মঙ্গলগ্রহে পাইলট চালিত মহাকাশ যানে করে যাওয়ার জন্য আবেদন পত্র জমা নেওয়া শুরু হওয়ার কথা শুধু আগামী বছর থেকেই. কিন্তু এখনই যেতে ইচ্ছুক লোকের সংখ্যা একেবারে উপচে পড়ছে. এই রকমই প্রথম মহাকাশ পর্যটক ডেনিস টিটোর নেতৃত্বে এই মিশনের আয়োজকরা জোর গলায় বলছেন.

এই অভিযান শুরু হবে ২০১৮ সালের ৫ই জানুয়ারী থেকে. এটা শর্ত সাপেক্ষ এই কারণে যে, মঙ্গলগ্রহ ও পৃথিবীর পারস্পরিক অবস্থান এই সময়ে সুবিধাজনক থাকবে. ৫০১ দিন বাদে দুই যাত্রী – খুব সম্ভবতঃ স্বামী-স্ত্রী – পৃথিবীতে ফিরে আসতে বাধ্য. এটাও সত্যি যে, আপাততঃ এই দিন নিয়ে কিছুটা সন্দেহ রয়েছে. প্রথমতঃ, এখনও মহাকাশ যানই নেই.এই উড়ান সফল করার কথা বদলে তৈরী করা ড্রাগন ধরনের মহাকাশ যানে. কিন্তু তা এখন অবধি তৈরী করা গিয়েছে শুধু মালবাহী যান হিসাবেই, আর তা ঠিক করে নিতে লাগবে আরও এক বছর. তাছাড়া, বহু বিশেষজ্ঞই ভরসা পাচ্ছেন না বিকীরণ থেকে মহাকাশচারীদের প্রতিরক্ষা নিয়ে – আর মানুষের শারীরিক কাজকর্মের জন্য জল ও বর্জ্যের স্তর মাত্র ৪০ সেন্টিমিটার হওয়ার জন্য. শেষমেষ, এখনও এর কক্ষপথ পরীক্ষা করে দেখা হয় নি: তথ্য অনুযায়ী যে ব্যালিস্টিক বক্র রেখা পাওয়া গিয়েছে, সেই পথে এখনও এমনকি পাইলট বিহীণ যানও পাঠানো হয় নি, তারই মধ্যে সবচেয়ে বেশী বিপদ এই যানের জন্য অপেক্ষা করে থাকবে ফিরে আসার সময়ে, পৃথিবীর কাছেই. দরকার পড়বে পৃথিবীর বায়ু মন্ডলকে কয়েকবার ছুঁয়ে মহাকাশ যানের গতিবেগকে সেকেন্ডে ১৪ কিলোমিটার অবধি কমানোর, যদি মহাকাশ যান পৃথিবীর বায়ু মন্ডলে কয়েক ডিগ্রী বেশী কোণ নিয়ে প্রবেশ করে, তবে তা জ্বলে যাবে উল্কার মতই. অপেশাদার লোকদের নিয়ে যাওয়া যান কি পারবে এত নিখুঁত ভাবে মহাকাশ যানকে পরিচালনা করতে? প্রচুর ঝুঁকি, কিন্তু উড়ে যেতে চাইছেন বহু লোকই.

এই যাত্রার প্রার্থীদের মধ্যে অনেক লোকই চরম ও আঘাত লাগার সম্ভাবনা আছে, এই ধরনের খেলাধূলা করে থাকেন, আর তাদের সঙ্গে রয়েছে যারা স্বপ্ন দেখতে ভালবাসেন, তাঁরাও, যাঁরা হতে চান মাত্র ১০০ কিলোমিটার দূর থেকে মঙ্গল গ্রহকে দেখতে চাওয়া লোক, এই রকম ধারণা নিয়ে “মঙ্গল – ৫০০” নামের প্রকল্পের এক অগ্রণী মনস্তত্ববিদ ইউরি বুবিয়েভ বলেছেন:

“বোধহয় এঁরা প্রাথমিক ভাবে বড় শহরের বাসিন্দা, যাঁরা একঘেয়ে জীবন যাত্রায় ক্লান্ত. মনে হয়, কোন রকমের সঙ্কটে পড়া মানুষ, যাঁরা সমস্যা থেকে রেহাই পেতে চাইছেন. “মঙ্গল – ৫০০” ও অন্যান্য পরীক্ষা মূলক যাত্রায় বহু লোকই এই দেড়- দুই বছরের জন্য নিজেদের সমস্যা থেকে বেরিয়ে যেতে চেয়েছিলেন, আর পরে তাদের ছাড়াই সেই সব মিটে গেলে ফিরে আসতে চেয়েছিলেন”.

এখন এই প্রকল্পের একটা গুরুতর পর্যায় চলছে: খুব শীঘ্রই বোঝা যাবে, স্থির করা দিনে যাত্রা শুরু কি করা বাস্তব, যা আর মাত্র পাঁচ বছর পরেই. যদি সম্ভব না হয়, তবে পরের বার এই রকমের সুবিধা হবে শুধু ২০৩১ সালে. এই প্রকল্পের যিনি উদ্যোক্তা, তিনি খুবই ধাঁধার মধ্যে সকলকে রেখে বলছেন যে, এখনও অস্পষ্ট রয়েছে, তাই আমরা সব কটা ডিম একই ঝুড়িতে রাখতে চাই না.

বোঝাই যাচ্ছে যে, সব কিছুই এখন অর্থের উপরে নির্ভর করছে. এই মিশনের জন্য তৈরী করা অব্যবসায়িক তহবিলে একশ থেকে দুশো কোটি ডলার জমা পড়া দরকার. এর একাংশ খরচ হবে যাঁরা স্বেচ্ছায় যাবেন, তাঁদের পারিশ্রমিক হিসাবে. যখন তার পরিমান জানানো হবে, তখন যেতে চাওয়া লোকের সংখ্যা খুবই দ্রুত বেড়ে যেতে পারে, সমস্ত সম্ভব ও অসম্ভব সীমানা ছাড়িয়েই.