সিরিয়া বিষয়ক জাতিসংঘ ও আরব লীগের বিশেষ প্রতিনিধি লাখদার ব্রাহিমির দায়িত্ব থেকে সরে দাঁড়ানোর সংবাদ সঠিক ছিলো না। শুক্রবার জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের প্রায় ৩ ঘন্টা শেষে ব্রাহিমি বলেন, আমি পদত্যাগ করি নি। প্রতিদিন ভোরে আমি যখন ঘুম থেকে জেগে উঠি, আমার মনে হয় পদত্যাগ করা উচিত। কিন্তু আমি তা করি নি।‘

গত ৮ মাস ধরে ব্রাহিমি সিরিয়া বিষয়ক জাতিসংঘ ও আরব লীগের বিশেষ প্রতিনিধির দায়িত্ব পালন করছেন।

শুক্রবার ব্রাহিমি জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদে সিরিয়ার পরিস্থিতি ও তার মিশনের কাজের ওপর প্রতিবেদন উপস্থান করেন। সংঘাত নিরসণের জন্য সরকার ও বিরোধী দলের কাউকেই ঐক্যমতে পৌঁছানো যায় নি বলে তিনি স্বীকার করেন। তবে সিরিয়া সংকট থেকে বেরিয়ে আসার জন্য সংলাপের প্রয়োজনীয়তাকে রাশিয়া ও যুক্তরাষ্ট্র সমর্থন করায় তিনি সন্তোষ প্রকাশ করেন।

এদিকে এ সপ্তাহে মস্কো পুনরায় সিরিয়ায় রক্তক্ষয়ী যুদ্ধ বন্ধ করার আহবান জানিয়েছে। রুশ পররাষ্ট্রমনন্ত্রী সেরগেই ল্যাভরোভ বলেন, পরিস্থিতিকে উল্টো অবনতির দিকে ঠেলে দিতে বিশ্বের একটি শক্তি আগ্রহী রয়েছে। তিনি বলেন, "সিরিয়ার শাসনক্ষমতা পরিবর্তন ঘটানোর জন্য পরিকল্পনা অনুযায়ি কাজ করার চেষ্টা চলছে। এটি সত্যিই ঠিক নয়। আমরা অবশ্যই শাসনক্ষমতার পালাবদলের চেষ্টা করছি না। নির্বাচনের প্রক্রিয়া তা অনেক সহজ। যদি সিরিয়ায় যুদ্ধ বন্ধ করাই প্রধান ইস্যু হয়ে থাকে তাহলে যারা এখন যুদ্ধ করছে তাদের সবাইকে শর্তছাড়া সংঘাত পরিহার করে আলোচনার টেবিলে বসাতে হবে। আর যদি শাসনক্ষমতার পরিবর্তন চাওয়া হয় তাহলে ওই ভূরাজনৈতিক কৌশলের মূল্য হবে আরো অনেক নিরীহ সিরীয়দের জীবন।"

রাশিয়ার স্ট্রাটেজিক ইনস্টিটিউটের বিশেষজ্ঞ সেরগেই দেমিদেনকো বলেন, সিরিয়ায় শাসনক্ষমতা পরিবর্তনের প্রধান পৃষ্ঠপোষক হচ্ছে সৌদি আরব ও কাতার। তিনি বলেন, "এই দুটি দেশের রয়েছে যথেষ্ট অর্থ-সম্পদ, আন্তর্জাতিক প্রভাব ও বহিঃবিশ্বের সাথে ভাল সম্পর্ক। তারা শেষ পর্যন্ত চেষ্টা চালিয়ে যাবে। তারা পিছু হটবে না এবং সিরিয়াকে আরো ধ্বংসের পথে নিয়ে যাবে। বিপ্লব ঘটিয়ে বাশার আসাদকে অপসারণ করার প্রচেষ্টা তাদের বিফলে গেছে। আর তাই এখন তারা সিরিয়াকে পুরোপুরি ধ্বংস করতে চাইছে।"

তবে সিরিয়া সংকট থেকে বেরিয়ে আসার কোন পথ হয়ত বের হবে বলে মনে করছেন সাইদ গাউফুরভ। প্রাচ্য ও আফ্রিকা ইনস্টিটিউটের এই বিশেষজ্ঞ বলেন, "সিরিয়ায় বিদ্রোহীদের বিরুদ্ধে সরকারি সেনাদের নিয়মিত রাজনৈতিক ও সামরিক বিজয় আমরা দেখতে পাচ্ছি। তবে, সবাই ভাল করে জানে যে, সিরিয়ার সংকট নিরসণের একমাত্র আস্থা হচ্ছে জাতীয় সংলাপ ও স্থানীয়, রাষ্ট্রপতি ও পার্লামেন্ট নির্বাচনগুলো আয়োজন।"

বৃহস্পতিবার জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদ সিরিয়ার মানবিক পরিস্থিতিকে অত্যন্ত সংকটময় বলে অভিহিত করেছেন। দেশটিতে খাদ্য ও ঔষধ প্রয়োজনের তুলনায় যথেষ্ট অপ্রতুল। প্রতিদিন সিরিয়া ছেড়ে প্রতিবেশী দশেগুলোতে আশ্রয় নিচ্ছে ৮ হাজার মানুষ. বছর শেষে সিরীয় শরনার্থীর সংখ্যা ৩ দশমিক ৫ মিলিয়নে পৌঁছাবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

এরই পেক্ষাপটে জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদ সিরিয়ায় অতিসত্বর মানবিক সাহায্য পাঠানোর আহবান জানিয়েছে। রাশিয়া আন্তর্জাতিক সংস্থা ও দুই দেশের মধ্যে বিদ্যমান মানবিক চুক্তির আওত্বায় এ সাহায্য পাঠাচ্ছে। সিরিয়াকে ত্রাণ সরবরাহের শীর্ষ ২০টি দেশের তালিকায় রয়েছে রাশিয়া। ২০১২ সালে সিরিয়াকে দেয়া রাশিয়ার মানবিক সাহায্যের পরিমান ৭ মিলিয়ান মার্কিন ডলারে ছাড়িয়ে গেছে। এ বছর মস্কো আরো ৩ মিলিয়ন মার্কিন ডলার অর্থ তহবিল বরাদ্ধ দেয়ার পরিকল্পনা করছে।