রাষ্ট্রসঙ্ঘের ক্যালেণ্ডারে ২২শে এপ্রিল দিনটিকে আন্তর্জাতিক ভূমি মাতা দিবস বল চিহ্নিত করা হয়েছে. ২০০৯ সালে রাষ্ট্রসঙ্ঘের সাধারণ সভার ৬৩তম অধিবেশনে এই উত্সবের ঘোষণা করা হয়েছিল. এর সিদ্ধান্তে বলা হয়েছে যে, ভূমি মাতা সংজ্ঞা বিশ্বের বহু দেশেই রয়েছে আর তা আমাদের গ্রহ ও মানুষের মধ্যে পারস্পরিক সম্পর্কে একে অপরের প্রতি নির্ভরশীলতাকেই প্রতিফলিত করে.

একেবারেই অল্প কিছুদিন আগে পালিত হয়েছে বিশ্বের জন্য এক ঘন্টা, আন্তর্জাতিক জল সম্পদ ও বন সম্পদ দিবস. এবারে এল ভূমি মাতা দিবস. এই উত্সব, যা আবারও আমাদের সকলকে শুধু নিজেদের শহর বা গ্রামের বাসিন্দা বলেই অনুভব করতে দেবে না, বরং সারা বিশ্বেরই বাসিন্দা বলে মনে করিয়ে দেবে. এই ধরনের নানা তারিখ যত বেশী থাকবে, ততই ভাল হবে, বলে জোর দিয়ে উল্লেখ করে ইকোলজি. রু ইন্টারনেট সংবাদপত্রের প্রধান সম্পাদক ভাদিম খোমিনস্কি বলেছেন:

“এই বিষয়টা বর্তমানে সকলেরই কানে বাজছে, কিন্তু আমাদের যতটা ইচ্ছা, ততটা কাজে হয় না. তাই যে কোন রকমেরই সর্বজনীন তারিখ নাগরিক সমাজের দৃষ্টি আকর্ষণ করে থাকে যেমন, তেমনই যেটা সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ, সরকারেরও মনোযোগ আকর্ষণ করে. সেই সব রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান গুলির, যাদের আমরা অর্থ যোগান দিয়ে থাকি করদাতা হিসাবে. তারা মনে রাখুক আর জানুক যে, এই ধরনের ব্যাপার দেশের নাগরিক সমাজের জন্যই গুরুত্বপূর্ণ”.

এই ধরনের উত্সব সেই নিয়ে ভাবতে সাহায্য করে যে, আমাদের উচিত্ সমস্ত দুনিয়ার জৈব শৃঙ্খলকে রক্ষা করার জন্য কি করা দরকার, এই সব উল্লেখ করেছেন রমান সাবলিন:

“প্রত্যেক মানুষই, প্রত্যেক নাগরিকই পরিবেশের উপরে প্রভাব বিস্তার করতে পারে. আমরা সরকারের কাছ থেকে, ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে কোন ধরনের সিদ্ধান্ত পেতে অভ্যস্ত হয়ে গিয়েছি, আর ভাবতে শুর করেছি যে, আমাদের জন্যই সবাই করতে বাধ্য. আর দোকান থেকে জিনিষ কেনার সময়ে পলিথিনের প্যাকেট না নিয়ে, নিজের ব্যাগে জিনিষ নিয়ে পরিবেশের দূষণ আমরা সকলে মিলেই এড়াতে পারি... বাড়ির কাপড় কাচা বাসন ধোয়া সাবানের ক্ষেত্রেও ফসফেট যৌগ ব্যবহার না করে পরিবেশকে বাঁচাতে পারি. প্রত্যেকেই নিজেদের বাড়ীর কাছে জায়গা পরিষ্কার করে গাছ লাগাতে পারে. অর্থাত্ সেই সমস্ত কাজ করতে, যা আমাদের পরিবেশের উপরে চাপ কমাবে”.

রাশিয়াতে এপ্রিল মাসের শেষ দশটি দিনে ঐতিহ্য মেনেই বিভিন্ন রকমের পরিবেশ বান্ধব কর্মসূচী নেওয়া হয়ে থাকে. যেমন, মস্কোতে শনিবার দিনের কাজে রাস্তাঘাট পরিষ্কার ও বাড়ীর সামনের জায়গা সবুজ করার কাজে যোগ দিয়ে থাকেন দশ লক্ষেরও বেশী লোক. আর ২২শে এপ্রিল, আন্তর্জাতিক ভূমি মাতা দিবসে বহু শহরেই লোকে আচমকা একসাথে যোগ হয়ে নানারকমের জন সমাবেশ করবেন বিশ্বকে বাঁচানোর জন্যই. বুধবার থেকে পরিবেশ সংরক্ষণ নিয়ে প্রদর্শনী শুরু হতে চলেছে.