সেটাই ঘটেছে, যা ঘটা উচিত্ ছিল. এই সপ্তাহের শুরুতে পাকিস্তানের আদালত পার্লামেন্ট নির্বাচনে পাকিস্তানের প্রাক্তন রাষ্ট্রপতি পারভেজ মুশারফের শেষ কেন্দ্র থেকে প্রার্থী হিসাবে নাম রেজিস্ট্রি করার চেষ্টা বাতিল করে দিয়েছে, যেখানে তিনি শেষ অবধি প্রার্থী পদে নাম নথিভুক্ত করতে চেয়েছিলেন. বৃহস্পতিবারে অন্য একটি আদালত মুশারফকে গ্রেপ্তারের পরোয়ানা জারী করেছে, তাঁর আগে জামিনের আবেদনকে নাকচ করে দিয়ে. মুশারফ নিজের বাড়ীতে গিয়ে লুকিয়ে ছিলেন, কিন্তু শুক্রবারে স্বেচ্ছায় প্রশাসনের কাছে আত্ম সমর্পণ করেছেন আর এখন রয়েছে গৃহবন্দী হয়ে. দুই দিনের মধ্যে তাঁকে সন্ত্রাস কাণ্ডের জন্য আদালতে হাজির করা হবে.

২০০৭ সালের মুশারফের কাজকর্মকে সন্ত্রাস বলেই চিহ্নিত করা হয়েছে, যখন তিনি পাকিস্তানের সুপ্রীম কোর্টের বেশ কয়েকজন বিচারপতির দায়ভার রদ করে দিয়েছিলেন, আর তাঁদের মধ্যে কয়েকজনকে এমনকি কারাগারে বন্দী করার নির্দেশও দিয়েছিলেন. আর যদিও তিনি কাউকে হত্যা করেন নি, তবুও সন্ত্রাসবাদ নাম বিচারকরা মনে করেছেন, জায়গা মতোই দেওয়া হয়েছে, যেহেতু এই কাজ গুলি করা হয়েছিল দেশের আইন সঙ্গত প্রশাসনিক ব্যবস্থার বিরুদ্ধে.

এই মামলার আইনগত খুঁটিনাটি নিয়ে বিচার করা – আদালতের কাজ. মুশারফ নিজে ইতিমধ্যেই ঘোষণা করেছেন যে, তিনি জেলা স্তরের আদালতের রায়কে হাই কোর্টে রদ করানোর চেষ্টা করবেন. এখানে বরং আরও বেশী গুরুত্বপূর্ণ হল দেখা যে, রাজনৈতিক ভাবে বর্তমানের পরিস্থিতির মানে কি, এই কথা উল্লেখ করে রাশিয়ার স্ট্র্যাটেজিক গবেষণা ইনস্টিটিউটের বিশেষজ্ঞ বরিস ভলখোনস্কি বলেছেন:

“মুশারফের ভাগ্য, বোধহয়, গত মাসেই আগে থেকে ঠিক করা হয়ে গিয়েছিল, যখন তিনি চার বছরেরও বেশী সময় দেশের বাইরে নির্বাসনে থেকে কাটিয়ে ফিরেছিলেন. মুশারফ নিশ্চয়ই আশা করেছিলেন যে, তাঁকে সানন্দে সাক্ষাত্ করা হবে, কারণ দেশের লোকে বিগত পাঁচ বছর ধরে বর্তমানের প্রশাসনের কাজে বিরক্ত হয়ে গিয়েছেন. এটা কিন্তু হয় নি – মুশারফকে নিতে এসেছিলেন মাত্র কয়েক শো সমর্থক, আর বেশীর ভাগ জনতাই প্রাক্তন রাষ্ট্রপতির ফিরে আসার ঘটনাকে নিরুত্তাপ ভাবেই নিয়েছেন, যদি শত্রু মনোভাবাপন্ন বলতে না চাওয়া হয়, তাহলে”.

এখন বেশীর ভাগ অভিযোগই, যা মুশারফের বিরুদ্ধে করা হয়েছে, তা বর্তমানের প্রশাসনের সঙ্গে তাঁর পারস্পরিক সম্পর্ক নিয়ে – অংশতঃ, ২০০৭ সালের ডিসেম্বর মাসে বর্তমানের রাষ্ট্রপতি আসিফ আলি জারদারির স্ত্রী বেনজির ভুট্টোকে হত্যার সঙ্গে তাঁর যোগসাজশ নিয়ে. আর অবশ্যই মুশারফ ১১ই মে নির্বাচনের পরে কিছু একটা ছাড়ের আশা করতেই পারতেন, যদি প্রশাসন পাল্টে যায়, তাহলে, কিন্তু যদি না একটা পরিস্থিতি তৈরী হত, এই কথা উল্লেখ করে বরিস ভলখোনস্কি বলেছেন:

“প্রথমে পার্লামেন্ট ও তারপরে রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে আজ সবচেয়ে প্রধান প্রার্থী বলে মনে করা হয়েছে প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী নওয়াজ শরীফকে, যাঁকে মুশারফ ক্ষমতাচ্যুত করেছিলেন ১৯৯৯ সালে সামরিক অভ্যুত্থানের মাধ্যমে, আর তারপরে আদালত তাঁকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছিল. আর তাই শরীফের কাছ থেকে মুশারফ কোন রকমের ছাড়ের আশা করতেই পারেন না, তার ওপরে শরীফ ইতিমধ্যেই আদালতের কাজকর্মে সম্পূর্ণ সমর্থন প্রকাশ করেছেন. এটাও অবশ্য ঠিক যে, মুশারফের হয়ত জুল্ফীকার আলি ভুট্টোর মতো ভবিষ্যত অপেক্ষা করে নেই, যাঁকে সামরিক স্বৈরতন্ত্রী জিয়াউল হক ১৯৭৯ সালে ফাঁসীতে চড়িয়েছিলেন, কিন্তু আসন্ন আদালতের রায়ে যে তাঁকে দোষী সাব্যস্ত করেই দেওয়া হবে, তা দেশের সমস্ত প্রভাবশালী রাজনৈতিক শক্তির নেতিবাচক মনোভাব দেখে আর সন্দেহ করার কোন কারণ নেই”.

এখনও অবশ্য একটা সম্ভাবনা বাকী থেকেই যাচ্ছে যে, মুশারফের পক্ষে দেশের সামরিক বাহিনী দাঁড়াতে পারে, যে বাহিনীর নেতা হিসাবে তিনি ছিলেন বহু বছর ধরেই. কিন্তু, প্রথমতঃ, বিগত সবকটি বছর ধরেই পাকিস্তানের সামরিক বাহিনী একেবারে বিশেষ করে উল্লেখ করে দেখিয়ে প্রকাশ্য রাজনীতিতে আসতে চায় নি, আর দ্বিতীয়তঃ, যে সংবাদ এখানে এসে পৌঁছচ্ছে, তা বিচার করে বলা যেতে পারে যে, সারিক বাহিনীর লোকরা খুব একটা নিজেদের প্রাক্তন প্রধানকে বাঁচানোর জন্য উদগ্রীব হয়ে নেই. রয়টার সংবাদ সংস্থা থেকে প্রকাশিত খবরে এক প্রাক্তন বৃহত্ সামরিক নেতা হামিদ খান ঘোষণা করেছেন যে, আমি মনে করি না যে, সামরিক বাহিনী ওঁর ফিরে আসাকে স্বাগত জানিয়েছে – বরং বেশী করেই তারা চেষ্টা করেছে নিরস্ত করতে. কিন্তু উনি ঠিক করেছেন ফিরে আসার, আর এখন তাঁকে এটার সামনে দাঁড়াতে হবেই. সামরিক বাহিনী রাজনীতির বাইরেই থাকবে.

মনে হচ্ছে, পাকিস্তান নিজেদের স্বাধীনতা পরবর্তী সমগ্র সাড়ে ছয় দশকের রাজনৈতিক ঐতিহ্য থেকে হঠে যাচ্ছে, যখন প্রশাসনের দায় পাল্টে নিয়েছিল কখনও সামরিক আর কখনও অসামরিক লোকরা, তাই বরিস ভলখোনস্কি বলেছেন:

“আজ একেবারেই আনুষ্ঠানিক দৃষ্টিকোণ থেকে দেখতে পাওয়া যাচ্ছে ক্ষমতা বদলের প্রক্রিয়াকে, যা সম্পূর্ণভাবেই সাংবিধানিক স্রোতে আবদ্ধ রয়েছে. কিন্তু এখানে মনে রাখা দরকার হবে যে, বিগত পাঁচ বছরে অসামরিক প্রশাসন নিজেদের দুর্বলতা দেখিয়েছে – এমনকি মুশারফের সময়ের সঙ্গে তুলনা করলেও. আর বড় প্রশ্ন হল, ভবিষ্যতের প্রশাসনের পক্ষে এই রকম ভাবে ক্রমাগত বেড়ে ওঠা সমস্যার সঙ্গে মানিয়ে চলা সম্ভব হবে কি না – যা অর্থনৈতিক, ধর্মীয়, প্রজাতিগত, আর তারই সঙ্গে সন্ত্রাসের হুমকির সঙ্গেও জড়িত”.

আর এমন হবে না তো যে, আগে হোক বা পরেই হোক, দেশের লোক সামরিক বাহিনীকেই শাসন করতে ডাকবে. এটা ঠিক যে, ত্রাণকর্তার ভূমিকায় মুশারফ আর আসবেন না, বরং অন্য কেউই হবেন, কিন্তু মনে তো হয় না যে, তাঁর থেকে খুব বেশী আলাদা রকমের কেউ হবেন, এই রকমই মনে করেছেন রুশ বিশেষজ্ঞ.