রাশিয়ার ইউরোপীয় অঞ্চলের দক্ষিণের শহর বেলগোরদে ছয় জন নিরপরাধ মানুষকে আচমকা শিকারের বন্দুক দিয়ে খুন করে পালিয়ে যাওয়া লোককে এবারে শুধু দেশই নয়, বিদেশেও খোঁজা হচ্ছে. খবরের জন্য পুরস্কার ঘোষণা করা হয়েছে তিরিশ লক্ষ রুবল, যা প্রায় এক লক্ষ ডলারের সমান. সমস্ত জায়গাতেই এই সশস্ত্র অপরাধীকে খোঁজা হচ্ছে চিরুণী তল্লাশী চালিয়ে.

অপরাধী কে তা জানতে পারা গিয়েছে. এ বত্রিশ বছরের বেলগোরদ শহরেরই বাসিন্দা – নাম সের্গেই পমাজুন, যে এর আগেও চারবার নানা অপরাধের জন্য সাজা পেয়েছে. সোমবারে দিনের বেলায় সে শহরের কেন্দ্রে এক শিকারীদের দোকানে প্রথমে গুলি চালনা শুরু করেছিল. তারপরে রাস্তায় বেরিয়ে এলোথাপাড়ি গুলি চালিয়ে যায় পথচারীদের উপরেও. তার গুলি থেকে ছয় জনের মৃত্যু হয়েছে, তার মধ্যে দুটি অপ্রাপ্তবয়স্কা মেয়েও রয়েছে.

অপরাধী অকুস্থল থেকে পালাতে সক্ষম হয়েছে. পুলিশ একটা ফেলে যাওয়া গাড়ী পেয়েছে, যাতে করে এই সের্গেই পমাজুন পালিয়েছিল. এই নিখোঁজ অপরাধীর আত্মীয় স্বজনদেরও জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে, তার সঙ্গে এই ট্র্যাজেডির প্রত্যক্ষদর্শীদেরও বয়ান নেওয়া হয়েছে বলে খবর দিয়েছেন রাশিয়ার বেলগোরদ এলাকার তদন্ত পরিষদ প্রধানের সিনিয়র সহকর্মী এলেনা কোজীরেভা, তিনি বলেছেন:

“সেই ফ্ল্যাটটাও দেখতে যাওয়া হয়েছে, যেটায় অপরাধী থাকত. তল্লাশীর সময়ে দেখতে পাওয়া গিয়েছে, যে লকারের ভিতরে বন্দুক থাকতো, সেটা ভাঙ্গা. তারই সঙ্গে সেই গাড়ীটাও ভাল করে দেখা হয়েছে, যা এই সন্দেহভাজন লোকের নিজস্ব, অর্থাত্ সেটার কথা বলা হচ্ছে, যাতে চড়ে অপরাধী শহরে ঘোরাঘুরি করেছে. অস্ত্র এই গাড়ীতে পাওয়া যায় নি”.

তদন্ত পরিষদের তথ্য অনুযায়ী, সের্গেই পমাজুন নিজের কাছে গ্যাস পিস্তল ইঝ- ২৭ রাখতে পারে, থাকতে পারে অর্ধ স্বয়ংক্রিয় অস্ত্র ভেপর – ৩০৮ ও তা সঙ্গে ৪০ টি টোটা, আর তারই সঙ্গে শিকারের বন্দুক সাইগা. এখন একেবারে খুব ভাল করে অস্ত্র সজ্জিত এই খুনী কোথাও একটা লুকিয়ে রয়েছে. বেলগোরদ এলাকার সমস্ত পুলিশ ও শৃঙ্খলা রক্ষী বাহিনীকে এর খোঁজে লাগানো হয়েছে, তার মধ্যে সীমান্তরক্ষী বাহিনী ও শুল্ক বিভাগের কর্মীরাও রয়েছে. মস্কো সঙ দেশের সমস্ত জায়গাতেই এই খুনীর প্রতিকৃতি ও বিবরণ পাঠানো হয়েছে, তার সঙ্গে প্রতিবেশী দেশ ইউক্রেনেও পাঠানো হয়েছে. তাছাড়া, পুলিশের কড়া পাহারা স্কুল ও নার্সারি গুলির চারপাশে দেওয়া হচ্ছে.

একই সময়ে শহরের লোকরা গত রাত্রি থেকেই এই ট্র্যাজেডির জায়গায় ফুল নিয়ে আসছেন, মোমবাতি জ্বালিয়ে রাখছেন, আর রাখছেন ছোট্ট সব নরম পুতুল. এই ভয়ঙ্কর ট্র্যাজেডি, যা আমাদের সকলের বাড়ীতেই হয়েছে, তা উল্লেখ করে বেলগোরদ রাজ্যের রাজ্যপাল ইভগেনি সাভচেঙ্কো তাঁর স্থানীয় লোকদের প্রতি দেওয়া ভাষণে বলেছেন:

“আমি নিহতদের সমস্ত আত্মীয়দের আমার গভীর সমবেদনা জানাচ্ছি. আমাদের পক্ষ থেকে সমস্ত রকমের ব্যবস্থাই নেওয়া হবে, যাতে তাঁদের বেদনার কিছুটা হলেও উপশম হয়. সত্কার করার সমস্ত খরচ আমাদের পক্ষ থেকে নেওয়া হবে ও প্রয়োজনীয় অর্থ সাহায্যও করা হবে, যদিও আমি খুব ভাল করেই বুঝতে পারছি যে, কো রকমের বিষয় সম্পত্তি তাঁদের সেই হারানো মানুষকে ফিরিয়ে দিতে পারে না, যাঁদের তাঁরা আজ হারিয়েছেন”.

২৩ ও ২৪শে এপ্রিল বেলগোরদ শহরে নিহতদের জন্য শোক দিবস ঘোষণা করা হয়েছে.