বস্টন শহরে ম্যারাথন দৌড়ের সময়ে পরপর দুটি বোমা ফাটার ঘটনা ঘটে যাওয়ার পরে তদন্ত চলছে. বিগত রাত্রে বারাক ওবামা শেষ অবধি ঘটে যাওয়া ঘটনাকে সন্ত্রাস বলে স্বীকার করেছেন, কিন্তু কোন রকমের বাড়তি তথ্য প্রকাশ করেন নি. আপাততঃ এফবিআই চুপ করে রয়েছে. তার ওপরে গোয়েন্দাদের এখনও একজনও সন্দেহভাজন ব্যক্তি নেই.

একই সময়ে তদন্ত বিভাগ থেকে জানানো হয়েছে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ জিনিষ খুঁজে পাওয়া নিয়ে. প্রথমতঃ, বিশেষজ্ঞরা বিস্ফোরণের জায়গায় পেয়েছেন ইলেকট্রনিক প্যানেল বোর্ড, যা বোমার অংশ হতে পারে. দ্বিতীয়তঃ, বিস্ফোরক বিশেষজ্ঞরা নির্দিষ্ট করে বলেছেন যে, এই বোমা তৈরী করা হয়েছিল প্রেসার কুকার ব্যবহার করে, যার ভিতরে ভর্তি ছিল বোমার মশলা ছাড়াও লোহার বল ও পেরেক ইত্যাদি. এই বোমা রাখা হয়েছিল একটা কালো ব্যাগ বা রুকজ্যাকে. এই টেলিভিশন চ্যানেল থেকে একটি ভিডিও দেখানো হয়েছে, যাতে দেখা গিয়েছে যে দর্শকাসনের একেবারে কোনায় একটা কালো ব্যাগ রয়েছে. কে কখন এই ব্যাগ রেখেছে, তা জানা যায় নি. গোয়েন্দা বিভাগের লোকরা নিজেদের ঘোষণার বিষয়ে খুবই সতর্ক রয়েছেন. তদন্তকারীদের পক্ষ থেকে বলা হয় নি কোন ধারণার বিষয়ে – কোন বিদেশী হাতের কথা যেমন বলা হয় নি, তেমনই বলা হয় নি দেশের ভিতরের কোন গোষ্ঠী নিয়ে.

বাইরের বিশেষজ্ঞরা, প্রসঙ্গতঃ, আরও বেশী সক্রিয়ভাবেই বলতে চাইছেন দেশের ভিতরের চিহ্নের কথা. এই ধারণার জন্য তারিখ উল্লেখ করা হচ্ছে – দেশপ্রেমী দিবসের কথা – আর এই ট্র্যাজেডির অন্যান্য কার্যকারণ যোগের কথাও. এই সবই সম্ভবতঃ, আমেরিকার দক্ষিণপন্থী জঙ্গীদের দিকে অঙ্গুলি নির্দেশ করে.

প্রসঙ্গতঃ, নানা ধরনের কল্পিত ধারণাও ছড়ানো হচ্ছে যে, এই অন্তর্ঘাত ঐস্লামিক জঙ্গীদের কাজ বলে. এই পরিস্থিতিতে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে আবার করে আরবদের “বাছাই” করার কথা উঠেছে. ফক্স নিউজ টেলিভিশন চ্যানেলের সমীক্ষক এরিক রাশ নিজের টুইটারের পাতায় লিখেছেন যে “আরব লোক – এরা পাপী”. আর আহ্বান করেছেন তাদের “সকলকে মেরে ফেলার”. ফক্স নিউজ চ্যানেলকে মনে করা হয় আমেরিকার রিপাব্লিকান দলের দক্ষিণ পন্থীদের মূল ঘোষণার যন্ত্র বলে.

একই সময়ে ম্যারাথনে যাঁরা অংশ নিয়েছিলেন, তাঁরা নিজেদের অভিজ্ঞতার বর্ণনা করে চলেছেন. রাশিয়ার ভাদিম বেলিয়াকভ এই দৌড়ের প্রথম ছয় হাজার অংশগ্রহণকারীদের মধ্যে থেকে দৌড় শেষ করতে পেরেছেন. এই বিস্ফোরণের সময়ে তিনি ছিলেন হোটেলের ঘরে. এখন পিছনের দিকে তাকিয়ে, তিনি বলছেন যে, সন্ত্রাসবাদী বা এই ধরনের একদল লোক জানত যে, কোথায় বোমা রাখা ঠিক হবে, আর মনে করেন যে, কোন রকমের গুরুত্বপূর্ণ নিরাপত্তার ব্যবস্থা এই ম্যারাথনের সময়ে আলাদা করে নেওয়া হয় নি, তিনি যোগ করে বলেছেন:

“আপনারা জানেন যে, ম্যারাথন অনেক লোকের দৌড়. যে কোন শহরেই এটা একটা বিরাট উত্সব. এখানে লোকে বাড়ীর লোকদের নিয়ে আসেন. এই বছরে বস্টনের ম্যারাথন দেখতে এসেছিলেন পাঁচ লক্ষ লোক. এত বিশাল মানুষের ভীড়ে, যা ৪২ কিলোমিটার জুড়ে ছড়ানো ছিল, তা স্রেফ খেয়ালে রাখাই সম্ভব নয়. তাই ষ্টেডিয়াম বা অন্যান্য জায়গার মতো অভ্যস্ত নিরাপত্তার আরও কঠোর কোন ব্যবস্থা এখানে স্রেফ অসম্ভব ছিল”.

বস্টনের রোজের জীবনধারায় এই অন্তর্ঘাত বড় কোন প্রভাব ফেলতে পারে নি. এই বিস্ফোরণের জায়গা থেকে অল্প দূরে পার্কে লোকে ঘাসে জনও বসে আছেন, কথাবার্তা বলছেন, হাঁসদের খেতে দিচ্ছেন আর এমনকি ভোর বেলা দৌড়চ্ছেনও. কিন্তু নিরাপত্তার ব্যবস্থা আগের মতই কঠোর. রাস্তায় সামরিক ও পুলিশ বাহিনীর লোকরা টহল দিচ্ছেন. তাঁরা বিমান বন্দরে, স্কুল, হোটেল ও আরও সব লোক জড়ো হওয়ার জায়গায় পাহারা দিচ্ছেন.এই ধরনের বিশেষ পাহারায় বস্টনকে ততদিন পর্যন্ত থাকতে হবে, যতক্ষণ না শেষ অবধি স্পষ্ট করে বোঝা যায় যে, নতুন অন্তর্ঘাতের আশঙ্কা আর নেই.