রাশিয়ার নাগরিক সমাজে রাষ্ট্রের আভ্যন্তরীণ রাজনীতি নিয়ে বিতর্কের সূত্রপাত হয়েছে. রাশিয়ার নাগরিকদের একাংশ প্রশাসনকে অভিযোগ করেছেন যে, বেশীর ভাগ নতুন আইন নিষেধাজ্ঞা মূলক ও নাগরিক অধিকার খর্ব করে. সমাজের অন্য একাংশ নতুন এই প্রয়াসকে সমর্থন করেন ও জোর গলায় বলেন যে, এর ফলে দেশে শৃঙ্খলা রাখা সম্ভব হবে ও বরং উল্টো যে, দেশের বেশীর ভাগ লোকের অধিকার রক্ষা সম্ভব হবে.

রাশিয়াতে বিগত কিছু সময় ধরে সত্যই প্রচুর নিষেধাজ্ঞা আইন অনুযায়ী বলবত্ করা হয়েছে. নিষেধ হয়েছে মদ্যপ অবস্থায় গাড়ী চালানো, সংবাদ মাধ্যমে অশ্লীল কথা ব্যবহার নিষিদ্ধ হয়েছে, সামাজিক জড়ো হওয়ার জায়গায় সিগারেট খাওয়া নিষেধ, অপ্রাপ্তবয়স্কদের অ্যালকোহল বিক্রী বন্ধ, সমকামী মত প্রচার বন্ধ ইত্যাদি. ফলে দেখা দেল এক গুচ্ছ লোক হাজির হয়েছেন, যাঁরা মনে করেন যে, তাঁদের স্বাধীনতায় হস্তক্ষেপ করা হয়েছে. কিন্তু যদি মন দিয়ে দেখা হয়, আইনে শুধু সেটাই নিষেধ করা হয়েছে, যা এমনিতেই শিক্ষিত মানুষের জন্য বিবেক সঙ্গত ভাবে অনুচিত, এই কথাই উল্লেখ করে নাগরিক সভার সদস্য সের্গেই মারকভ বলেছেন:

“এই সব নিষেধ, শিক্ষিত সভ্য রাষ্ট্রের উপযুক্ত, আর সেই গুলি করা হয়েছে দেশের একেবারেই সংখ্যাগরিষ্ঠ অংশের দাবী অনুযায়ী. বিশেষজ্ঞ উদাহরণ দিয়ে বলেছেন যে, সমাজ প্রশাসনের কাছে দাবী করেছে, “সরকার তাদের রুখে দাও, যারা মদ খেয়ে গাড়ী চালাতে যায়, আর রাস্তায় দূর্ঘটনার প্ররোচনা দেয়”, “সরকার তাদের থামাও, যারা নিজেদের বুল টেরিয়ার মার্কা কুকুরকে মানুষের চেয়ে বেশী পছন্দ করে ও তাদের ছাড়া অবস্থায় নিয়ে ঘুরে বেড়ায়”. মানুষে সরকারের কাছ থেকে শৃঙ্খলা রক্ষার দাবী করেছে. আর নিয়ম শৃঙ্খলা – এটা সবার আগে সেই কম সংখ্যক হিংসা পরায়ণ লোকের কাজকর্মে বাধা দেওয়া, যারা কোন রকমের নিয়ম মানতেই চায় না.রাশিয়াতে এই পথে কাজ চলতেই থাকবে. একটাই যে, এটা করা দরকার কম বেশী ভারসাম্য রেখে. যদি কুকুর নিয়ে শুধু আলাদা জায়গায় ঘুরতে পারার নিয়ম করা হয়, তবে এই ধরনের জায়গা তৈরী করে দেওয়া দরকার ও এমন ভাবে তা করা দরকার, যে তা ব্যবহার করা সহজ হয়”.

অন্য ব্যাপার হল যে, এই ধরনের সমাজে আচার আচরণ নিয়ে করা নিয়মের সঙ্গে প্রায়ই এমন সব আইনের কথা টেনে আনা হচ্ছে, যা নাগরিক সামাজিক- রাজনৈতিক অধিকার ও স্বাধীনতার প্রসঙ্গে করা হয়েছে. যেমন, দেশের সরকারি কর্মী ও পার্লামেন্ট সদস্যদের বাধ্য করা হয়েছে বিদেশে তাঁদের কোন জমি জায়গা থাকলে, তার সম্বন্ধে প্রকাশ্যে স্বীকার করার. এখানে উল্লেখ করা দরকার যে, আইন করে এই ধরনের সম্পত্তি রাখাকে বন্ধ করে দেওয়া হয় নি, শুধু দাবী করা হয়েছে তার সম্বন্ধে তথ্য প্রকাশ করার ও স্পষ্ট করে উল্লেখ করার যে, কি অর্থ ব্যবহার করে এই সম্পত্তি কেনা হয়েছে. বেশীর ভাগ লোকই এটাকে স্বাভাবিক দাবী মনে করেছেন ও তা পালনও করেছেন. কিন্তু তেমন লোকও পাওয়া গিয়েছে, যাঁরা এটাকে মনে করেছেন তাঁদের নিজেদের সম্পদের উপরে অন্যদের নজর এত বেশী পছন্দ হয় নি. ফলে কথা শুরু হয়েছে যে, এই ভাবে নাকি ক্ষমতা থেকে অপছন্দের লোকদের সরানো হচ্ছে. অথবা বেসরকারি সংস্থা নিয়ে যে আইন করা হয়েছে, যা ২০১২ সালের শেষে রাশিয়ার লোকসভায় গৃহীত হয়েছে, তার কথাই বলা যাক. এই আইন অনুযায়ী সমস্ত বেসরকারি দাতব্য প্রতিষ্ঠানের পক্ষ থেকে বাধ্যতামূলক হবে প্রকাশ করার যে, তারা কাদের অর্থে কাজ করছে. যদি দেশের বাইরে থেকে অর্থ দেওয়া হয়, তবে এই প্রতিষ্ঠানকে বলা হবে বিদেশী প্রতিনিধি বলে ও তারা কাজ করতে পারবে. কিন্তু অনেক এই ধরনের প্রতিষ্ঠানই এই নিয়ম মানতে চায় নি. আর যখন গোলস নামের সংগঠনের বিরুদ্ধে প্রশাসনিক মামলা দায়ের করা হয়েছে, তখন সঙ্ঘে সঙ্গেই অভিযোগ করা শুরু হয়েছে, আর তাতে বাইরের দেশও হাত মিলিয়েছে যে, রাশিয়াতে গণতন্ত্রের কন্ঠরোধ করা হচ্ছে. এই প্রসঙ্গে প্রজাতি বিষয়ক রুশ পার্লামেন্টের কমিটির উপ সভাপতি মিখাইল স্তারশিনভ বলেছেন:

“আমার জন্য একেবারেই কোন ব্যাখ্যা ছাড়া কারণে এই সংগঠনটি রাশিয়ার আইন মানতে চাইছে না. সকলের কাছেই অনুরোধ একটা – আইন মেনে চলুন, আর তাহলেই কোনও প্রশ্ন উঠবে না. যখন কোন মতামত এরা দিতে চায়, তখন ভাব করে যে, এটা রাশিয়ার জন সমাজের মত প্রতিফলিত করছে, কিন্তু এটা তো সমাজের মত নয়. এটা সেই মত, যা বিদেশীদের অর্থে তাদের স্বার্থেই প্রকাশ করা হচ্ছে. ঠিক আছে, তাহলে আলাদা ভাবে নথিভুক্ত হোক. আমরা কোন রকমের কাজ করতেই বাধা দিচ্ছি না. কোন রকম ভাবেই এই ব্যবস্থাকে দমন পীড়ন মূলক বলা যেতে পারে না. কিন্তু আমরা বলছি যে, শুধু একটা কথা খেয়াল রাখুন: আলাদা করে নাম লেখান, যাতে রাশিয়ার নাগরিকরা জানেন যে, আপনি বিদেশী প্রতিনিধিদের মতো কাজ করছেন”.

বোঝাই যাচ্ছে যে, বাইরে থেকে অর্থ পাওয়া সংস্থা গুলির পক্ষে দেশের লোকের আস্থাভাজন হওয়া কঠিন. অনেক সহজ হয় অধিকার খর্ব হওয়া নিয়ে ও গণতান্ত্রিক অধিকার হরণ নিয়ে শোরগোল বাধিয়ে সমাজে অসন্তোষ তৈরী করা. আর আইন সঙ্গত এই সব নিষেধাজ্ঞা, যা জীবনের অন্যান্য ক্ষেত্রে নিয়ন্ত্রণ এনে দিয়েছে, তা এই সব শোরগোলের জন্য ভালই একটা চালচিত্র তৈরী করে দেয়.