বেলজিয়ামের পুলিশ এই রাজতন্ত্রের এলাকায় সিরিয়ার যুদ্ধে যাওয়ার জন্য লোক যোগাড়ের কেন্দ্র গুলিকে নষ্ট করে দেওয়ার জন্য কাজে হাত দিয়েছে. এই ধরনের কেন্দ্র শুধু বেলজিয়ামেই নেই, বরং সারা ইউরোপীয় সঙ্ঘ জুড়েই রয়েছে. ইউরোপে লোকে উদ্বিগ্ন যে, সিরিয়া থেকে ফিরে আসার পরে সেই সব ভাড়াটে সৈন্যরা, যারা সেখানের যুদ্ধের স্কুল শেষ করে আসবে, তারা ইউরোপের দেশ গুলির জন্যই বিপজ্জনক হবে.

বেলজিয়াম মোটেও প্রথম ইউরোপীয় দেশ নয়, যেখানে সরকার সিরিয়ায় বিরোধী পক্ষের লোক বাড়ানোর জন্য এখান থেকে লোক নিয়ে যাওয়ায় উদ্বেগ প্রকাশ করেছে. গ্রেট ব্রিটেনের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রক সেই সমস্ত লোকের উপরে নিয়ন্ত্রণ বৃদ্ধি করেছে, যারা দেশ থেকে সিরিয়ার দিকে উড়ে যেতে চাইছে. ফ্রান্স ও অন্যান্য দেশের সরকারও পরিস্থিতি খতিয়ে দেখতে চাইছে.

এটা ঠিকই যে, ইউরোপের পুলিশ সেই কারণে উদ্বিগ্ন নয় যে, তাদের নিজেদের দেশের লোকরা বাশার আসাদের ক্ষতি করতে পারে বলে. ইউরোপের লোকদের খুবই গুরুতর ভয়ের কারণ হয়েছে যুদ্ধ শেষে এই সব ভাড়াটে সৈন্যদের ফিরে আসা: আর এই সব সুযোগ সন্ধানী সৈন্যরা ফিরে এসে কি করবে? কারণ শুধু যুদ্ধ করা ছাড়া এই সব অল্প বয়সী ছেলেরা আর কিছুই তো শিখে উঠতে পারবে না, তারা সেটা চেষ্টাও করে দেখে নি.

এই ধরনের লোক যোগাড়ের কেন্দ্রগুলি কি করে কাজ করে থাকে, তা নিয়ে রেডিও রাশিয়াকে সঙ্কট পরিস্থিতি নিয়ে বিশেষজ্ঞ প্রাক্তন বিদেশ গুপ্তচর বিভাগের কর্নেল লেভ করলকোভ বলেছেন:

“এটা খুবই ভাল করে তৈরী করা নেটওয়ার্ক, যাদের নিজেদের লোক বাছাই করার কেন্দ্র রয়েছে, যেগুলি বাছাই করার মতো লোকেরা যেখানে জড়ো হয়, সেই সব জায়গায় আছে. সেই ধরনের জায়গা হয় যেখানে ঐস্লামিক দেশ গুলি থেকে বিশাল সংখ্যক অভিবাসিত মানুষরা থাকেন, যারা ইউরোপে আশ্রয় নিয়েছেন. তাদের বিশেষ করে থাকার জায়গা হল নেদারল্যান্ডস ও বেলজিয়াম আর কম সংখ্যায় রয়েছে সুইডেনে. আর কম রয়েছে নরওয়ে রাষ্ট্রে, অর্থাত্ যেখানে আগে পালিয়ে আসা লোকদের জন্য সবচেয়ে ভাল ব্যবস্থা করা হয়েছিল, সেই সব দেশে”.

এখানে সবচেয়ে মূল বিষয় হল যে, নতুন ঐস্লামিক জঙ্গী যোগাড়ের জন্য যেখানে রসদের ব্যবস্থা রয়েছে, অর্থাত্ আর্থিক রসদের সরবরাহ, বলেছেন লেভ করলকোভ. বিশেষজ্ঞ বিশ্বাস করেন যে, এই ধরনের ভাড়াটে সৈন্য যোগাড়ের জন্য কাজের অর্থ জোগান দিচ্ছে পারস্য উপসাগরীয় দেশ গুলি থেকে. তারা স্বেচ্ছায় যুদ্ধে যোগ দিতে যারা যাচ্ছে, তাদের সঙ্গে চাইছে যোগাযোগ আগে থেকেই করে রাখতে, যাতে তাদের জন্য কোন রকমের খারাপ কিছু হলে কিছু করা যায়.

ইউরোপীয় সঙ্ঘের পররাষ্ট্র নীতি বিগত কিছু বছর ধরেই ইউরোপের ভিতরেই সন্ত্রাসের বিপদ বাড়িয়ে দিয়েছে. এই ব্যাপারে বিশেষ করে উত্তর আফ্রিকা, মধ্য এশিয়া ও নিকটপ্রাচ্যের প্রক্রিয়া গুলিতে ইউরোপীয় সঙ্ঘের সক্রিয় ভাবে হস্তক্ষেপই দায়ী, এই রকম মনে করে রুশ বিজ্ঞান একাডেমীর ইউরোপ ইনস্টিটিউটের ইউরোপীয় নিরাপত্তা বিভাগের প্রধান দিমিত্রি দানিলভ বলেছেন:

“খুবই বোধগম্য যে, এই পরিপ্রেক্ষিতে সন্ত্রাসের হুমকি শুধু কমই হচ্ছে না, বরং তা বহু গুনে বেড়ে যাচ্ছে. আমি ইউরোপীয় দেশ গুলির আরব বিশ্বে সামরিক সক্রিয়তা বৃদ্ধির সঙ্গে ইউরোপের ভিতরে সন্ত্রাসের বিপদ বেড়ে যাওয়াকে সরাসরি জুড়ে দেবো না. তবে যুক্তিসঙ্গত ভাবেই এই ধরনের সংযোগ থাকতে পারে”.

ইউরোপের দেশ গুলি থেকে আগে লিবিয়াতে জঙ্গীদের সাহায্য করতে সেনা পাঠানো হয়েছিল. এখন তারা সিরিয়ার জঙ্গীদের রাজনৈতিক ও রসদ সাহায্য দেওয়ার কাজ করছে. কিন্তু এটা করতে গিয়ে ইউরোপের লোকরা চাইছে নিজেদের এই ধরনের নীতির নেতিবাচক পরিণতি থেকে রেহাই পেয়ে যেতে. মনে হচ্ছে একই সঙ্গে দুটি আসনে বসতে যাওয়ার চেষ্টা – খুব একটা সুবিধার কাজ নয়.