রাশিয়ার রাষ্ট্রপতি ভ্লাদিমির পুতিন দেশের মানুষের সঙ্গে সরাসরি কথাবার্তা বলা আবার করে শুরু করছেন. এটা ২০১২ সালের বসন্ত কালে রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের পরে ক্রেমলিনে ফেরার পরে তাঁর প্রথম কথাবার্তা হতে চলেছে. রবিবারে দেশের নেতার জন্য প্রশ্ন সংগ্রহ করা শুরু হয়েছে. সরাসরি যোগাযোগ ওনার সঙ্গে শুধু দেশের লোকরাই করতে পারবেন না, বরং পারবেন আরও বিদেশের লোকরাও. ২৫শে এপ্রিল মস্কো সময় মধ্যাহ্নে ভ্লাদিমির পুতিনের সঙ্গে সরাসরি কথা বলার অনুষ্ঠান প্রচার করবে দেশের প্রধান টেলিভিশন চ্যানেল গুলি ও রেডিও স্টেশন গুলি.

পুতিনের সঙ্গে হতে যাওয়া এই ধরনের অনুষ্ঠান হবে ১১ নম্বর. তিনি এই ধরনের অনুষ্ঠান এর আগে দেশের রাষ্ট্রপতি থাকার সময়ে ও তার পরে প্রধান মন্ত্রী থাকার সময়ে ২০০৮ থেকে ২০১১ সাল পর্যন্ত করেছেন. সাধারণতঃ, এই ধরনের অনুষ্ঠান হয়ে তাকে আড়াই থেকে তিন ঘন্টার, কিন্তু তাঁর শেষবারে করা ২০১১ সালের অনুষ্ঠান হট লাইন তাঁর আগের সমস্ত রেকর্ড ভেঙেছিল, তিনি রাশিয়ার লোকদের সঙ্গে ৪ ঘন্টা ২৬ মিনিট ধরে ৯০ টি প্রশ্নের উত্তর দিয়েছিলেন. রাষ্ট্রপতিকে এই ক্ষেত্রে সাহায্য করে থাকেন অপারেটর ও মডারেটররা, তাঁরা প্রশ্ন গুলিকে একজোট করে বিষয় অনুযায়ী ভাগ করে দিয়ে থাকেন. কিন্তু ইন্টারনেটে প্রশ্ন যা পাঠানো হয়, তা পুতিন সবসময় নিজেই বেছে নিয়ে থাকেন.

এই ধরনের কথাবার্তার সময়ে প্রথম সারিতে সব সময়েই উঠে এসেছে সমস্ত জনতার কাছাকাছি বিষয় গুলি – যা সাধারণ লোকের সবচেয়ে বেশী চিন্তার ও দৈনন্দিন আগ্রহের. বেশীর ভাগ প্রশ্নই তাই রয়েছে সামাজিক ক্ষেত্রে, এই কথা উল্লেখ করে রাশিয়ার হায়ার স্কুল অফ ইকনমিক্সের বিশেষজ্ঞ লিওনিদ পলিয়াকভ বলেছেন:

“আগে হওয়া এই ধরনের হট লাইনের অভিজ্ঞতা থেকে বোঝা গিয়েছে যে, মানুষের সবচেয়ে আগ্রহের বিষয় হল সেই গুলি যা দৈনন্দিনের কাজে লাগে. স্বাস্থ্য, শিক্ষা, শিশু ও পরিবারের জন্য সামাজিক সহায়তা, জিনিষের দাম ইত্যাদি. সন্দেহ নেই যে, একটি প্রথম প্রশ্ন তোলা হবে বাড়ী ঘরের জন্য সামাজিক খরচা নিয়ে. সাধারণ মানুষদের সঙ্গে রাষ্ট্রপতির কথাবার্তা খুবই গুরুত্বপূর্ণ, যাতে দেশের পরিবেশ ও মানসিকতা বোঝা সম্ভব হয়”.

২০০৭ সাল ছিল ফোনের সংখ্যায় রেকর্ড সংখ্যক, যা এর জন্য তৈরী করা টেলিফোন কেন্দ্রে এসেছে. তখন পুতিনকে ফোন করেছিলেন ২৩ লক্ষ ৬০ হাজার মানুষ. ক্রেমলিন থেকে কখনোই কথাবার্তার বিষয় ঠিক করে দেওয়া হয় না, এর দায়িত্ব থাকে যাঁরা এতে অংশ নেবেন, তাঁদেরই উপরে. বিশেষজ্ঞরা মনে করেন যে, এই বছরে দুর্নীতির সঙ্গে লড়াই ও বিরোধীদের সঙ্গে প্রশাসনের সম্পর্ক নিয়ে বিশেষ করে অনেক প্রশ্ন করা হবে.

রুশ রাষ্ট্রপতি – বৃহত্ আট দেশের প্রধানদের মধ্যে একমাত্র, যিনি নিজের দেশের লোকের সঙ্গে কথা বলার জন্য এই ধরনের অনুষ্ঠান করে থাকেন.