বিশ্বের সমরাস্ত্রের বাজারে রাশিয়ার অবস্থান সবচেয়ে ও বেশী করেই শক্তিশালী সামরিক বিমানের ক্ষেত্রে. সু- ৩০, মিগ – ২৯, ধরনের বিমানগুলি বিশ্বের বাজারে বিভিন্ন এলাকায় খুবই পরিচিত, বিশেষ করে এশিয়ার দেশ গুলিতে. রাশিয়াতে তৈরী বিমানের চাহিদা থেকেই যাচ্ছে, কারণ সেই ধরনের নতুন বায়নাদার, যেমন আলজিরিয়া, ভেনেজুয়েলা, মালয়েশিয়া, ভিয়েতনাম, ইন্দোনেশিয়া, চিন ও উগান্ডা এই সব দেশের কাছ থেকে চাহিদার উদয় হয়েছে. এই তালিকায় সম্ভবতঃ, খুবই শীঘ্র যোগ হতে চলেছে বাংলাদেশ. এই দেশে ইয়াক – ১৩০ ধরনের বিমান পাঠানো শুরু হতে চলেছে ২০১৫ সাল থেকে.

রাশিয়ার সামরিক – শিল্প ক্ষেত্রের কোম্পানীগুলির জন্য এশিয়ার দেশ গুলির সঙ্গে সামরিক –প্রযুক্তি বিষয়ে সহযোগিতা প্রাথমিক কাজে পরিণত হয়েছে. সেখানে নিজেদের সামরিক শক্তি বৃদ্ধির জন্য যথেষ্ট পরিমানে অর্থ বরাদ্দ করা হচ্ছে, এই কথা উল্লেখ করে স্ট্র্যাটেজিক কাঠামো ইনস্টিটিউটের ডিরেক্টর ইভান কনোভালভ বলেছেন:

“এই ধরনের দেশ গুলির এমন বিমান বহরই দরকার. রাশিয়ার সামরিক বিমান দাম ও গুন মানের কারণে এই বায়নাদারদের কাছে সবচেয়ে উপযুক্ত বলে মনে হয়েছে. যদিও তার দাম যথেষ্ট. তবুও আমেরিকা বা ফ্রান্সের বিমানের চেয়ে এই গুলি সস্তা. আর খুবই ভাল গুনের. তাই দক্ষিণ- পূর্ব এশিয়ার দেশ গুলি, যেখানে বহু অনেক মীমাংসা না হওয়া ও তার মধ্যে সীমান্ত সংক্রান্ত প্রশ্ন জড়িত সমস্যা রয়েছে, তারা রাশিয়ার বিমানের বিষয়ে এত বেশী মনোযোগ দিয়ে থাকে. অন্য দিক থেকে রাশিয়ার কোম্পানী গুলিও সেই রকমের সেখানে হিসেব করে কাজ করে থাকে, আমি বলতে চাইছি মিগ ও সুখই কোম্পানীর বিমান এই সব বাজারে বিজ্ঞাপন দেওয়া জন্য”.

রাশিয়ার সবচেয়ে নতুন প্রশিক্ষণ ও যুদ্ধের বিমান ইয়াক – ১৩০, আপাততঃ, ততটা বিশ্বে ভাল করে পরিচিত নয়, যেমন সু- ৩০ বা মিগ – ২৯. কিন্তু এই বিমানের খুবই ভাল রকমের রপ্তানী যোগ্যতা রয়েছে, বিমানের গুন মান খুবই ভাল. ইয়াক – ১৩০ সেই কারণেই বিরল যে, তাতে দুটো কাজই করা যেতে পারে, একটা প্রশিক্ষণ ও মহড়া দেওয়ার বিমান হিসাবে ব্যবহার করা আর আবার প্রয়োজনে আঘাত হানার জন্য বিমান হিসাবেও ব্যবহার করা যেতে পারে. এই বিষয়ে রুশ প্রজাতন্ত্রের মন্ত্রীসভার সামরিক শিল্প পরিষদের সভাপতির সামাজিক পরামর্শ সভার সদস্য ভিক্টর মুরাখোভস্কি বলেছেন:

“এই বিমানের ভিতরে লাগানো রেডিও ইলেকট্রনিক যন্ত্রপাতি অনেক রকমের সামরিক বিমানের উড়ানের আদল নকল করতে পারে, সমরাস্ত্র ব্যবহারও. আবার সাধারণ একটা যুদ্ধ বিমানের মতো বোমা ফেলা, রকেট ছোঁড়া ইত্যাদি কাজও করতে পারে. এটা ঠিক যে, এই বিমানের ভিতরে ইলেকট্রনিকস তত জটিল নয়, যা চতুর্থ বা পঞ্চম প্রজন্মের বিমানের মধ্যে থাকে, কিন্তু তাও বহু রকমের বিরোধের সময়ে, বিশেষ করে স্থানীয় আকারের বা সন্ত্রাস বিরোধী কাজকর্মের জন্য এই বিমানকে ব্যবহার করা যেতেই পারে, যেখানে উন্নত বিমানের কেন প্রয়োজন নেই”.

0ইয়াক – ১৩০ আধুনিক যুদ্ধ বিমানের চেয়ে প্রায় অর্ধেক দামের বিমান, উল্লেখ করেছেন বিশেষজ্ঞ. এটার ফলে বিমান এক বিরল ধরনের হতে পেরেছে. বাংলাদেশের সঙ্গে চুক্তি, যা করার পরিকল্পনা আছে – তা শুধু বিদেশের বাজারে ইয়াক – ১৩০ বিমানের প্রথম পা রাখা. ২০১২ সালের মাঝামাঝি সময়ের তথ্য অনুযায়ী রসআবারোনএক্সপোর্ট বিগত সাত বছরে বিদেশে পাঠিয়েছে ২৯০টি সামরিক বিমান, যার অর্থ মূল্য ২ হাজার কোটি ডলারেরও বেশী. বেশীর ভাগ রপ্তানী হওয়া বিমান হল সুখই বা মিগ ধরনের.