রাশিয়ার কারুশিল্পীদের তৈরী রূপোর উপরে খোদাই এক বিরল স্ট্যাম্পের সংগ্রহ “পবিত্র মক্কা” তৈরীর কথা মস্কো শহরে জনসমক্ষে প্রকাশ করা হয়েছে.

নিষিদ্ধ মসজিদ, পবিত্র কাবা, কালো পাথর, ইব্রাহিমের দাঁড়িয়ে থাকার জায়গা, হজ যাত্রীর পথ... এই সবই মিনিয়েচার আকৃতিতে কোন এক সময়ে কাগজের উপরে রঙ দিয়ে আঁকা হয়েছিল ডাক খরচ দেওয়ার জন্য স্ট্যাম্প বানাতে গিয়ে, তা এবার থেকে থাকবে খুবই মূল্যবান ধাতুতে শিল্পের সত্যিকারের নিদর্শন হিসাবে.

এই গুলিকে তৈরী করেছেন রাষ্ট্রীয় অর্থ মন্ত্রণালয়ের টাঁকশালের মস্কোর ওস্তাদ কারিগররা, আর এই গুলির জন্য বরাত দিয়েছিল বিটি নামের এক কোম্পানী. “রেডিও রাশিয়াকে” এই কোম্পানীর ডিরেক্টর ভ্লাদিমির প্রুসাকভ এই সম্বন্ধে বলেছেন:

“এই সব স্ট্যাম্প, যা মক্কার উদ্দেশ্য সমর্পণ করা হয়েছে, তা ঐস্লামিক দেশ গুলিতে তৈরী হয়েছিল একশটির কিছু বেশী. এই একশটির মধ্যে কিছু স্পষ্ট মক্কা সম্বন্ধে ছিল না, তাই আমরা এর থেকে চল্লিশটি বেছে নিয়েছি. এই চল্লিশের মধ্যে সতেরো খানা সৌদি আরবের. আর বাকী ২৩ টা ২৩টি দেশের. এই দেশ গুলি আফগানিস্তান, বাংলাদেশ, ইরাক, জর্ডন, কুয়েত আর অন্যান্য দেশ. সবচেয়ে পুরনো স্ট্যাম্প যা সৌদী আরবে ছাপা হয়েছিল, তার তারিখ ১৯৬৫ সাল. খুবই সুন্দর স্ট্যাম্প রয়েছে ইরানের, কাতারের, বলা যেতে পারে প্রায় সব কটা স্ট্যাম্পই আমাদের খুব ভাল লেগেছে. তা না হলে আমরা এই গুলিকে বাছাই করতামই না”.

রূপোর স্ট্যাম্প গুলিও একেবারে যে আসল গুলি থেকে তৈরী করা হয়েছে, তারই হুবহু একই মাপের. আর রূপোর উপরে ছবি হয়েছে ত্রিমাত্রিক: মস্কোর টাঁকশালের ওস্তাদ কারিগররা আগে হাতে উঁচু হয়ে থাকা খুঁটিনাটি গুলি তৈরী করেছেন, তারপরে এই ঢালাই লেসার রশ্মি দিয়ে মাপা হয়েছে, আর তার পরেই একেবারে খাঁটি রূপোর উপরে এই স্ট্যাম্প তৈরী করা হয়েছে. তাই ভ্লাদিমির প্রুসাকভ বলেছেন:

“মস্কোর টাঁকশাল আমাদের রুশী ব্যাঙ্ক গুলি থেকে সোনা রূপো ইত্যাদি ধাতু কিনে থাকে. কেনা হয় শুধু মার্কা মারা রূপো, যা রাশিয়ার মূল্যবান ধাতু তৈরীর কারখানাতে তৈরী হয়”.

এই বিরল সংগ্রহের প্রথম প্রদর্শন করা হবে তাতারস্থান রাজ্যের রাজধানী ও রাশিয়ার একটি বৃহত্তম মুসলিম অধ্যুষিত এলাকায়. এই রাজ্যের রাজধানী কাজানের ক্রেমলিনে প্রধান মসজিদে প্রার্থনা করতে আসা লোকরাই এই সংগ্রহ প্রথমে দেখতে পাবেন তাই এই মসজিদ ও সংরক্ষিত এলাকা নিয়ন্ত্রক পরিষদের ডেপুটি ডিরেক্টর মারাত গাতিন বলেছেন:

“ঐস্লামিক সংস্কৃতির জাদুঘর, যা কুল শরীফ মসজিদে রয়েছে, তাতে এই সংগ্রহ প্রদর্শন করা হবে, আমরা চেষ্টা করছি এই সপ্তাহেই পুরো প্রদর্শনী তৈরী করে ফেলার. আমাদের মস্কো শহরের বন্ধুরা সাময়িক ভাবে এই সংগ্রহ আমাদের দিচ্ছেন. তার পরে কাজানে স্থায়ী ভাবে রাখার জন্য আলোচনা শুরু হবে”.

তাতারস্থানের রাজধানী এই বছরের গ্রীষ্মে ইউনিভার্সিয়াডের আয়োজন করছে, তা সেখানে ৬ থেকে ১৭ই জুলাই হবে, তাই ভ্লাদিমির প্রুসাকভ বলেছেন:

“আমাদের খুবই ইচ্ছে যে, এই সময়ে আমাদের দেশে বহু সংখ্যক খেলোয়াড়, ফ্যানরা আসবেন, তাঁরাও যেন এই সংগ্রহ দেখতে পান. কারণ বিশ্বে এই রকমের আর একটাও সংগ্রহ নেই! বোধহয় ধারণা খুবই সহজ – রূপোর উপরে নকল তৈরী করা, যা ইসলামের পবিত্র প্রতীক নিয়ে উত্সর্গিত. তা স্বত্ত্বেও আমরাই বিশ্বে প্রথম হতে পেরেছি, যারা এই ধরনের শিল্পের জিনিষ তৈরী করতে পেরেছি”.

বর্তমানে রূপোর স্ট্যাম্পে “পবিত্র মক্কা” নামের সংগ্রহের তিনটি কপি তৈরী করা হয়েছে. এই সংগ্রহ যাঁরা তৈরী করেছেন, তাঁদের ইচ্ছা এই গুলিকে সৌদি আরব ও অন্যান্য ঐস্লামিক রাষ্ট্রেও দেখানো.