ইরানের পারমানবিক শক্তি সংস্থার প্রধান ফেরেইদুন আব্বাসী দেওয়ানী আরও একবার ঘোষণা করেছেন যে যদি সেই রকমের দরকার পড়ে, যেমন কিছু জাহাজ বা ডুবো জাহাজের জন্য, তবে ইরান ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধ করতে পারে শতকরা ৫০-৬০ ভাগ পর্যন্ত. তাঁর কথামতো, ইরানের গবেষকদের পারমানবিক ডুবোজাহাজের প্রয়োজন পড়তে পারে আরও বড় ধরনের জলের নীচে কাজ করার জন্যে. কি ধরনের কাজ, তা অবশ্য দেওয়ানী ঠিক করে বলেন নি.

ভ্লাদিমির সাঝিন এই নিয়ে মন্তব্য করেছেন.

এই ধরনের ঘোষণা গত বছরের গরমে করেছিলেন ঐস্লামিক প্রজাতন্ত্র ইরানের সর্ব্বোচ্চ নেতা আয়াতোল্লা খোমেনেই এর পরামর্শদাতা – রেজা তাকাভি. তখন এটা ইরানের বিরুদ্ধে নেওয়া অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞার প্রত্যুত্তর হিসাবে মনে করা হয়েছিল, যা আন্তর্জাতিক সমাজ ইরানের পারমানবিক পরিকল্পনার বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক সমাজের তরফ থেকে নেওয়া হয়েছিল. জনাব তাকাভি তখন ভয় দেখিয়েছিলেন যে, ইরান ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধ করা যা দেশের পারমানবিক পরিকল্পনার সঙ্গেই যুক্ত, তা ৫৬ শতাংশ অবধি করবে, যদি আন্তর্জাতিক রাষ্ট্র গুলি তাদের উপরে চাপ দেওয়া চালিয়ে যেতে থাকে ও ইরানের প্রতি শত্রুতা মূলক ব্যবহার করতেই থাকে.

আজ এটাকে ব্যাখ্যা করা সম্ভব হতে পারে ইরান ও ছয় পক্ষের মধ্যে পরপর আলমা-আতার আলোচনা সহ দুটি সব মিলিয়ে নিষ্ফল আলোচনা শেষ হওয়ার পরে ও নতুন (আশা করা যেতে পারে) আলোচনা শুরুর আগের বাধ্য হয়ে চুপ করে থাকার সময়ে ইরানের প্রতিক্রিয়া বলে.

এখানে বাদ দেওয়া যেতে পারে না দেশের ভিতরের রাজনৈতিক পরিস্থিতিকেও. ঐস্লামিক প্রজাতন্ত্র – বর্তমানে রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের সামনে দাঁড়িয়ে, আর ক্ষমতাসীন উচ্চপদস্থ লোকদের যে কোন রকমের ঘোষণাকেই আজ নির্বাচন পূর্ব ইঙ্গিত বলে ভাবা যেতে পারে.

কিন্তু ইরানের পারমানবিক সমস্যা সমাধানের জন্য এই ধরনের কথাবার্তা কি কাজে লাগতে পারে, এমনকি স্রেফ ইরানের জন্যও? এই প্রসঙ্গে রাশিয়ার জ্বালানী ও নিরাপত্তা কেন্দ্রের ডিরেক্টর আন্তন খ্লোপকভ বলেছেন:

“ইরানের পারমানবিক পরিকল্পনাকে ঘিরে সমস্যা আরও ঘনীভূত হবে যদি ইরান শতকরা ২০ ভাগের বেশী ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধ করে. এই ধরনের পদক্ষেপ আসন্ন ভবিষ্যতে শুধু বর্তমানের পরিস্থিতি সমাধানের জন্য সম্ভাব্য পথ খোঁজার পরিপন্থীই হবে না, বরং এই সঙ্কটকে আরও নতুন ও বেশী করেই তীক্ষ্ণ পরিস্থিতিতে নিয়ে যেতে পারে. দেখাই যাচ্ছে যে, যদি এটা ইরানের পক্ষ থেকে করা হয়, তবে অনেক বেশী করেই তেল আভিভ ও ওয়াশিংটনের পক্ষ থেকে ইরানের উপরে বেশী করে চাপ দেওয়ার লক্ষ্য বেড়ে যাবে.

এই ধরনের সিদ্ধান্ত – ইউরেনিয়াম শতকরা ২০ শতাংশের বেশী সমৃদ্ধ করা – যেমন ইরানের, তেমনই এই দেশের পারমানবিক পরিকল্পনাকে ঘিরে তৈরী হওয়া সমস্যা সমাধানের কাজে কোন ভাবেই লাগতে পারে না”.

এরই মধ্যে, বিভিন্ন ইরানের প্রতিনিধিদের করা ঘোষণা যে, তাদের দেশে পারমানবিক ডুবোজাহাজ তৈরী করা হবে – তা বিশেষজ্ঞদের মতে, একটা মরীচিকা তৈরী করা ছাড়া আর কিছুই নয়. খুব কম লোকই বিশ্বাস করে যে, ইরানের কাছে আগামী কাল, তার পরের দিন অথবা এমনকি বছর কুড়ি পরেও কোন রকমের পারমানবিক ডুবোজাহাজের উদয় হতে পারে বলে. তাই এই ধরনের ঘোষণা বেশী করেই করা হয়েছে দেশে শতকরা ৯০ শতাংশ পর্যন্ত ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধ করার ইচ্ছা নিয়ে, যা পারমানবিক অস্ত্র তৈরী করার জন্যই দরকার.

দেখাই যাচ্ছে যে, কিছু ইরানের রাজনীতিবিদ মনে করছেন যে, পশ্চিমের দেশ গুলি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইজরায়েল সহ, বর্তমানে ঐস্লামিক প্রজাতন্ত্র ইরানের পারমানবিক সমস্যা সামরিক শক্তি প্রয়োগের মাধ্যমে করতে যাবে না. আর এটা, তাদের মতে, ছয় পক্ষের উপরে চাপ বাড়ানোর জন্যই সুযোগ দেবে. আর দেশের ভিতরের রাজনৈতিক ক্ষেত্রে এই ধরনের আক্রমণাত্মক কথাবার্তা দেশের দেশ প্রেমিক নির্বাচকদের মধ্যে জনপ্রিয়তা লাভের জন্যই ব্যবহার করা যেতে পারে.

যুদ্ধের কিনারায় দাঁড়িয়ে এই ধরনের রাজনীতি করা, হতে পারে ইরানের নেতাদের জন্য দেশের জনতাকে ঐক্যবদ্ধ করার জন্য কাজে লাগতে পারে, যাঁরা এমনিতেই সামাজিক – অর্থনৈতিক সমস্যা নিয়ে জর্জরিত. তার ওপরে আজ দুই মাসেরও কম সময়ের মধ্যে ইরানে রাষ্ট্রপতি নির্বাচন হবে, যা দেশকে আরও অনেক বেশী বিভাজিত করে দিতেই পারে, যা বর্তমানে হচ্ছে ভেনেজুয়েলাতে. কিন্তু এই ধরনের রাজনীতির পরিণতি হতে পারে একেবারেই অপূর্ব পরিকল্পিত রকমের – আর এখানেই সেটার বিপদ.