গত ১৫ই এপ্রিল যুক্তরাষ্ট্রের বোস্টন ম্যারাথনে বোমা হামলার ঘটনার পর অবশেষে বিষয়টি পরিষ্কার হলো যে, যুক্তরাষ্ট্র এ হামলার তদন্ত কাজে রাশিয়ার সাথে যোগাযোগ করেছিল। মার্কিন রাষ্ট্রপতি বারাক ওবামা শুক্রবার রুশ রাষ্ট্রপতি ভ্লাদিমির পুতিনের সাথে টেলিফোনে আলাপ করেন। সন্ত্রাস দমনে সহযোগিতা ও বোস্টন হামলার পর রাশিয়ার পক্ষ থেকে সাহায্য করার জন্য ওবামা মস্কোকে কৃতজ্ঞতা জানান। মার্কিন কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সংস্থা এফবিআই বোস্টন হামলার ঘটনার সাথে জড়িত একজনকে গুলি করে হত্যা ও অন্য ১ জনকে আটক করার পর এ দৃশ্যের অবতারণা হয়েছে।

বোস্টন হামলার নেপথ্যে ছিলেন ২৬ বছর বয়সী তামারলান সারনায়েভ ও তারই ছোটভাই ১৯ বছর বয়সী জোখার সারনায়েভ। গতকাল শুক্রবার জোখারকে বোস্টনের উপকন্ঠের একটি শহর থেকে আটক করা হয়। বর্তমানে তিনি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। ওই দুইভাই জাতিগতভাবে চেচনীয় এবং তারা কয়েক বছর ধরে যুক্তরাষ্ট্রে বসবাস করছিল। মার্কিন গণমাধ্যম জানায়, ঘটনার সুষ্ঠ তদন্তের স্বার্থে এফবিআই ও সিআইএ রাশিয়ার সন্ত্রাসদমন বিভাগের সাথে নিবিড় যোগাযোগ রাখছে।

এদিকে হামলাকারী ১ জনকে হত্যা ও অপরজনকে আটকের পর গতকালই মার্কিন রাষ্ট্রপতি বারাক ওবামা এক বিশেষ বিবৃতিতে বলেছেন, এফবিআই, সিআইএ এবং অন্যান্য তদন্তকারী বিভাগ বোষ্টন হামলার ঘটনার তদন্ত কাজ চালিয়ে যাবে। তিনি আরো বলেন, "আমাদের আরো অনেক প্রশ্ন রয়েছে। কেন এই তরুণরা যারা আমাদের দেশে বেড়ে ওঠেছে, আমাদের সমাজের অবিচ্ছেদ্য অংশে পরিণত হয়েছে তারা এ হামলার ঘটনা ঘটালো?। কিভাবে তারা এ হামলার পরিকল্পনা করেছিল এবং কোন সাহায্য তারা কি পেয়েছিল?। যারা নিহত হয়েছেন তাদের পরিবারের সবাই এসব প্রশ্নের উত্তর জানার অধিকার রয়েছে। শুধু তাই নয়, যারা আহত হয়েছেন তাদেরও। যাদের আবার নতুন করে দাঁড়াতে, হাঁটতে ও জীবন-যাপন করতে শিখতে হবে।"

এ ধরণের আরো অনেক জটিল প্রশ্নের উত্তর দিতে হবে যুক্তরাষ্ট্রের। মস্কো এর আগে বেশ কয়েকবার পশ্চিমা দেশগুলোকে জানিয়েছে যে, রাশিয়া থেকে কিছু সংখ্যক অভিবাসীদের আশ্রয় দেয়া বিপদের কারণ হতে পারে। যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন সংস্থা থেকে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে মার্কিন সংবাদমাধ্যম জানায়, ১৯ বছর বয়সী ঝোখার সারনায়েভ ২০০২ সালে প্রথমবারের মত যুক্তরাষ্ট্র গমন করেন এবং ২০১২ সালের সেপ্টেম্বরে নাগরিকত্ব পান। আর ঝোখারের বড় ভাই তামারলান ২০০৬ সালে যুক্তরাষ্ট্র যান। তিনি গ্রীনকার্ড নিয়ে সে দেশে অবস্থান করছিলেন।

দুইবছর আগে সন্দেহভাজন হিসেবে তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করেছিল মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থা এফবিআই। তবে ওই সময় তেমন গুরুত্বপূর্ণ তথ্য তামারলোনের কাছ থেকে আদায় করা সম্ভব হয় নি। গতবছর ৬ মাসের জন্য তামারলান যুক্তরাষ্ট্র ত্যাগ করে রাশিয়া চলে আসেন। এফবিআই’র নথিপত্রে জানা যায়, সর্বশেষ রাশিয়া থেকে যুক্তরাষ্ট্রে ফিরে আসার সময়ে তামারলানের মুখমন্ডলে দাড়ি ছিল। তিনি অনেক গোপনীয় জীবণ ধারণ করছিলেন। তবে চেচনিয়ার রাষ্ট্রপতি রামজান কাদিরোভ এক বিৃতিতে বলেন, সারনায়েভ বংশের ওই দুই ভাই কখনোই চেচনিয়ায় বসবাস করে নি এবং তাদের দায় চেচনিয়া নিত পারে না। তিনি বলেন, "সারনায়েভদের আমরা চিনি না। তারা আমাদের এখানে বসবাস করেনি। এমনকি মার্কিন গনমাধ্যমের খবর অনুযায়ি, তারা যুক্তরাষ্ট্রে বসবাস করেছে এবং সেখানে পড়াশুনা করেছে। এর অর্থ হচ্ছে, এটা তাদেরই লালন-পালন ও পরিচর্যা। আমাদের নয়। তাই, আমরা এর দায় নিচ্ছি না। আমরা এ ঘটনার জন্য দুঃখ প্রকাশ করছি। মানুষ মারা গেছে এবং অনেকে আহত হয়েছে।"

সন্ত্রাসবাদ দমনে আন্তর্জাতিক যৌথ সহযোগিতা আরো জোরদার করার প্রয়োজন তাই স্মরণ করিয়ে দিলো বোস্টনের ঘটনা। ক্রেমলিন থেকে আজ প্রকাশিত সংবাদে বলা হয়, পুতিন এবং ওবামার মধ্যে শুক্রবারের টেলিফোন আলাপে সন্ত্রাসবাদ দমনে মিলিত উদ্যোগ চালিয়ে যাওয়ার প্রত্যয় ব্যক্ত করা হয়।