদিন আগেও বিশেষজ্ঞরা উল্লেখ করেছিলেন যে, উত্তর মেরুর বরফের প্রস্থ কমে যাচ্ছে. আর সাংবাদিকরা লিখেছিলেন যে, বিশ্বজোড়া তাপমাত্রা বৃদ্ধি হওয়ার ফলে সাইবেরিয়ার উত্তরেও এবারে কমলা লেবুর ফলন হতে পারবে. এবারে হঠাত্ করেই পৃথিবীতে ঠাণ্ডা হওয়ার সম্ভাবনা নিয়ে কথা বলা শুরু হয়েছে. কিন্তু তা বলে মোটেও ভাবার দরকার নেই যে, এটা খুব তাড়াতাড়ি ঘটে যাবে, এই রকম কথা উল্লেখ করে পুলকভ পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রের ডেপুটি ডিরেক্টর ইউরি নাগোভিতশীন বলেছেন:

“সংবাদ মাধ্যমের আলতো ঠেলায় ব্যাপারটাকে দেখা হয়েছে খুবই সহজ করে: সূর্যের সক্রিয়তা কমছে আর সঙ্গে সঙ্গেই তাপমাত্রা কমতে শুরু করেছে. এমনিতেই ছয় থেকে সাতটা আবহাওয়া তৈরী হওয়ার কারণ রয়েছে. তাদের মধ্যে লিথোস্ফিয়ার, বায়ুমণ্ডল, মহাসমুদ্র, হিমবাহ, তার সঙ্গে আরও সৌর সক্রিয়তাও যোগ করা যেতে পারে. আবহাওয়া পরিবর্তনের ক্ষেত্রে তার অবদান – শতকরা ২০ ভাগ. অর্থাত্ সৌর সক্রিয়তা আবহাওয়া পরিবর্তনের জন্য একটা চালু করে দেওয়ার চাবি হয়ে যেতে পারে. আর আসলে সমস্ত আবহাওয়া তৈরীর যন্ত্রটাই আমাদের এই পৃথিবীর উপরেই কাজ করছে”.

পৃথিবীতে ঠাণ্ডা হওয়া, আর তার মানে হল যে, উত্তর মেরুতে – এটা সম্ভব. কিন্তু এটা সেই এলাকার অর্থনৈতিক ভাবে ব্যবহারকে থামিয়ে রাখতে পারে না, যদিও নৈরাশ্যবাদী লোকরা মনে করেন যে, আর্কটিকা নিয়ে এবারে প্রায় একশ বছরের জন্য ভুলে থাকতে হবে. উত্তর মেরুর সমুদ্র তলদেশে বিপুল পরিমানে খনিজ কার্বন যৌগের ভাণ্ডার রয়েছে. আবহাওয়া ঠাণ্ডা হওয়া বা বরফের স্তরের বেড়ে যাওয়া উত্তর মেরুর সমুদ্রে তেল ও গ্যাস উত্তোলনের জন্য কোনও বাধা হতে পারে না, তেমনই এশিয়া থেকে ইউরোপ ও আমেরিকাতে বাণিজ্য পোত নিয়ে যাওয়ার জন্য উত্তরের সমুদ্র পথ তৈরী করার বিষয়েও কোন রকমের বাধা হয়ে উঠতে পারবে না, এই কথা উল্লেখ করে ভূতত্ত্ব ও খনিজ পদার্থ বিষয়ে ডক্টরেট ইগর দাভীদেঙ্কো বলেছেন:

“এটা ঠিকই যে, এখনকার মতো এই ধরনের এত তাড়াতাড়ি খুলে দেওয়া ও দেরী করে উত্তরের সমুদ্র পথ বন্ধ করে দেওয়া গত তিরিশ বছরে ছিল না. তার ওপরে গত বছর ছিল রেকর্ড বছর, এই পথ দিয়ে পঞ্চাশ লক্ষ টনেরও বেশী মাল আনা নেওয়া করা হয়েছে. অর্থাত্ মাল পরিবহনের সক্রিয়তা বেড়ে গিয়েছে. ২০১২ সালে প্রথম চিনে বরফ ভাঙ্গা জাহাজ তুষার ড্রাগন উত্তরের সমুদ্র পথ দিয়ে গিয়েছে. চিনেরা এই পথ দিয়ে তাদের রপ্তানীর শতকরা ১৫ ভাগ পাঠাতে চায়”.

রাশিয়া খুবই সক্রিয়ভাবে নিজেদের বরফ ভাঙ্গা জাহাজের সংখ্যা বাড়াচ্ছে বলে বিশেষজ্ঞ উল্লেখ করেছেন. বর্তমানে থাকা জাহাজ গুলির সঙ্গে আগামী বছর গুলিতে নতুন প্রজন্মের বেশী শক্তিশালী বরফ ভাঙ্গা জাহাজ যোগ করা হতে চলেছে. সুতরাং কোন রকমের আবহাওয়ার পরিবর্তনই উত্তর মেরুর কাজ দিয়ে উত্তরের পথে মাল পরিবহন করার ব্যবস্থায় অসুবিধা সৃষ্টি করতে পারবে না.