রাষ্ট্রীয় মহাকাশ সংস্থা রসকসমস মহাকাশ ও বড় ধরনের বিপর্যয় সংক্রান্ত আন্তর্জাতিক সনদপত্রে স্বাক্ষর করছে. সেই সমস্ত দেশ, যারা এই সনদে সামিল হয়েছে, তারা বিপর্যয় ক্লিষ্ট দেশ গুলিকে ত্রাণের কার্যে সহায়তা দিয়ে থাকে. অংশতঃ, তাদের কাছে মহাকাশ থেকে পৃথিবীকে দেখার তথ্য দেয়, যা বিপর্যস্ত অঞ্চলে দেখতে পাওয়া যায়.

বিশ্বের তাত্ক্ষণিক পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রের ঘাঁটিতে – রাশিয়ার দূর থেকে পৃথিবীকে লক্ষ্য করার উপগ্রহ গুলির জন্য ইতিমধ্যেই যন্ত্রপাতি ও প্রোগ্রাম ব্যবস্থা তৈরী করা হয়েছে, এই সনদ অনুযায়ী কাজের জন্য. এই কাঠামোতে ইউরোপীয় মহাকাশ সংস্থা, ফ্রান্সের জাতীয় মহাকাশ সংস্থা, জার্মানী, ভারত, চিন, কানাডা, আর্জেন্টিনা ও জাপানের মহাকাশ সংস্থাও রয়েছে. রাশিয়ার এই কাঠামোর কাজে অংশ নেওয়াকে একটা ইতিবাচক ফ্যাক্টর বলে মনে করা যেতে পারে বলে উল্লেখ করে রাশিয়ার রকেট-মহাকাশ কর্পোরেশন এনার্জি সংস্থার চেয়ারম্যানের পরামর্শদাতা আলেকজান্ডার ঝিলিয়েজনিয়াকভ বলেছেন:

“এখানে হিসাব করা হয়েছে ভবিষ্যত নিয়ে. কারণ আমরা এখন খুবই সক্রিয়ভাবে আমাদের উপগ্রহ দল গুলির পুনরুদ্ধারের কাজ করছি, যেগুলি দিয়ে পৃথিবীকে দূর থেকে দেখা হয়ে থাকে. ভূমিতে আরও কেন্দ্র যোগ করা হচ্ছে, আবহাওয়া সংক্রান্ত উপগ্রহ গুলিকে, ও সেই উপগ্রহ গুলি, যেগুলি দিয়ে মহাকাশ থেকে আসা অথবা মহাকাশের সেই উল্কা গুলিকেও পর্যবেক্ষণ করা হয়ে থাকে, যা আমাদের জন্য বিপদের কারণ হতে পারে, সেই গুলিকে একই ব্যবস্থার মধ্যে নিয়ে আসার জন্য. এটা আমাদের দেশ ও আন্তর্জাতিক সমাজের জন্যও ভাল হবে”.

কিছু দিন আগে পর্যন্ত, রাশিয়া যথেষ্ট পরিমানে মহাকাশ থেকে ভূমি পর্যবেক্ষণ করার উপগ্রহ সমষ্টি মহাকাশে রাখতে পারে নি. কিন্তু “ইলেক্ট্রো- এল” ও “মিটিওর – এম” নামের দুটি নতুন উপগ্রহ যোগ হওয়ার পর থেকে, পরিস্থিতি পাল্টে গিয়েছে, এই কথা উল্লেখ করে মহাকাশ বিজ্ঞানের সংবাদ বা “নোভস্তি কসমোনাভতিকি” জার্নালের সম্পাদক ইগর মারিনিন বলেছেন:

“এখন আমাদের তিনটি উপগ্রহ কাজ করছে, কিন্তু আসন্ন সময়ে এই উপগ্রহের সংখ্যা বাড়বে. রাশিয়ার মহাকাশ পরিকল্পনার সঙ্গে আগামী তিন থেকে চার বছরের মধ্যে তার সংখ্যা হবে ছয় থেকে সাতটি উপগ্রহ”.

বিশেষজ্ঞ উল্লেখ করেছেন যে, আজ উপগ্রহ সংক্রান্ত তথ্য প্রায় সমস্ত দেশেরই প্রয়োজন হয়, তাই তিনি যোগ করে বলেছেন:

“ব্যাপার হল যে, যে কোন উপগ্রহই যে কোন সময়ে যে কোন এলাকার ছবি তুলতে পারে না. তাই দেশ গুলি, যাদের সুবিধা রয়েছে দূর থেকে পর্যবেক্ষণ করার, তারা একজোট হয়েছে এমন এক সঙ্ঘে, আর এই সঙ্ঘের কারণে পৃথিবীর নির্দিষ্ট এলাকায় কোন গরমিল ঘটনা দেখার জন্য বিভিন্ন দেশের উপগ্রহকেই যুক্ত করা যায়. তখন অপেক্ষা করার দরকার পড়ে না, ততক্ষণ অবধি, যতক্ষণ না রাশিয়ার উপগ্রহ কোন না কোন এলাকার উপর দিয়ে যাবে, বরং তার জায়গায়, জাপানী, ভারতীয় ইত্যাদি যে কোন উপগ্রহকেই ব্যবহার করা সম্ভব হয়. প্রাকৃতিক বিপর্যয়ের খবর আরও দ্রুত পাওয়া সম্ভব হবে, আর পৃথিবীতে যে সব পরিষেবা কাজ করছে, তারা এই তথ্য ব্যবহার করে আরও দ্রুত কাজ করতে পারবে”.

উপগ্রহ মারফত পাওয়া তথ্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিয়েছে বিধ্বংসী ভূমিকম্প, ত্সুনামি ইত্যাদি লক্ষ্য করার বিষয়ে, যা দুই বছর আগে আছড়ে পড়েছিল জাপানে. উপগ্রহ থেকে পাওয়া খবর থেকে খুবই দ্রুত হিসাব করতে পারা গিয়েছিল ক্ষতির বহর, যা এই প্রাকৃতিক বিপর্যয় ডেকে এনেছিল, আর জাপানের সরকার পেরেছিল এর জন্য ত্রাণকার্যে প্রাথমিক ব্যবস্থা নিতে.