মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ঠিক করেছে ইজরায়েলের সেনা বাহিনীর নিকটপ্রাচ্যে প্রযুক্তিগত প্রাধান্য সমর্থন করার. এই বিষয়ে তেল আভিভে মার্কিন প্রতিরক্ষা মন্ত্রী চাক হেগেল নিজের ইজরায়েলের সহকর্মী মোশে ইয়ালনের সঙ্গে বৈঠকের পরে এক সাংবাদিক সম্মেলনে ঘোষণা করেছেন. তিনি এরই প্রসঙ্গে আরও বলেছেন যে, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক সহায়তা “ইজরায়েলের বিমান বাহিনীর সম্ভাবনাকে দূর প্রান্তে ব্যবহার করার জন্য লক্ষ্য করে তৈরী করা হয়েছে”.

বিশ্লেষকরা হেগেলের এই কথাকে তাঁরই অপর একটি ঘোষণার সঙ্গে জুড়ে দিয়েছেন সঙ্গে সঙ্গেই – যা তিনি ইরান প্রসঙ্গে করেছেন. ভ্লাদিমির সাঝিনের এই বিষয়ে মন্তব্য প্রকাশ করা হল.

এটা খুব স্বাভাবিক যে, হেগেলের সফরের সময়ে আলোচনা করা হয়েছে ইজরায়েলের লোকদের জন্য বেদনা দায়ক ইরানের রকেট- পারমানবিক পরিকল্পনা নিয়ে. এই প্রসঙ্গে ওয়াশিংটন থেকে আসা অতিথি উল্লেখ করেছেন যে, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ইহুদী রাষ্ট্রের উপরেই ইরানের বিপদ থেকে কি করে রক্ষা পাওয়া যাবে, তা ঠিক করার ভার ছেড়ে দিচ্ছে. “ইরানের পারমানবিক পরিকল্পনা একটা হুমকি, আর ইজরায়েল নিজেই সিদ্ধান্ত নিয়ে থাকে কি করে তারা নিজেদের এর থেকে রক্ষা করবে” – বলেছেন মন্ত্রী.

ইজরায়েলের সংবাদ মাধ্যমের খবর অনুযায়ী হেগেলের সফরের সময়ে এই বৈঠকে হওয়া সমঝোতা অনুযায়ী ইজরায়েলের কাছে খুব শীঘ্রই সেই ধরনের প্রতিরক্ষার ক্ষমতা থাকবে. তার মধ্যে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রও ইজরায়েলকে দিতে চলেছে কে সি – ১৩৫ নামের আকাশে জ্বালানী ভরতে সক্ষম বিমান, সারিক পরিবহনের জন্য কনভার্টেড হেলিকপ্টার ভি -২২ ওসপ্রি, রাডার এড়িয়ে ছোঁড়া যাওয়ার মতো রকেট ও যুদ্ধ বিমানে লাগানোর মত রেডিও অবস্থা নির্ণয় করার যন্ত্র. এই সমস্ত ব্যবস্থাই সেই সব দূরের জায়গায় আঘাত হানার জন্য আকাশে প্রয়োজনীয়, যার কথা হেগেল বলেছেন তেল আভিভ শহরে.

এখানে ইন্টারেস্টিং যে এই সব কিছুই হয়েছে তেল আভিভ ও আঙ্কারার সহকর্মী হিসাবে সহযোগিতা পুনরুদ্ধারের সময়েই. তুরস্কে খুব শীঘ্রই যাচ্ছেন জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা জেনারেল ইয়াকব আমিদরোর – যিনি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেথানিয়াখুর একজন অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ ও ভরসাযোগ্য সহযোগী. তাঁর কাজ হল যে, তুরস্ক ও ইজরায়েলের মধ্যে শান্তি স্থাপনের কাজটাই শেষ অবধি করা. আর একই সঙ্গে তেল আভিভে বিশেষজ্ঞরা মনে করেছেন যে, জেনারেল আঙ্কারাকে সবচেয়ে আধুনিক অস্ত্র প্রযুক্তি দিতে চান এই কারণেই যে, যাতে তুরস্ক তাদের এলাকা ইজরায়েলের বিমান বাহিনীর জন্য ব্যবহার করতে দেয়. ইজরায়েলের এই রাজনীতিবিদের সফরের সামরিক অংশ নিয়ে অবশ্য তুরস্কের পক্ষ থেকে সমর্থন করে কিছু জানানো হয় নি. কিন্তু শুধুশুধুই তো আর একজন কূটনীতিবিদের জায়গায় এই মিশন নিয়ে তুরস্ক যাচ্ছেন একজন জেনারেল – এমন হতে পারে না.

এই প্রসঙ্গে নিজের মন্তব্য দিয়ে সামরিক বিজ্ঞানে পিএইচডি রুশ বিশেষজ্ঞ ইউরি বন্দার বলেছেন:

“জেনারেল আমিদরোর যে তুরস্কে চলেছে, সেই ব্যাপারকে দুটি অবস্থান থেকে দেখা যেতে পারে: সামরিক – পরিকল্পনার ও রাজনৈতিক থেকে. সামরিক – স্ট্র্যাটেজিক অংশ, যা ইজরায়েলের নেতৃত্বের ইচ্ছা, তা হল যে, আকীনঝি বিমান ঘাঁটির অবস্থানকে ব্যবহার করা, যেখান থেকে সব চেয়ে কম সময়ে ইরানের যে কোনও কেন্দ্রে পৌঁছে যাওয়া যেতে পারে, ইরানের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাকে এড়িয়ে. এই ভাবে ইজরায়েলের সামরিক বাহিনীর লোকরা ঠিক করেছে ইরানের পারমানবিক কেন্দ্র গুলির উপরে আঘাত হানার.

অন্য কথা হল যে, এই সমস্যার রাজনৈতিক অংশ. আমার মতে তুরস্কের নেতৃত্ব কোনও দিনও ইজরায়েলের লোকদের তুরস্কের বিমান ঘাঁটি ব্যবহার করতে দেবে না. তাহলে তুরস্কের মুসলমান রাষ্ট্র হিসাবে ইমেজ নষ্ট হয়ে যেতে পারে. কিন্তু একই সময়ে তুরস্কে আমেরিকার সামরিক ঘাঁটি ব্যবহারের কথা ভাবা যেতে পারে – অর্থাত্ ইনঝিরলিক ঘাঁটি”.

এই ভাবে বোধহয়, বর্তমানে মধ্যস্থতাকারী “ছয় পক্ষের” সঙ্গে তেহরানের ইরানের পারমানবিক পরিকল্পনার সমস্যা নিয়ে আলোচনায় ছেদ পড়াকে ব্যাখ্যা করা যেতে পারে, যা খুবই সক্রিয়ভাবে এই সমস্যাকেই সামরিক পথে সমাধান করার জন্য ব্যবহার করা হচ্ছে. এই সব উত্তপ্ত মস্তিষ্ক লোকজন কি ইরানের জুলাই মাসে রাষ্ট্রপতি নির্বাচন অবধি অপেক্ষা করতে চাইবেন, যখন মনে করা হয়েছে যে, ফলাফল থেকে এই এক জায়গায় আটকে পড়া আলোচনা নতুন করে চলা শুরু করতে পারে? এই প্রশ্নের আপাততঃ কোনও উত্তর নেই. তারই মধ্যে একজন বিখ্যাত রুশ নাট্যকারের মন্তব্যে যেমন বলা হয়েছে যে, “যদি নাটকের প্রথম অঙ্কে মঞ্চে কোনও অস্ত্র থাকে, তবে এটা অতি অবশ্যই যে, পরের অঙ্কে সেই অস্ত্র গর্জে উঠবে”. আর এখানে অস্ত্র ইতিমধ্যেই ঝোলানো হয়েছে.

এটাও সত্যি যে, ইজরায়েলের প্রতিরক্ষা মন্ত্রী মোশে ইয়ালনের তাঁর মার্কিন সহকর্মীর সঙ্গে এই বৈঠকের পরের ঘোষণায় বলা হয়েছে যে, ইজরায়েল ইরানের পারমানবিক পরিকল্পনা সংক্রান্ত সমস্যা শান্তিপূর্ণ ভাবে সমাধান খোঁজার জন্য আলাদা করে সময় দেবে, কোন রকমের শক্তি ব্যবহারের আগে পর্যন্ত. তাই আবার করে প্রশ্নের উদয় হয়েছে: তেল আভিভ কতটা দয়ালু আর এর জন্য কতটা সময়ই বা দেওয়া হবে?