জর্ডন সিরিয়ার বিরুদ্ধে যে কোন রকমের সামরিক অনুপ্রবেশের বিপক্ষে থাকার আহ্বান করেছে. এই বিষয়ে ঘোষণা করেছেন তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী মুহাম্মেদ আল-মুমানি. তিনি উল্লেখ করেছেন যে, “আমাদের অবস্থান অপরিবর্তিত রয়েছে, আম্মান জোর দিয়েই চাইছে বিরোধের মীমাংসা রাজনৈতিক মাধ্যম ব্যবহার করে করতে, যাতে সিরিয়াতে রক্তপাত বন্ধ করা যায়”.

তা স্বত্ত্বেও আল- আখবারিয়া টেলিভিশন চ্যানেলকে দেওয়া এক সাক্ষাত্কারে সিরিয়ার রাষ্ট্রপতি বাশার আসাদ উল্লেখ করেছেন যে, জর্ডন থেকে সিরিয়াতে আগের মতই সহস্র চরমপন্থী সশস্ত্র অবস্থায় অনুপ্রবেশ করছে. এর আগে পশ্চিমের সংবাদ মাধ্যম থেকে খবর দেওয়া হয়েছে যে, এই রাজতন্ত্রে প্রশিক্ষণ কেন্দ্র রয়েছে, যেখানে আমেরিকার প্রশিক্ষকরা জঙ্গীদের বিরোধের এলাকায় পাঠানোর আগে প্রশিক্ষণ দিচ্ছে.

তাছাড়া, ব্রিটেনের গার্ডিয়ান কাগজে জানানো হয়েছে যে, আম্মানের প্রশাসন রাজী হয়েছে নিজেদের এলাকা দিয়ে সিরিয়াতে জঙ্গীদের কাছে সৌদি আরবের অস্ত্র পৌঁছে দেওয়ার জন্য. খুবই অদ্ভুত ভাবে এটা এর- রিয়াদ থেকে আম্মানে একশ কোটি ডলার পাঠানোর সঙ্গেই একসঙ্গে ঘটে গিয়েছে.

এই সম্পর্কে জর্ডনের রাজনীতিবিদ ইয়াসর কুবেইলাতা উল্লেখ করে বলেছেন:

“সিরিয়ার বিরোধের ক্ষেত্রে এটা কি পরিণতি দেবে? বোঝাই যাচ্ছে এটা কিছুটা শক্তিশালী করবে সরকার বিরোধী শক্তিদের. তা স্বত্ত্বেও জর্ডন থেকে অস্ত্র সরবরাহ এই বিরোধে মনে তো হয় না কোন সিদ্ধান্ত দেওয়ার মত কারণ হবে. তাছাড়া, এখন ধীরে হলেও সকলেই বুঝতে পারছে যে, সিরিয়ার সঙ্কট থেকে বের হওয়ার একমাত্র পথ হল – যুদ্ধে নিরত পক্ষদের মধ্যে আলোচনা. আর কিছু বিশেষজ্ঞ মত দিয়েছেন যে, আসন্ন বছরের মধ্যেই সিরিয়ার বিরোধ রাজনৈতিক নিয়ন্ত্রণ প্রক্রিয়াতে পরিণত হবে. আমি এটার সঙ্গে একমত”.

কিন্তু আপাততঃ আলোচনার জন্য তৈরী বলে জানাচ্ছে শুধু দামাস্কাসের প্রশাসন. আর কিছু বিরোধীর পক্ষ থেকে তাদের সঙ্গে আলোচনার জন্য এগিয়ে যাওয়া বিদেশের স্পনসরদের পক্ষ থেকে বাধার সম্মুখীণ হয়েছে. আর সেই সময়েই সিরিয়াকে তার সীমানার সমস্ত দিক থেকেই ঘিরে ফেলা হয়েছে. ইরাকে ও লেবাননে এটা করা হচ্ছে এই দেশ গুলির প্রশাসনের অনিচ্ছা স্বত্ত্বেও বেআইনি সশস্ত্র বাহিনী ব্যবহার করে. তুরস্কে ও জর্ডনে করা হচ্ছে সরকারের জ্ঞাতসারে.

তারই মধ্যে জর্ডন এই অগ্নিতে ঘৃতাহুতি করে নিজেদেরই প্রাথমিক ভাবে ক্ষতি করছে. কারণ সিরিয়ার বিরোধ – এটা শুধু আরব বসন্ত নামের এক বড় প্রকল্পের একটা অংশ মাত্র. আর এই রাজতন্ত্রের জন্য তাতে আলাদা ভূমিকা দেওয়া হয়েছে, এই রকম মনে করে রাশিয়ার প্রাচ্য বিশারদ ভিয়াচেস্লাভ মাতুজভ বলেছেন:

“জর্ডনকে প্যালেস্টাইনের মত রাষ্ট্র করার জন্য বহুবার কথা উঠেছে, যাতে প্যালেস্টাইন ও ইজরায়েলের মধ্যে আলোচনা বন্ধ করা যায়. এটা জানা রয়েছে যে, জর্ডনের জনসংখ্যার অধিকাংশই প্যালেস্তিনীয় লোক – তাই এই দেশকেই করতে চাওয়া হয়েছে প্যালেস্তিনীয় রাষ্ট্র বলে ঘোষণা. এই ধরনের পরিকল্পনা অনেক দিন আগে থেকেই করা হয়েছে. যাতে এই প্রকল্প এখন বাস্তবায়ন করা যায়, তাই প্রয়োজন হল এই রাজতন্ত্রের রাষ্ট্র ব্যবস্থাতেই আঘাত করার, যা আমেরিকার স্ট্র্যাটেজি যারা তৈরী করেছে, তারা বহুদিন ধরেই নিজেদের পরিকল্পনার মধ্যে তৈরী করে রেখেছে আর যা তারা কাজে করবে, যদি সিরিয়ার সঙ্গে যুদ্ধে জেতা সম্ভব হয়”.

বোধহয়, এটা একটা সম্ভাব্য ঘটনা পরম্পরা মাত্র. কিন্তু যে কোন রকম ঘটনা দিয়ে সিরিয়াকে ধ্বংস করলেই তা নিকটবর্তী প্রতিবেশী দেশ গুলির জন্য কোনও ভাল কিছু বয়ে নিয়ে আসবে না. তার মধ্যে তারাও রয়েছে, যারা ইচ্ছা করে বা অনিচ্ছা স্বত্ত্বেও সিরিয়ার রাষ্ট্র ব্যবস্থাকে ধ্বংস করতে সাহায্য করছে.