বলা হয়ে থাকে যে, নিজের দেশে কোন নবী নেই. কিন্তু সেই ভারতের জন্যই নবী, আর বাকী সারা দুনিয়ার জন্যও হয়েছিলেন স্বামী বিবেকানন্দ – এমন মনে করেছেন একজন প্রধান ভারতবিদ্ প্রফেসর রস্তিস্লাভ রীবাকভ. মানব সমাজের এখনও সেই পথ দিয়ে যাওয়া বাকী রয়েছে, যা তিনি নির্দেশ করে গিয়েছেন – উল্লেখ করেছেন রাশিয়ার এই গবেষক.

মস্কোর ভারতীয় সাংস্কৃতিক কেন্দ্রে ভারতের এক সুবিখ্যাত চিন্তাবিদ, ধর্মীয় নেতা ও সমাজ সংস্কার সাধক স্বামী বিবেকানন্দের দেড়শতম জন্ম বার্ষিকী পালিত হয়েছে. ভারতবর্ষ বিশ্বকে যে সমস্ত মহান সন্তানদের উপহার দিয়েছে, তাঁদের মধ্যে রস্তিস্লাভ রীবাকভ মনে করেন যে, বিবেকানন্দ এক বিশিষ্ট স্থান নিয়েছেন. তিনি বক্তৃতা প্রসঙ্গে বলেছেন:

“বিবেকানন্দের ভারতের এক সুবিখ্যাত চিন্তাবিদ, ধর্মীয় নেতা ও সমাজ সংস্কারক বাণী ভবিষ্যতের জন্যই করা, যুব সমাজের জন্য. বিবেকানন্দ ছিলেন ঐক্যবদ্ধ বিশ্ব ধারণার প্রকাশক. তিনি অহিংসাকে স্বাগত জানিয়ে, জোর দিয়ে বলেছিলেন যে, তা শুধু শক্তিশালীদের পক্ষেই পালন করা সম্ভব. সমাজের পরবর্তী কালের উন্নতির জন্য বিবেকানন্দ প্রমাণ করেছেন যে, সহিষ্ণুতা এক গুরুত্বপূর্ণ নীতি. তিনি আলাদা করে উল্লেখ করে বলেছিলেন যে, আধুনিক বিশ্বের জন্য বিশেষ ভূমিকা নেবে বহুর মধ্যে ঐক্য, যা বেদে উদ্ধৃত করা হয়েছে. এই নীতিই ভারতের স্বাধীনতার পরে তার ভিত্তি হয়েছে, অন্য দেশেও এই নীতিতে আজ চলতে চাওয়া হচ্ছে. বিবেকানন্দ আধুনিক রাশিয়ার জন্যও গুরুত্বপূর্ণ, যা তার নতুন উন্নতির স্তরে কিছু কম বাধার সম্মুখীণ হচ্ছে না. সেই গুলির কিছু অতিক্রম করার পথ হতে পারে শিক্ষা ও সভ্য আচরণ. এই কাজ গুলিকেই রাষ্ট্রের পরিকল্পনা গুলির অনেক গুলিতে লক্ষ্য হিসাবে রাখা হয়েছে”.

রাশিয়ার লোককে বিবেকানন্দের ও তাঁর গুরু রামকৃষ্ণের সৃষ্টির উত্তরাধিকারের সঙ্গে পরিচয়ের দায়িত্ব নিয়েছে রামকৃষ্ণ বেদান্ত মিশন. আশির দশকের শেষ থেকেই এই মিশন রাশিয়াতে শিক্ষার কাজ কর্ম কে যাচ্ছে, - এই কথা ব্যাখ্যা করেছেন এই মিশনের মস্কো শহরের সভাপতি স্বামী জ্যোতিরূপানন্দ.

তিনি এই সভায় এসে বলেছেন:

“স্বামী বিবেকানন্দের দৃষ্টিকোণ নিয়ে আগ্রহ প্রকাশ করেছিলেন লেভ তলস্তয়, যিনি ১৮৯৬ সালে এই দার্শনিকের রচনা প্রকাশের সঙ্গে সঙ্গেই এই রচনা গুলির খুবই উচ্চ মূল্যায়ণ করেছিলেন. আমরা চাই রুশ লোকদের জন্য সেই বাণী পৌঁছে দিতে, যা বিবেকানন্দ রেখে গিয়েছেন আর রাশিয়া ও ভারতের মধ্যে আরও ঘনিষ্ঠ যোগাযোগ বৃদ্ধির জন্য চেষ্টা করতে. আজ ২০ বছর হল আমি রুশ ছাত্রদের সংস্কৃত ভাষা শেখাই, তাদের ভারতীয় দর্শনের সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দিই. বিবেকানন্দকে নিয়ে বক্তৃতার সময়ে বিশেষ করে মনোযোগ দিয়ে থাকি তাঁর দৃষ্টিকোণ ও কাজকর্মের সামাজিক ও মানবিক দিক গুলির প্রতি. বিবেকানন্দ আমাদের আহ্বান করেছেন মানুষকে সাহায্য করতে, সেবা করতে. তিনি হিংসা ও ধ্বংসের বিরুদ্ধে জীবনে ঐক্যতান আনতে চেয়েছিলেন. আমি বিশ্বাস করি যে, বিশ্ব ধীরে হলেও এই দিকেই যাচ্ছে”.

বিবেকানন্দের বাণী ও রচনা. তাঁর ভ্রমণের বিবরণ, ভারতে ও দেশের বাইরে, এই সব কিছুই রুশ ভাষায় অনুদিত হচ্ছে. তা পড়া হয়, তার প্রতি রুশ বিশ্ববিদ্যালয়ে মনোযোগ দেওয়া হয়. মস্কো যোগাযোগ ও তথ্য প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্ররা ২০১৩ সালের মে মাসে এই নিয়ে দ্বিতীয় বছর বিবেকানন্দের রচনায় ধর্ম ও বিজ্ঞান নিয়ে এক সারি বক্তৃতার আয়োজন করছে. এই বক্তৃতার সময়ে বিবেকানন্দের করা আপ্তবাক্য গুলি উচ্চারিত হবে, এমন কথা বলেছেন এই প্রকল্পের উদ্যোক্তা ও শিক্ষিকা লারিসা গ্রোমোভা. আর তার মধ্যে কিছু, যা ছাত্রদের কাছে খুব প্রিয়, তা হল: “আগে নিজেকে বিশ্বাস কর, তারপরে ভগবানকে”. “মন ও বুদ্ধির লড়াই লাগলে মনের পথই ধরো”.