মস্কোর গির্জা গুলির সোনালী চূড়ার সঙ্গে খুব শীঘ্রই আরও একটা যোগ হতে চলেছে – এখানের জুম্মা মসজিদের প্রধান গম্বুজ. এই উঁচু প্রাসাদের গম্বুজ ২৭ মিটার ব্যাসের, আর উচ্চতা – সাড়ে আট মিটার.

এই গম্বুজ লাগানোর কাজ শেষ হতে কয়েক দিন মাত্র বাকী, কিন্তু ইতিমধ্যেই বলা যেতে পারে যে, প্রধান মসজিদের প্রথম অধ্যায়ের কাজ, যা এই প্রাসাদের কংক্রীটের কাঠামো, ছোট গম্বুজ গুলি, দুটি ৭৮ মিটার উচ্চতার মিনার তৈরী ইত্যাদি দিয়ে শেষ হয়েছে. এই প্রসঙ্গে রেডিও রাশিয়াকে দেওয়া এক সাক্ষাত্কারে রাশিয়ার মুফতি সভার উপ সভাপতি দামির হজরত গিজাতুলিন, যিনি এই নির্মাণ কাজ পর্যবেক্ষণ করছেন, তিনি বলেছেন:

“আমরা আপাততঃ যতক্ষণ না এই ভবনের মাথা ঝড় বৃষ্টি বা তুষার পাতের থেকে ঢাকা দিয়ে রক্ষা করতে না পারছি, ততক্ষণ পর্যন্ত ভেতরের কাজ শুরু করতে পারছি না”.

মনে করিয়ে দিই যে, ২০০৫ সালে মস্কোর জুম্মা মসজিদের পুনর্গঠনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল. তখন রাশিয়ার মুফতি সভার উদ্যোগকে সমর্থন করেছিলেন তত্কালীন রাশিয়ার রাষ্ট্রপতি ভ্লাদিমির পুতিন, আর মস্কোর প্রশাসন. দেখাই যাচ্ছিল যে, এই মসজিদ, যেখানে ১৯০৪ সালে প্রথম আজান ঘোষিত হয়েছিল, তা আজ আর সমস্ত আগত মানুষকে জায়গা দিতে পারছিল না.

নতুন ভবনে ছয়টি তলা থাকবে. এমন সব হল তৈরী করা হচ্ছে, যেখানে প্রতিবন্ধীদের জন্য ব্যবস্থাও থাকবে, তিনটে তলা জুড়ে হল থাকবে পুরুষদের জন্য, আলাদা হল থাকবে মহিলাদের জন্যও. মস্কোর জুম্মা মসজিদ পুনর্গঠন শুরু হওয়ার পর থেকে বিশেষ তহবিল তৈরী করা হয়েছে দান ও চাঁদা জড়ো করার জন্য. সেই তহবিলের প্রধান হয়েছেন রাশিয়ার মুফতি সবার সভাপতি রাভিল গাইনুতদিন. প্রতিযোগিতার মাধ্যমে এই মসজিদের ভিতরের অলঙ্করণের কাজের জন্য লোক বাছাই করা হয়েছে.

আপাততঃ নির্মাণের জায়গায় কাজ করছেন শুধু রুশ লোকরা. আর এই বাইরের দিকের কাজ করার জন্যও রাশিয়ার কোম্পানী কাজ করবে, তাই গিজাতুলিন বলেছেন:

“নীচের দিকের অংশ হবে ঘন সবুজ রঙের গ্রানাইট পাথরের, আর মসজিদ হবে শ্বেত পাথরের. দরজা ও জানলার জায়গা করা হবে হাল্কা সবুজ রঙের গ্রানাইট দিয়ে. সমস্ত চুক্তি ইতিমধ্যেই করা হয়েছে”.

আর মস্কোর এই জুম্মা মসজিদের গম্বুজ অবশ্যই হবে সোনালী রঙের. কিন্তু তা হবে শুধু বিশেষ ধরনের অগ্নি রোধ করার ক্ষমতা সম্পন্ন পদার্থ ও তামা দিয়ে ঢেকে দেওয়ার পরে, তাই গিজাতুলিন যোগ করে বলেছেন:

“তার পরে তামার উপরে দুটো বা তিনটে স্তরে গিল্টি সোনার আস্তরণ দেওয়া হবে, তা ঠিক করা হবে সোনার স্তরের প্রস্থ বুঝে. বৃষ্টি বা ঝড়ের সময়ে এটা করা উচিত্ নয়. তাই কিছু সময়ের জন্য এটাকে কাঠামো দিয়ে ঢেকে তার ভিতরেই কাজ করা হবে”.

গ্রীষ্মকাল এগিয়ে আসছে আর এটা রাশিয়ার প্রধান মুসলিম মসজিদে যারা কাজ করছেন, তাদের জন্য হবে সবচেয়ে বেশী করে কাজের সময়.